ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার

দিনাজপুরে সন্দেহভাজন খুনিকে পুড়িয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে | ১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার, ১০:১৯

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুরুজ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে খুনের জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারী রবিউল ইসলামকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ সময় রবিউলের বাড়িতেও আগুন দেয়া হয়। সুরুজ মিয়াকে হত্যার সময় শরিফ শহিদ (৪২) নামে একজন নৈশপ্রহরী এবং তার শিশু পুত্র একরামুল হক শামিমকে কুপিয়ে আহত করেছে রবিউল। নিহত সুরুজ মিয়া বীরগঞ্জ জগদল হাটপুকুর জেলগেট এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। আর বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার শিকার রবিউল ইসলাম একই এলাকার তারা মিয়ার ছেলে।
সুরুজ মিয়াকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় শালবাগান জেলখানা গেট নামক এলাকায়। আর হত্যাকারী রবিউলকে বিক্ষুব্ধ জনতা পুড়িয়ে হত্যা করেছে সকাল ৮টায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সকাল ৯টা পর্যন্ত দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন, বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিলা পারভীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ভোরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রথমে হামলার শিকার হন বীরগঞ্জের জগদল ডাঙ্গাপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা ভ্যান চালক সুরুজ মিয়া। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনার পর পরই একই এলাকার একটি মুরগি ফার্মের নৈশপ্রহরী শহিদ এবং ৩ বছর বয়সী শিশু পুত্র একরামুল হক শামিমকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা গাছ ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে অবরোধ করে রাখে। এর মধ্যে সকাল ৮ টার দিকে পলাতক (ঘাতক) রবিউল ইসলামকে কবিরাজহাট এলাকায় আটক করে ঘটনাস্থলে ধরে এনে পিটিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এলাকা নিরাপদ হয়েছে দাবি করে এ সময় অনেককে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকলকর্মীদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে রবিউলের পুড়ন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

অপরদিকে ঘাতক রবিউল ইসলামের বসতবাড়ী গুঁড়িয়ে দিয়েছে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে রক্ষা পিয়েছে তার পিতামাতাসহ স্বজনরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে সুরুজ মিয়ার ভাতিজা চা দোকানদার বসির উদ্দিনকেও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ছাড়াও আরো কয়েক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।


kazi

৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৮:৩৪

রবিউলের চরিত্রের বর্ণনা হায়েনার চরিত্রকেও হার মানিয়েছে।