× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার

দফায় দফায় বাড়ছে গরম মসলার দাম

বাংলারজমিন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ৮:২৯

ঘনিয়ে আসছে কোরবানি ঈদ। আর দফায় দফায় বাড়ছে গরম মসলার দাম। কোরবানিতে গরম মসলার চাহিদা এমনিতে বেশি। এ সুযোগে মোটা অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ মসলা ব্যবসায়ীরা এখন নানা কুট-কৌশলে ব্যস্ত। এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, কুটকৌশল নয়, সরকারি শুল্ক, পণ্য পরিবহন ও আমদানি খরচ বেশি। তাই অন্য সব পণ্যের মতো গরম মসলার দামও বাড়ছে। তবে পুরো বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদে দফায় দাফায় দাম বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব।
এ সময় আমদানি বেশি হওয়ায় খালাসে বন্দরের উপর চাপও বেশি পড়ে। ফলে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ সম্ভব হয় না-এমনটাই অভিমত ব্যবসায়ীদের। খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সমপাদক জামাল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমদানি-রপ্তানি কাজে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়লেও সেটি বর্তমান ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে মানানসই নয়। কারণ বন্দরের জেটির সংখ্যা আরো বেশি বাড়ানোর দরকার। তিনি আরও বলেন, কৃষিজাত পণ্যের আমদানির অনুমতিপত্রও (আইপি) নিতে হচ্ছে ঢাকা থেকে। এতে আমদানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে মসলার দাম বাড়তি রয়েছে। শুক্রবার সকালে দেখা যায়, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা দু‘হাতেই জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি ইত্যাদির বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি দোকানে মালবাহী বড় বড় ট্রাক, পিকআপ, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়িতে করে নতুন নতুন মসলা যুক্ত হচ্ছে। দেশের নানা জায়গা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতারাও মসলা কিনে নিতে ভিড় করছেন এসব দোকানে। এ সময় কথা হয় মসলা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শাপলা স্টোরের কর্ণধার সুবিমল দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা যাই হোক বছরের এ সময়টাতে এসে মসলার বাজার বেশ জমে উঠে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার মসলার দাম বাড়তি। চাক্তাইয়ের আরেক মসলা ব্যবসায়ী মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্স এর কর্ণধার মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, বিশ্ববাজারে বাড়তি দামের কারণে এবছর গরম মসলার বাজার কিছুটা চড়া। তবে আবহাওয়া গুমোট হওয়ায় সেই অর্থে বাজার এখনও চাঙা হয়ে উঠেনি। তার মতে, মসলার বাজার চাঙা হওয়ার সাথে রোদের একটা সমপর্ক আছে। কারণ মসলা রোদে শুকাতে না পারলে ক্রেতারা কিনতে আগ্রহী হয় না। মসলা আমদানিকারক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলাইমান বাদশাহ বলেন, এবছর গরম মসলার দাম বাড়তি। এর মধ্যে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইনের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মসলাভেদে কেজিতে ২০-২৫ টাকা দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে কিছু কিছু মসলার দাম বাড়তি হওয়ায় দেশেও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন গত ২-৪ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জিরার দাম টনপ্রতি ২৫০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮০০ ডলার হয়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমানে পাইকারী পর্যায়ে কেজি প্রতি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৫৫০ টাকায়। যা সপ্তাহ-খানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১৪০০ টাকায়। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিক্রয় হয়েছে ১৩০০ টাকায়। এভাবে তিনদফা বেড়ে এখন দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকায়। লবঙ্গ বিক্রী হচ্ছে ৯০০ টাকায়। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩২৫ টাকায়। মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বিরিয়ানি রান্নাতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত কাবার চিনির। এক মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি কাবাব চিনি ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। খুচরা বাজারে এসব মসলা বিক্রি হচ্ছে আরও চড়া দামে। এর মধ্যে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৮০ টাকা, গোল মরিচ ৭০০ টাকায়, লবঙ্গ ১২৮০ টাকা ও এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহে ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে এসব মসলার দাম বেড়েছে কেজিতে ৭০-৯০ টাকা পর্যন্ত। মসলা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে জিরা আমদানি করা হয় প্রধানত তুরস্ক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ভারত থেকে। বিশ্বের মোট জিরা উৎপাদনের ৭০ শতাংশই ভারতের দখলে। দারুচিনি আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং ভিয়েতনাম থেকে। লবঙ্গ আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার ও তানজানিয়া থেকে। বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশই ইন্দোনেশিয়ার দখলে। এলাচি আমদানি করা হয় গুয়াতেমালা, ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু থেকে। গুয়াতেমালা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলাচি উৎপাদক দেশ। বাংলাদেশে বেশিরভাগ এলাচি আসে তামিলনাড়ু থেকে। সেখানে এ বছর অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এলাচির ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দেশের বাজারে এলাচির দাম বাড়তি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর