ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার

পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রকারীরা ফের জোট বাঁধার চেষ্টা করছে: খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ৯:৪৭

আগামী নির্বাচনকে বানচালের জন্য যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভা অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা কিন্তু এখনো ষড়যন্ত্র করছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনা, জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনা- সব একই সূত্রে গাঁথা। এই খুনিরা কিন্তু এখনো আমাদের নেত্রীকে হত্যার জন্য তাড়া করে ফিরে। এখনো তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, ৭৫-এ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছিল। কোন কোন দেশ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, আমরা তা সবই জানি। আজও সেই দেশি এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী একসঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার চেষ্টা করছে। এখনো কিন্তু বিভিন্ন বিদায়ী নৈশভোজে তারা একত্রিত হচ্ছে এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। কাজেই আমাদের সবাইকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতা- যাদের সম্পৃক্ততা ছিল, কমিশন গঠন করে তাদেরও মুখোশ উন্মোচন করতে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত কুশীলবদেরও মুখোশ মামলার রায়ে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আওয়ামী লীগের যাদের সম্মতি ছিল, তাদের কথা নতুন প্রজন্ম জানতে চায়।
 তিনি বলেন, নেপথ্যে থেকে অনেকেই সেদিন খুনিদের সহযোগিতা করেছিলেন, অনেকেই মৌন সম্মতি ব্যক্ত করেছিলেন। এদেরও বিচার হওয়া উচিত। এদের চেহারা জনসমক্ষে উন্মোচিত হওয়া উচিত। এ সময় আলোচনা সভায় সামপ্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি (ড. কামাল) বলেছেন গুণ্ডাতন্ত্র। হ্যাঁ তিনি এ কথাটি সঠিক বলেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল-কলেজের ড্রেস পরিয়ে কারা বিএনপি-জামায়াতের গুণ্ডাদের নামিয়েছিলেন, কারা স্কুলের ব্যাগের মধ্যে চাপাতি এবং পাথর রেখেছিলেন, কারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হেনস্থা করেছেন তা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবই বেরিয়ে আসছে। তিনি হয়তো সেগুলোর কথাই বলেছেন। এটি অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। কারণ ড. কামাল হোসেনকে এতদিন একজন ভদ্র ব্যক্তি হিসেবেই আমরা জানতাম। কিন্তু এখন উনার ভাষার মধ্যে আর গুণ্ডাদের শারীরিক অ্যাকশনের ভাষার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না। ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কখনও বন্ধ করা যাবে না’ বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর সামপ্রতিক এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে গেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সমস্ত দাবি মেনে নেয়ায় তারা আনন্দ মিছিল করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে তাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা (গুণ্ডা) প্রবেশ করেছে। তারা এটাও বুঝতে পেরেছে এ ক্যাডারদের (গুণ্ডাদের) কারা নামিয়েছে। ‘সাইরেন বেজে গেছে’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, হ্যাঁ সাইরেন বেজেছে, তবে সেটা ১/১১কুশীলব এবং ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য। এই সাইরেন জনগণ দিয়েছে তাদেরকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা এবার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে তারা কিন্তু বসে নাই। রাত বিরাতে তারা বিভিন্ন জায়গায় বসছেন। সুতরাং ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউছুফ হোসেন হুমায়ুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দারসহ প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।