ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সরকার বিএনপি ফোবিয়ায় আক্রান্ত -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ৯:৪৭

আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপি আতঙ্ক রোগ আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপি ভীতি আছে। বিএনপি ফোবিয়া আছে। একটা বিশেষ প্রাণীর পানি দেখলে জলাতঙ্ক রোগ হয়। আর উনাদের হয় বিএনপি আতঙ্ক রোগ। সারাদিন রাত যা কিছু দেখে তাতে বিএনপিকে দেখতে পায়। রাতে ঘুমাতে পারে না মনে হয়। তা না হলে এই ধরনের কথাবার্তা কি জন্যে বলে তা তো আমার মাথায় আসে না। কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না ধানমন্ডিতে বিএনপি-জামায়াতের লোক গিয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। বরং সরকারের সিদ্ধান্তেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। মির্জা আলমগীর বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি বিএনপি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। এই আন্দোলনের প্রতি সারা দেশের মানুষের নৈতিক সমর্থন ছিল। সেই আন্দোলন যে পদ্ধতিতে সরকার দমন করেছে, সেটা সার্বজনীনভাবে ধিকৃত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নিরীহ ছাত্রদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আরো গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথমদিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উস্কানি আবিষ্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার একই কাজ করেছে এবং এই সুযোগে বিরোধী দলের ও মতের নেতা-কর্মী ও আন্দোলনে সক্রিয়দের বিরুদ্ধে হায়েনার মতো আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের আক্রমণে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা গুম হয়েছে, আহত হয়েছে, মিথ্যা মামলায় হয়রানি হয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটূক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে পেশী শক্তি দিয়ে দমন করার অপকৌশল হিসেবে বিএনপিসহ আন্দোলনকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এমনকি সচেতন ব্যক্তিবর্গ যেমন- শহিদুল আলম, বিশিষ্ট আলোকচিত্র শিল্পী ও সাংবাদিক টার্গেট করে ফ্যাসিষ্ট কায়দায় নিপীড়ন চালিয়েছে। তারা বিএনপি’র মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সারা দেশে বিএনপি ও বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তার করে নিপীড়ন করেছে বহু নেতাকর্মীকে। নিরীহ অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী ছিল এটা আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলার পরেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়। পত্রিকায় আক্রমণকারীদের অনেকেরই ছবি ছাপা হয়েছে, কোনো কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা এবং সোস্যাল মিডিয়ায় আক্রমণকারীদের ছবির ছড়াছড়ি থাকার পরেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেব কেন ছবি ও নাম চান? কেন তথ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাতে হয়। কি বিচিত্র এই দেশ। আর বিচিত্র বলেই তারা অপরাধ করে তার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে আমাদের উপর। মির্জা আলমগীর বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে তা ইতিমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সংশোধিত এই আইনে ছাত্রছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গত ক’দিনের আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য, আন্দোলনকে গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সরকারি চক্রান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার জন্য এবং আন্দোলনের প্রকৃত সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, আহতদের সুচিকিৎসা এবং মিথ্যা ও নিপীড়নমূলক সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।