ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার

সেলফিতে বিপদ

মরিয়ম চম্পা | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ১০:১৪

ঢাকার রাস্তায় হাঁটার সময় একটু নজর দিলেই পরিবর্তনটা ধরা পড়ে। একটা সময় ছিল সারি সারি স্টুডিও। স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলার রীতি ছিল রমরমা। কিন্তু সেই দিন আর নেই। স্টুডিও’র সংখ্যা কমে গেছে একেবারেই। টিকে থাকা স্বল্পসংখ্যক স্টুডিওকে রীতিমতো  লড়াই করতে হচ্ছে। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? গত কয়েক বছরে পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে মোবাইল। মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইল। সেটা দিয়েই লোকে ছবি তুলছে। স্টুডিওতে যাওয়ার চল যে কারণে অনেকটাই উঠে গেছে।

প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে লাখো কোটি ক্লিক হচ্ছে প্রতিদিন। বিচিত্র সব ভঙি। মানুষ ছবি তুলে দিয়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে ‘সেলফি’। বর্তমানে সব ধরনের স্মার্টফোনের রয়েছে ফ্রন্ট ক্যামেরা। যেটা দিয়ে যে কেউ চাইলেই অনায়াসে নিজেই নিজের ছবি তুলতে পারেন। কেউ কেউ আবার সেলফি স্ট্যান্ডও ব্যবহার করে থাকেন। ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি এ সেলফি ডেকে আনছে নানা বিপদও। বহু ক্ষেত্রেই মানুষ আসক্ত হয়ে যাচ্ছে সেলফিতে। কারণে-অকারণে সারাক্ষণই তোলা হচ্ছে সেলফি। যেন অনেকটা সেই বিজ্ঞাপনের মতো। মোবাইলে অফিসের বসকে প্রয়োজনীয় ছবি পাঠিয়ে দেয়া হলো। কিন্তু লিফট থেকে বের হয়েই মেয়েটি বিচিত্র ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে গেলেন সেলফি তুলতে। অনেককে সমাজ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এই সেলফি রোগ। তার চেয়েও বড় আরেকটি বিষয় ইদানীং আলোচনায়। সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুও ডেকে আনছেন অনেকে। এই সেলফির কারণে ঘটে চলেছে একের পর এক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি সেলফি তুলতে গিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবে প্রাণ হারান নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও বিবিত্র বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সাত শিক্ষার্থী মেঘনা নদীতে ঘুরতে যান। তারা সারাদিন রেলসেতু ও আশপাশ এলাকায় ঘুরে বিকালে আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর এলাকায় যান। সেখানে নদীর পাড়ে সেলফি তুলেন তারা। সেলফি তোলার একপর্যায়ে তানজিবা পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারে পানিতে নেমে ডুবে যায় অপর ছয় শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তানজিবা ও মেহরাব পানিতে ডুবে মারা যায়।

গত বছর বরগুনার তালতলী উপজেলার ট্যাংড়াগিরি ইকোপার্কে কুমির প্রজনন কেন্দ্রে কুমিরের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে এক দর্শনার্থী নিহত হয়। নিহত দর্শনার্থীর নাম আসাদুজ্জামান রনি (২৯)। তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক মো. গোলাম মোস্তফার একমাত্র ছেলে। ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে রনি তালতলীর ট্যাংড়াগিরি ইকোপার্কের কুমির প্রজননকেন্দ্রে কুমির দেখতে যান। তিনি বিপদসীমার প্রাচীর টপকে একটি কুমিরের কাছাকাছি গিয়ে সেলফি তুলছিলেন। হঠাৎ একটি কুমির তাঁকে আক্রমণ করে। কুমিরটি তাঁকে টেনে পুকুরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বনকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যান। ততক্ষণে কুমিরটি দর্শনার্থী রনির মৃতদেহ ছেড়ে দিলে তা পুকুরে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় অধিবাসীসহ তালতলী থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাতির সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা গেছেন ভারতীয় নাগরিক অশোক। ভারতের ওড়িশার সুন্দরগড় জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। অশোক নামে মৃত ওই ব্যক্তি ভারতের কটকের বাসিন্দা হলেও, কর্মসূত্রে সুন্দরগড়ে থাকতেন। ওইদিন রাউরকেল্লার মান্দিয়াকুদার এলাকায় দাঁতাল হাতিটি চলে আসে। লোকালয় থেকে সেটিকে দূরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন বন দপ্তরের কর্মী এবং গ্রামবাসী। তখনই ওই ব্যক্তি হাতিটির সঙ্গে সেলফি তুলতে যান, আর দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। বন দপ্তরের কর্মীরা আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গায় নাগরদোলায় চড়ে মুঠোফোনে সেলফি তুলতে গিয়ে মাটিতে পড়ে ইসতিয়াক আহমেদ ওরফে রিদু (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহত ইসতিয়াক চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টপাড়ার বাসিন্দা সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ইমতিয়াজ আহমেদের ছেলে। সে চুয়াডাঙ্গার ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসতিয়াক তার চাচাতো ও ফুপাতো পাঁচ বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির কাছে পুলিশ পার্কে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ইসতিয়াক বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে নাগরদোলায় চড়ে। নাগরদোলা ওপরে উঠলে ইসতিয়াক মুঠোফোনে ছবি তুলতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর জখম হয়। পুলিশ ও পার্কে উপস্থিত লোকজন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে চলতি বছরের ১৭ই জুলাই স্পেনের বার্সেলোনায় সেন্ট আদ্রিয়া স্টেশনে বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে সেলফি তুলতে গিয়ে মেট্রোরেলের ধাক্কায় মাহফুজ (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ওই স্টেশনের ২নং মেট্রোলাইনে বার্সেলোনার সান্ত অ্যান্তনিও থেকে বার্সেলোনা পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেলের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বার্সেলোনা শহরের উপকণ্ঠে ১ নম্বর মেট্রো লাইনের প্ল্যাটফরম থেকে পড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হন মাহফুজ। গত ১৮ই জুন সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান বাবাসহ দুই মেয়ে। নিহতরা হলেন- হাফিজ মিয়া (৪০), তাঁর দুই মেয়ে তারিন (১৩) ও তুলি (২)। নরসিংদী সদর উপজেলায় পুরানপাড়া রেলসেতুর কাছে সেলফি তোলার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে তারা মারা গেছেন। নরসিংদী সদর উপজেলায় পুরানপাড়া রেলসেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুরানপাড়া রেলসেতুর কাছে পৌঁছালে মো. হাফিজ মিয়া তাঁর মেয়েদের নিয়ে ট্রেনসহ সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত কিছুর পরেও সেলফি তোলাটা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছবি প্রকাশের প্রবণতার কারণে পুরো দুনিয়ার মানুষ সেলফি আসক্ত বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন ‘মি, মাইসেলফ অ্যান্ড কিলফি: ক্যারেক্টারাইজিং অ্যান্ড প্রিভেনটিং সেলফি ডেথস’ শীর্ষক একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারাবিশ্বে ১২৭ জন মানুষ প্রাণ হারান। তাদের ৭৬ জনই ভারতের। অন্যান্য দেশের মতো সেলফিতেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশিরাও। টাইম ম্যাগাজিনের একটি পরিসংখ্যান মতে, সেলফি তোলার পরিমাণের বিবেচনায় ঢাকা বিশ্বের ৪৫৯টি শহরের মধ্যে ৪৩৪ তম স্থান দখল করেছে। ঢাকার প্রতি ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারী গড়ে ১.৫টি সেলফি আপলোড করেন। তবে, এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার তুলনায় পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি, ভারতের কলকাতা ও চেন্নাইয়ের মতো শহরের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সেলফি তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন। সেলফি তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে লাহোরের অবস্থান ৪৩০, করাচির অবস্থান ৪৩১, কলকাতার অবস্থান ৪২১। শুধু তাই নয়, ভারতে সেলফিতে প্রাণহানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মুম্বই পুলিশ ১৫টি স্থানকে নিষিদ্ধ এবং শহরে ‘সেলফি ফ্রি পয়েন্ট’ স্থানের নাম প্রকাশ করেছে। মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে টুইটারেও সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে থাকে মুম্বই পুলিশ। তারা বলছেন, সেলফি তুলতে গিয়ে নিজের জীবনটা বিসর্জন দেবেন না।

স্যামসাংয়ের একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের তোলা ছবির ৩০ শতাংশই সেলফি। স্মার্টফোনের কল্যাণে এবং বিশেষত ফেসবুকের কারণে এর জনপ্রিয়তা সমগ্র বিশ্বেই এখন তুঙ্গে। অক্সফোর্ড অভিধানে ‘সেলফি’ অর্থ হলো এমন, একটি ছবি যা নিজেরই তোলা নিজের প্রতিকৃতি। সাধারণত স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামে ধারণ করা এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা।

এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, আমাদের কোন ছাদের কোনে, চলন্ত ট্রেনের সামনে, কুমিরের মুখে, হাতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা কি সস্তা বীরত্ব দেখাতে চাচ্ছি। এখন প্রত্যেকের হাতে একটি করে ক্যামেরা আছে। তাই আমি কাত হয়ে, চিত হয়ে যেভাবে খুশি ছবি তুলতে পারি। পরে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দিচ্ছি। এরপর লাইক-কমেন্ট কম হলেই ভাবতে শুরু করি আমি এতবড় একটা বীরত্বের কাজ করলাম সেটা কেউ মানলোই না। ইগনোর করেছে। ঠিক তখনই নানা অঘটন ঘটায়। এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। যেটাকে বলা হয় সেলফি সিন্ড্রম। এক্ষেত্রে টিনেজাররাই বেশি সেলফি তোলে। এবং দুর্ঘটনা ঘটায়। কাজেই তাদের মধ্যে যদি সেল্ফ অ্যাওয়ারনেস না আসে তাহলে সেটা অন্য কেউ তৈরি করতে পারবে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা যে কোনো অবস্থায় বা পরিস্থিতিতে নিজেকে তুলে ধরতে পারি। এটা দোষের কিছু না। কিন্তু নিজের প্রতি ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে গিয়ে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করাটা নিশ্চয়ই ইতিবাচক নয়। আমাদের মধ্যে জন্মগতভাবে নিজেকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি নিজের পারিপার্শ্বিকতা তুলে ধরার একটা প্রবণতা আছে। যে ব্যাকগ্রাউন্ড বা অবস্থানই হোক না কেন আমাকে তুলে ধরাই হচ্ছে অন্যতম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি হচ্ছে স্বীকৃতি। অর্থাৎ কোনো ছবিতে কতো বেশি লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার পড়বে এটা হচ্ছে স্বীকৃতি। যখন নিজেকে এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে থাকবো তখন বাকি দিকগুলোর গুরুত্ব আমার কাছে কমে যাবে। কাজেই সেলফি তোলার ক্ষেত্রে আমরা চারপাশটা এমনভাবে তুলে ধরতে চাই যেন সবার কাছে স্বীকৃতিটা বেশি পাই। তখন অধিকাংশ সময় দুর্ঘটনার বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকে না। ফলে নানামুখী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নার্সিজমের মতো নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে অবচেতন মনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। তখন আত্মপ্রেম এতটাই বেড়ে যায় যে নিজের সত্তাকে সেটিসফাই করার জন্য যা মনে আসবে তাই করবো। যার জন্য সমাজ ও সভ্যতা সংকটে পরতে পারে। এর ফলে আমরা বন্ধু, সমাজ ও স্বজনদের মাঝে থেকেও একা হয়ে যাচ্ছি। অন্যের প্রতি আবেগ ইমোশন হারিয়ে ফেলছি। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অপরাধ বিজ্ঞানি তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশে কমুনিকেশন রিলেট যে প্রযুক্তি এসেছে তা গ্রহণ করার জন্য মানুষকে সচেতন করার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই আমরা এটাকে ব্যবহার করছি। আর এই প্রযুক্তি যখন তরুণ প্রজন্মের কাছে চলে এসেছে এবং তারা এটি ব্যবহার করছে তখনই দেখা দিচ্ছে নানা প্রকার বিপত্তি। কারণ কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এবং অধিকার ও অবাধ স্বাধীনতার ভিত্তিতে এটা তারা ব্যবহার করছে।

সমাজবিজ্ঞানি নেহাল করিম বলেন, আমরা এখন বিজ্ঞান প্রযুক্তির শীর্ষে অবস্থান করছি। তাই সবকিছু এখন হাতের মুঠোয় চলে আসছে। তবে প্রকৃত অর্থে আমরা এটার ব্যবহারটা পুরোপুরি রপ্ত করতে পারিনি। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একটি কথা আছে, ‘কালচারাল ল্যাক বা সাংস্কৃতিক মন্থরতা। বস্তুগত সংস্কৃতি যত দ্রুত এগিয়ে চলছে অবস্তুগত সংস্কৃতি ততটা দ্রুত এগোয় না বলেই এই দুইয়ের মধ্যে যে গ্যাপ তৈরি হয় সেটাকে সাংস্কৃতিক মন্থরতা বলে। এখন আমরা যা কিছু পাচ্ছি ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। কিন্তু যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। আর পারছি না বলেই আমরা কৌতূহলবসত সেলফি তুলছি। কিন্তু এর ফলাফল আমরা একবারও ভেবে দেখিনা। যার ফলে নানান রকম দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলো হচ্ছে ‘ল্যাক অব সেন্স’ বা বোধের অভাব। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকার ও গণমাধ্যম কিছু টিকা দিয়ে বা জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাতে পারে। যত্রতত্র সেলফি তোলা উচিত না এটা সবাইকে বোঝাতে হবে। যাত্রাপথে, ট্রেনে, বাসে, ব্রিজের ওপর, ছাদের কোণে অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেলফি তোলা যাবে না। দেখা যায় চলন্ত বাসে সেলফি তোলার সময় পাশের অপর বাসের চাপায় হাত কিংবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চলে যেতে পারে। এমনকি প্রাণনাশ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই আমাদের ব্যক্তি সচেতনতা বাড়াতে হবে যেন যত্রতত্র সেলফি না তুলি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।