× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

আউশ চাষ আশা জাগালো চিলমারীর কৃষকদের

দেশ বিদেশ

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ১০:২৭

যে সময়টি বন্যায় তলিয়ে থাকে চিলমারী। নষ্ট করে দেয় ফসলি জমি। আশা কেড়ে নেয় কৃষকের। আর সেই সময়টা যেন কৃষক জমিতে ফসলও ফলিয়ে আশার আলোও দেখতে পারে সেই প্রযুক্তি, পরামর্শ আর আউশ ধান চাষে কৃষি বিভাগ দেখালো ধান চাষের বাজিমাত। ফুটিয়ে তুললো কৃষকের মুখে হাসির রেখা।  চিলমারী উপজেলায় এ বছর সর্বপ্রথম উচ্চ ফলনশীল (উফশী) আউশ ধানের চাষাবাদ হয়েছে। আশাতীত ফলন হওয়ায় কৃষকরাও অত্যন্ত খুশি। উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের চাষাবাদ হওয়ায় উপজেলা তিন ফসলি জমির আওতাভুক্ত হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর এই সময় বন্যা এই অঞ্চলের কৃষকের ফসলে হানা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বপ্নও ভেসে নেয়।
ফলে প্রতিবছর এই মৌসুমে কৃষকদের দুঃখ কষ্টে জীবন ভরে উঠে। কৃষকদের এই দুঃখ কষ্ট দূর করাসহ এই মৌসুমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছে কৃষি বিভাগ। আর কৃষি বিভাগের সহায়তায় আউশ ধান চাষ করেই আশার আলো দেখছে চিলমারীর কৃষক। এ বছর খরিপ-১ মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) আউশ ধান চাষে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এবারই পরীক্ষামূলক চিলমারী উপজেলায় আউশের চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার রমনা, থানাহাট ও রানীগঞ্জ এই তিনটি ইউনিয়নে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে রাজি করিয়ে প্রায় ২৭০ জন কৃষকের ১৩০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ১শ’ কৃষককে বীজ ধান, সার ও টাকা দিয়ে সহায়তা করা হয়। প্রথম বারের মতো আউশ চাষাবাদ করে কৃষক আশঙ্কায় ভুগলেও আশাতীত ফলন হওয়ায় কৃষক অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

ধানের ফলন ও উৎপাদন দেখে কৃষকদের রীতিমত সাড়া জেগেছে বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে যারা চাষাবাদ করেননি তারা দুঃখ প্রকাশ করছেন। বেলেরভিটা এলাকার কৃষাণী রেজিয়া বেওয়া মুখে হাসি নিয়েই বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এই প্রথম আউশ ধান আবাদ করে লাভের মুখ দেখছি। এ ছাড়াও একই জমিতে তিন বার আবাদও করতে পামো। রমনা এলাকার আ. জলিল, সাজেদুলসহ বেশ কিছু কৃষক বলেন আমরা যুগ যুগ ধরে জমিতে আমন ও বোরো চাষাবাদ করতাম। উপজেলা কৃষি অফিসার ও ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমাদের বুঝিয়ে উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের চাষাবাদ করিয়েছেন। এতে আমরা আশাতীত উপকৃত হয়েছি। এখন আমরা আউশ কেটে আবার রোপা আমন চাষাবাদ করছি। আমাদের জমি দুই ফসলি থেকে তিন ফসলি হয়ে গেছে। থানাহাট ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে আউশ চাষিদের মুখে এখন সুখের হাসি। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কবিরুল ইসলাম বলেন অনেক চেষ্টা করে কৃষকদের রাজি করিয়ে কতিপয় কৃষকদের দিয়ে আউশ ধান চাষ করা হয়। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় অন্যান্য কৃষকরাও এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে। আশা করছি আগামীতে পুরো এলাকায় এই ধানের চাষ হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার খালেদুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলের কৃষক এই সময় বন্যা আর দুর্যোগের শিকার হন। ফসল হারিয়ে হন নিঃস্ব। তাই সরকার ও কৃষি বিভাগের চেষ্টায় কৃষকদের দুঃখ কষ্ট দূর করার লক্ষে আউশ চাষে লাভবান করাসহ তিন ফসলি জমি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর