× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
নাগরিক হিসেবে মতামত দেয়া সাংবিধানিক অধিকার: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

শহিদুলের জামিন হয়নি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার, ১০:১৪

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করেন। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন মহানগর দায়রা আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু। গতকাল আদেশ শেষে শহিদুল আলমের আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘মহানগর দায়রা আদালত জামিন নাকচ করেছেন। আমরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করবো।’ আদালতে শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ও তাঁর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।  

শুনানিতে শহিদুল আলমের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও সৃজিত। এজাহারে বর্ণিত যে লিঙ্কের কথা বলা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে শহিদুল আলমের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, ‘জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে আদালতকে আশ্বস্ত হতে হবে যে, জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি জামিনের অপব্যবহার করবেন কি-না, তিনি মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করবেন কি-না। শহিদুল আলম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। নোবেল বিজয়ীসহ বিশ্বের নামকরা ব্যক্তিরা তাঁর পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। যদি তিনি জামিন পান তাহলে তিনি এর অপব্যবহার করবেন না।’

শুনানিতে আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য বিশ্বের অনেক নামকরা ও গুণী মানুষ বিবৃতি দিয়েছেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকও রয়েছেন। শহিদুল আলম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী। এমন সব ছবি তিনি তুলেছেন যাতে করে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দৃক গ্যালারি আছে। পাঠশালা আছে। এই দেশে তার ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু রয়েছে। জামিন পেলে তাঁর বাইরে চলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁকে জামিন দিলে তিনি এর অপব্যবহার করবেন না।’ তিনি বলেন, শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করার পর এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি আইন ও ফৌজদারি আইনের বিধান অনুসরণ করা হয়নি। তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহলে পুলিশ কোন ক্ষমতা বলে মামলা করার আগের দিন তাঁকে গ্রেপ্তার করলো? সারা হোসেন বলেন, ‘বিনা কারণে তিনি কারাগারে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। জামিন পেলে মামলার তদন্তে বা অন্য কিছুতে এর প্রভাব পাড়বে না, কারণ সকল আলামত ও এভিডেন্স তো পুলিশের কাছে রয়েছে।’ এই মামলার এজাহারের সঙ্গে জব্দ তালিকার বিবরণের মিল নেই বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন সারা হোসেন।

শহিদুল আলমের অন্য আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘কিভাবে তিনি অপরাধ করলেন সেটির কোনো বর্ণনা এফআইআর-এ নেই। তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি কিভাবে নষ্ট হয়েছে, সেটিও উল্লেখ নেই। উনি কাউকে রাস্তায় নামার কথা বলেননি। উনি তাঁর মতামত দিয়েছেন মাত্র। একজন নাগরিক হিসেবে মতামত দেয়া তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘ভিডিও লাইভের মাধ্যমে কিভাবে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালেন সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ নন। একজন নামকরা আলোকচিত্রী।’

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘উস্কানি দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান করেছেন তিনি। এটি তিনি কেন করবেন? নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সরকারকে উৎখাত করার জন্য শহিদুল আলম এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আসামিপক্ষ বলছে শহিদুল আলম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তাঁর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু এটি আমাদের দেশের নিজস্ব ব্যাপার। বিশ্বের ব্যাপার নয়। তাঁর জামিন হবে কি, হবে না সেটি একান্তই আদালতের ব্যাপার। আইন সবার জন্য সমান।’ শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় মিথ্যা,  উস্কানিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ই আগস্ট শহিদুল আলমকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ৬ই আগস্ট তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। গত ১২ই আগস্ট ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর জামিন না-মঞ্জুর হওয়ার পর ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিনের আবেদন করা হলে শুনানির জন্য ১১ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। পরে মহানগর দায়রা আদালতে ২৬শে আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. ইমরুল কায়েস এক আদেশে নির্ধারিত তারিখেই (১১ই সেপ্টেম্বর) জামিন শুনানি হবে বলে শহিদুল আলমের আইনজীবীদের জানিয়ে দেন। এরপর শহিদুল আলমের জামিনের জন্য গত ২৮শে আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর শহিদুল আলমের জামিন শুনানি শুনতে বিব্রতবোধ করেন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি। এরপর প্রধান বিচারপতি অন্য আরেকটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। পরে সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে মঙ্গলবারের মধ্যেই শহিদুল আলমের জামিনের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মহানগর দায়রা আদালতে শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর