× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
রিমান্ডে মুখ খুলেছে সাদ্দাম

রকিবের নির্দেশ না মানায় খুন হয় রাজু

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:১৬

খুন হওয়ার আগে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল ছাত্রদল নেতা রাজু। আর এ বিষয়টি সহ্য করতে পারছিল না আব্দুর রকিব। এ কারণে আগেও কয়েক বার রকিব রাজুকে শাসায়। আরিফের কাছ থেকে দূরে থাকারও নির্দেশ দেয়। কিন্তু রকিবের কথায় পাত্তা দেননি রাজু। নিজের এলাকার লোক হওয়ায় আরিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রকিবের নেতৃত্বে খুন করা হয় রাজুকে। সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে রিমান্ডে থাকা মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে। খুনের ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তাদের নামও বলেছে সাদ্দাম।

আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার সিনিয়র এসআই ফায়াজউদ্দিন গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- গ্রুপ লিডার আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে রাজুকে খুন করা হয়েছে। ‘শায়েস্তা’ করতে ঘটনার দিন তার উপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন- কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আগে থেকেই রকিবের সঙ্গে রাজুর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধ মেয়র আরিফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা পর্যন্ত এসে পৌঁছায়। এসব কারণেই রাজুকে খুন করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয় বলে জানান এসআই ফায়াজউদ্দিন।

এদিকে- গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দাম দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছে। সাদ্দাম বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। এবং খুনের ঘটনা স্বীকারও করেছে। তাকে স্বীকারোক্তি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হতে পারে। গত ১১ই আগস্ট সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থগিত দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। এদিন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। আর এ ঘোষণার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে অনুসারীরা বিজয় মিছিল করেন। মিছিলের পরপরই আরিফের বাসার গলির মুখে দোকানের সামনে প্রথমে গুলি এবং পরে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুকে। রাজুর মৃত্যুর পর খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে সিলেট ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা আন্দোলনে রয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত সাদ্দামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রথমে খুনের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকা আলফু ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুজনকে ৪ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাদের গ্রেপ্তারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়- খুনের ঘটনার সময় কারা কারা সেখানে ছিল এসব বিষয়ে ইতিমধ্যে সাদ্দাম মুখ খুলেছে। আব্দুর রকিব চৌধুরী, দিলোয়ার হোসেন দিনার ওরফে হাজী দিনার, এনামুল হক, একরামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ নয়ন, সলিড, ফরহাদ, মুহিবুর রহমান খান রাসেল, রাসেল ওরফে কালা রাসেল, আরাফাত, মোফাজ্জল চৌধুরী মুর্শেদ, আলফু মিয়া, শাহীন, সুফিয়ান, জুনিয়র নজরুল, তোহা, আফজল, সাহেদ, রুবেল মিয়া, মামুন ও জুমেল এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল। আসামিরা সবাই ছাত্রদলের রকিব গ্রুপের সদস্য। তাদের বাস উপশহর এলাকায়। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন- রাজু খুনের মামলার মূল হোতারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তারা প্রায় সময় নগরীতে প্রকাশ্য ঘুরাফেরা করে। এতে করে রাজুর স্বজনরা নিরাপত্তাহীন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান- আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে। তবে- রাজু খুনের প্রধান আসামি আব্দুর রকিব গত ঈদ মৌসুমে সিলেট থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গেছে বলে দাবি করেছে রাজুর সহপাঠীরা। ঘটনার পর সে সিলেটে আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে নিরাপদে পালিয়ে যায়। এজন্য তারা পুলিশের গাফলতিকে দায়ী করেন। এদিকে- হত্যাকাণ্ডের সময় রাজুকে রক্ষায় এগিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলের অবস্থাও ভালো নয়। চোখের সামনে রাজু খুনের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গুলিতে উজ্জ্বলের পিঠ ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। শতাধিক স্প্লিন্টার রয়েছে পিঠে। মাথায় রয়েছে একাধিক আঘাত। রাজু খুনের ঘটনা মনে হলেই তিনি শিউরে ওঠেন।

এমন নির্মমভাবে কেউ কাউকে খুন করতে পারে সেটি তিনি আজো বিশ্বাস করতে পারেননি। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের ফজর আলীর পুত্র ফয়জুল হক রাজু। পিতার ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের মধ্যে রাজু ছিল সবার বড়। ফজর আলীর সন্তানদের মধ্যে রাজু সিলেটে পড়ালেখার পাশাপাশি বড় সন্তান হিসেবে পরিবারের দেখাশুনাও করতেন। একমাত্র মেয়ে জার্মানে। নিহত রাজুর চাচা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন- আমরা এখন বিচার চাই। খুনিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দেয়া হোক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর