× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

কারা আদালতে অনুপস্থিত খালেদা, ফের শুনানি আজ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:২৪

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের শুনানি গতকালও হয়নি। পরিত্যক্ত কারাগারের আদালতে এই মামলায় হাজিরা দিতে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়া। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় খালেদা জিয়া আদালতে আসতে অনিচ্ছুক। গতকাল তার পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন জানালে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ছাড়া এই মামলার বিচারকাজ চলতে পারে কি না, সে বিষয়ে তাঁর আইনজীবীদের ব্যাখ্যা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ আবারো শুনানি হবে। এর আগে গত ৫ই সেপ্টেম্বর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের আদালতে এসে খালেদা জিয়া জানান, তিনি অসুস্থ। বাঁ পা ও বাঁ হাত নাড়াতে পারেন না।
প্যারালাইজডের মতো হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বার বার আদালতে আসতে পারবেন না।

ওইদিন এক আদেশে এই মামলার অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও আমিনুল ইসলাম ছাড়া আর কোনো আইনজীবী ছিলেন না। মামলার অন্য আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ পরিচালনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গতকাল সেখানে দ্বিতীয় দিনের মতো আদালতের কার্যক্রম চলে। দুপুর ১২টার কিছু পরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। পাশাপাশি আরেকটি আবেদনে পরিত্যক্ত কারাগারে আদালত স্থাপন সংবিধান পরিপন্থি ও আইনবিরোধী বলে উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিতকরণ এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠনের বিষয়টি আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে এই বলে অবহিত করেন যে, খালেদা জিয়া আদালতে আসতে অনিচ্ছুক। এমন অবস্থায় বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আর্জি জানান তিনি।

শুনানিতে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘গত তারিখে (৫ই সেপ্টেম্বর) বেগম খালেদা জিয়া এই আদালতে এসেছিলেন এবং আদালতের পরিবেশ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর অবস্থা প্যারালাইজডের মতো হয়ে গেছে। আমরা ওইদিন আদালতে আসিনি। তিনি কী বলেছেন তা গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি।’ আদালতের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আইনি পেশার জীবনে এমন আদালত দেখিনি। এই আদালত ১৫ ফুট বাই ২০ ফুটের বেশি হবে না। এখানে আদালত স্থাপন সংবিধান পরিপন্থি কি না, এখানে বিচার কার্যক্রম চলতে পারে কি না সে বিষয়টি আমি পিটিশনে উল্লেখ করেছি।’ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই কারাাগরের ভেতরে আদালত স্থাপন করা যায় কি না-সে প্রশ্ন রাখেন সানাউল্লাহ মিয়া।

এই মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই আদালত একটি গুহার মতো। এখানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের কোনো উপায় নেই। আইনজীবী, সাংবাদিকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। এখানে যে কারো যে কোনো সময় ‘সাফোকেশন’ হতে পারে। সংবিধান ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিচারকাজের কথা বলা আছে। কিন্তু এই আদালতকে উন্মুক্ত আদালত বলার কোনো অবকাশ নেই। এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার স্বজনদের এখানে এসে শুনানি শোনার ও আদালতের কার্যক্রম দেখার কোনো সুযোগ নেই।’ এ সময় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশসানিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে বিচারকাজ পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ এক মাস স্থগিতের আবেদন জানান এই আইনজীবী।

আদালতের বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের যে গেজেটের মাধ্যমে এই আদালত স্থাপন করা হয়েছে সেই গেজেটে আপনার নাম পর্যন্ত নেই। বিচারক হিসেবে আপনাকে যেভাবে আদালতে প্রবেশ করতে হয়েছে এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। এই আদালত গঠন আদালত অবমাননার শামিল।’ শুনানিতে তিনি বলেন, বেআইনিভাবে গঠিত এই আদালত এবং বিচারিক কার্যক্রম স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি আবেদন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনসম্মত আদালত স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার বিচারকাজ এক মাস স্থগিতের আবেদন জানাচ্ছি।’

এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আইন মেনেই এই আদালত গঠন করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে খালেদা জিয়ার সুবিধার জন্য। এর আগের ওই আদালতে তিনি শুনানিতে আসেননি। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারটিও রয়েছে। তাকে তো আমরা জোর করে আদালতে আনতে পারি না। তাই তার সুবিধার জন্যই এই আদালত স্থাপন করা হয়েছে।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন একদিকে তারা বলছেন, এই আদালত উন্মুক্ত আদালত নয়, সংবিধান ও আইনের পরিপন্থি। অন্যদিকে এই আদালতেই তাঁরা জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন করছেন। আদালতের পরিবেশ নিয়ে যে বক্তব্য তাঁরা দিচ্ছেন তা তাদের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও আমার কাছে তা আষাঢ়ে গল্প বলে মনে হচ্ছে। আপনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) বলতে পারেন এখানে এসি নেই, চেয়ারের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু যা বলছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রবেশে পর থেকেই সমস্যা বোধ করছি। আপনিও (দুদকের আইনজীবী) হয় তো করছেন। এরপরও কি বলতে হবে যে, এখানে আদালত চলতে পারে?
একপর্যায়ে আদালতের বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, যদি তিনি (খালেদা জিয়া) আসতে অনিচ্ছুক থাকেন আর যদি না আসেন সেক্ষেত্রে বেইল পিটিশন দেয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। চারজন সিনিয়র আইনজীবী কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর জন্য মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।

কাস্টডি ওয়ারেন্টের বিষয়টি উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, এখানে বলা হয়েছে তিনি (খালেদা জিয়া) আসতে পারবেন না। এখন তিনি যদি না আসেন সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কি হবে? আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনা করা যায় কি না?

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে (খালেদা জিয়া) অনুরোধ করেছেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে আসছেন না। এখন ইচ্ছাকৃতভাবে যদি না আসেন তাহলে তো বিচারকাজ থেমে থাকতে পারে না। তিনি যাতে মামলার বিচারকাজে অংশ নিতে পারেন সেই স্বার্থেই এই গেজেট ও আদালত। এখন যদি না আসেন তাহলে উনার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ পরিচালনা করা হোক। দুদকের আইনজীবী খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, উনি কি অসুস্থ। ওইদিনও (৫ই সেপ্টেম্বর) তো তিনি আদালতে এসেছেন, কথা বলেছেন। কিন্তু আপনারা তো আসলেন না।
আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা আসিনি কিন্তু ঢাকা বারের সভাপতি (এডভোকেট গোলাম মোস্তফা) ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, তিনি খুবই অসুস্থ।

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন আসতে পারবেন না। এখন তাঁর পদমর্যাদা, অবস্থান বিবেচনা করে তাঁকে তো জোর করে আদালতে আনতে পারি না।
আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে বৃহস্পতিবার (আজ) পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ান আদালত। একই সঙ্গে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনা যায় কি না সে বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানিকে ঘিরে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশের এলাকা গতকাল সকাল থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। এ সময় ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী। কারাগারের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড বসানো হয়। এছাড়াও আশপাশের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। আইন-শঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও ছিলেন তৎপর। আশপাশের বিভিন্ন ভবন থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। র‌্যাব’র সদস্যদের মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় বার বার টহল দিতে দেখা গেছে।

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের এ বিষয়ে পুলিশের চকবাজার জোনের এসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কারাগারের আশপাশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিল। প্রয়োজনে সামনের দিনগুলোতে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পুলিশের সাবেক পরিচালক জিয়াউল ইসলাম ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাবেক একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর