× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

দিনমজুর মনোজ এখন কোটিপতি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৪:০৬

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের মনোজ কুমার (৪০)। তিনি একজন দিনমজুর। স্থানীয় ইটভাটায় স্ত্রী রাজ কাউরকে সঙ্গে নিয়ে দিনমান কাজ করেন। তাতে দিনে তাদের আয় হয় সর্বোচ্চ ২৫০ রুপি। তা দিয়ে চার সন্তান ও তাদের ভরণ-পোষণ যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। কিন্তু রাজ্য সরকারের ‘রাখি বাম্পার’ লটারি তার জীবন একেবারে পাল্টে দিয়েছে। মনোজ ওই লটারি জিতে পেয়েছেন দেড় কোটি রুপি। ফলে দিনমজুর মনোজ এখন কোটিপতি।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, মনোজ কোনোদিন লটারি কেনেন নি। তবে রাজ্য সরকার লটারি ছাড়ার পর তিনি এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ২০০ রুপি ধার নিয়ে কিনেছিলেন লটারি। এটাই তার জীবনে প্রথম লটারি কেনা। আর তাতেই মনোজ কোটিপতি। ৩০ শে আগস্ট স্থানীয় পোস্ট অফিসের এক কর্মী এসে তার বাড়িতে হাজির। তাকে বললেন, তুমি রাখি বাম্পার লটারি জিতেছো।
এর ফলে মনোজ পরিবারের জীবন যেন ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে যায়। জীর্ণ কুটিরে হাসি আর হাসি ছড়িয়ে পড়ে। এখন প্রপার্টি এজেন্ট আর ব্যাংকাররা তার দরজায় ঘুরছেন নানা রকম লোভনীয় অফার নিয়ে। কারণ, মনোজ এখন কোটিপতি। নতুন করে ভবিষ্যত সাজাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে সন্তানদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিয়েছেন। এই লটারি জেতার আগে তার তিন কন্যার মধ্যে বড়জন এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তারপর সাঙ্গরুরে একটি চাকরি জুটিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লটারি জেতার পর মনোজ তাকে চাকরি খুঁজতে বারণ করেছেন। বলেছেন, তুমি আবার পড়াশোনা শুরু করো। পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিলে এক সময়। তোমাকে তাই হতে হবে।
অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি মারা গেছেন মনোজের পিতা হাওয়া সিং। মনোজ বলেন, জীবনে যা কিছু জমিয়েছিলামা একটু একটু করে তার সবটাই বাবার চিকিৎসায় শেষ করেছি। তারপরও তাকে বাঁচাতে পারি নি। মনোজের এখন আপসোস হচ্ছে, যদি আগে এই লটারি পেতেন তাহলে তার পিতাকে হয়তো বাঁচাতে পারতেন। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর আমি ইটের ভাটার কাজে ফিরে যাই। সেকানে অতিরিক্ত সময় কাজ করি। প্রতিটি ইটের বিপরীতে ৫০ পয়সা দেয়া হতো। তাতে একদিনে আড়াইশ রুপির বেশি জমা করতে পারতাম না। কিন্তু ৩০ শে আগস্ট পোস্ট অফিসের একজন এসে বললেন, আমি লটারি জিতেছি। আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম।
মনোজের স্ত্রী রাজ কাউর সেদিন বাড়িতেই ছিলেন। তিনি পোস্ট অফিসের ওই ব্যক্তি ও মনোজের মধ্যকার কথা শুনছিলেন দূরে দাঁড়িয়ে। তিনি মনে করেছিলেন তারা এমনিতেই কোনো গল্প করছেন। রাজ কাউর বলেন, এরপর ওই ব্যক্তি একটি সংবাদপত্র নিয়ে এলেন। সেখানে মনোজের টিকেট নম্বর মিলিয়ে দেখা হলো। মিলে যাওয়ার পর আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কি করবো, কি করব না ভেবে পাচ্ছিলাম না।
এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে পুরস্কার দাবি করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন মনোজ। তিনি বলেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ওই অর্থ হাতে পাবেন। তবে যেহেতু এ খবর ছড়িয়ে পড়েছে তাই প্রপার্টি এজেন্টরা এসে আমাকে সবচেয়ে উর্বর জমি কিনে দিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিছু ব্যাংকার আমাকে ভাল বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত ভাল কৃষিজমিই কেনা মনোজের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে তার আগে তিনি নিজের পরিবারের জন্য একটি নতুন বাড়ি বানাতে চান। তারপর এখনকার জীর্ন কুটির থেকে পরিবারকে সেখানে স্থানান্তর করতে চান। পাশাপাশি একটি ছোটখাট ব্যবসা শুরু করতে চান। এ নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
মনোজ বাল্মিকী দলিত সম্প্রদায়ের। তবে ১০ বছর আগে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা খ্রিস্টান হয়েছেন। মনোজ বলেন, আমার দ্বিতীয় মেয়ে নার্স হতে চেয়েছে। কিন্তু আমি তাকে ডাক্তার বানাতে চাই। তৃতীয় মেয়ে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। একটিই ছেলে আছে। সে পড়ে দশম শ্রেণিতে। সে চার্চের একজন যাজক হতে চায়। আমি তাকে সহায়তা করবো।
মনোজের মা কৃষ্ণি দেবি। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে আমরা মানদবীতে এসে বসত গেড়েছি। এখানে আমাদের আত্মীয় ছিল। আমাদের আসল বাড়ি ছিল হরিয়ানার নারওয়ানা জেলায়। সেখানে প্রতি বছর বন্যায় ফসলের ভয়াবহ ক্ষতি হতো। এখানে গ্রামের বাইরের দিকে পঞ্চায়েত আমাদেরকে ২০০ বর্গগজ জায়গা দিয়েছিল। সেখানেই আমরা বসত গেড়েছি। মনোজের পিতা সাইকেলের চাকার লিক সেরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। আর ১৫ বছর বয়সে মনোজ শুরু করেছে দিনমজুরের কাজ। মনোজ বলেছেন, এখন আমার সুদিন এসেছে। যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি তা দেখে খুব খুশি হতেন।
ওদিকে মনোজের বড়ভাই বাস করেন পাশেই। তিনিও দিনমজুর। মনোজ তাকেও আর্থিক সহায়তা করার কথা বলেছে। মনোজের স্ত্রী রাজ কাউর বলেন, পরিবারের অন্যদের ভাল থাকার জন্য আমাদের সহায়তা করা হলো দায়িত্ব।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর