× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার

জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যে হয়ে গেছে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার, ৯:৫৫

বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম-এর আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার চায় যেন জাতীয় ঐক্য না হয়। তবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে। যেসব রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চায়, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চায়, আজকে একটি পয়েন্টে তারা একমত।

আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ হয় সেজন্য দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চায়। সুতরাং আমি বলবো এই ঐক্য হয়ে গেছে। আজকে ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, এমনকি বাম জোটের নেতারা একই কথা বলছেন। সুতরাং জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়ে গেছে।

এখন এটাকে আরো সংঘবদ্ধ করতে হবে। আরো সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন- যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সবসময় ক্ষমতায় থাকবেন এমনটাই মনে করেন। কিন্তু রাজনীতি এমন একটি গতিশীল বিষয়, এটা কেউ কোনো দিন প্রেডিক্ট করতে পারেন না। সকলে চায় একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। এই দাবি যদি সরকার মেনে না নেয়, সমঝোতা না হয় তবে এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যাতে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার চায় একটি যেনতেন নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু দেশের মানুষ আজ এই সরকারের উপর ক্ষুব্ধ, সবাই বিরক্ত। আগামী দিনে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে। এখন আর সরকারের দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এই সিনিয়র আইনজীবী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে যে ব্যবস্থা ছিল সেটা সরকার সংবিধান থেকে বাদ দিয়েছে। এখন তারা সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা যোগ করেছে। এটা করেছে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য। মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার বলে নির্বাচনকালীন সময়ে আমরা রুটিন কাজ করবো। নির্বাচন কমিশন সব কাজ করবে। এগুলো বলা হচ্ছে মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। কারণ সরকারের অধীনে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, প্রশাসন থাকবে। সরকার যা বলবে প্রশাসন তাই করতে বাধ্য হবে। এর প্রমাণ গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাওয়া গেছে।

খালেদা জিয়ার মামলার আদালত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মামলা আদালত এখন জেলখানার ভেতরে নেয়া হয়েছে। সুতরাং আদালতও কারাবন্দি। সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে বিচার হতে হবে প্রকাশ্যে। পাবলিক ট্রায়াল হতে হবে। কিন্তু এখন জেলখানার ভেতর আদালত নেয়ায় বিচার হচ্ছে ক্যামেরা ট্রায়ালে। সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, একজন মন্ত্রী বলেছেন- বিএনপি নেতারা আইন জানে না। এই কথার প্রেক্ষিতে কথা বললে তো অনেক কিছু বলা যায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করি না। তবে এতটুকু বলতে চাই- তিনি যেটা বলেছেন সেটা সঠিক বলেননি। বিএনপি মাহাসচিবের নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি বলেন, মহাসচিব গেছেন জাতিসংঘে। সেখানে তিনি নিজে থেকে যাননি। তাকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দাওয়াতে গেছেন। কিন্তু সরকারের এক নেতা বললেন, জাতিসংঘে তিনি নালিশ করতে গেছেন। মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের মহাসচিব নালিশ করতে যাননি। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে গিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সভাপতি মুহম্মদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর