× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান, বিক্ষোভ

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার, ১০:০৫

সর্বনিম্ন আট হাজার টাকা রেখে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ঘোষণা করায় শ্রমিক-মালিক উভয়পক্ষের মধ্যেই দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নতুন মজুরি কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে গতকাল রাজধানীতে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। এ সময় নতুন বেতন কাঠামো পুনঃনির্ধারণ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। তবে সরকার সমর্থক শ্রমিক নেতারা মজুরি বোর্ডের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে মালিক পক্ষ মনে করে সরকারের সহায়তা ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার অঙ্কে মজুরি বাড়লেও শ্রমিকের ‘প্রকৃত মজুরি’ বাড়েনি। প্রজ্ঞাপন জারির আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫,৩০০ টাকা বা ৫১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, শ্রমিকের মূল বেতন ৪,১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ১,০৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ৬০০ টাকা এবং বাকি টাকা খাদ্য ও অন্য খাতে ধরা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারের ঘোষণার পর পরই তাৎক্ষণিক সমাবেশ ও বিবৃতির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানায় তারা।

এদিকে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কিছু কিছু শ্রমিক নেতা। তবে বেশিরভাগ শ্রমিক এবং শ্রমিক সংগঠন বলছে, ‘মন্দের ভালো’ সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতিসহ বেশি কিছু শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকার সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন কাঠামোকে স্বাগত জানালেও প্রত্যাখ্যান করেছে বামপন্থি সংগঠনগুলো।

মজুরি বোর্ডে থাকা শ্রমিক পক্ষের অস্থায়ী প্রতিনিধি বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া মনে করেন, ১৬ হাজার টাকা মজুরি দাবি আদায় না হওয়ার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনৈক্যই দায়ী। আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের এই নেতা মজুরি বোর্ডে আলোচনার সময় ১২ হাজার টাকা মজুরির প্রস্তাব তুলে অন্য সংগঠনগুলোর তোপের মুখে পড়েছিলেন। শামসুন্নাহারকে মজুরি বোর্ডে নেয়া নিয়ে তখন আপত্তিও জানিয়েছিলেন বামপন্থি শ্রমিক নেতারা। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে আমরা ১২ হাজার টাকার প্রস্তাব দিলেও মালিক পক্ষ ৭ হাজার টাকার উপরে উঠতে রাজি হয়নি। পরে সরকারের হস্তক্ষেপে ৮ হাজার টাকা করায় আমরা তা মেনে নিয়েছি। তবে বেতন আর একটু বেশি হলে আমরা খুশি হতাম।

মজুরি বোর্ডে থাকা আরেক শ্রমিক প্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগপন্থি শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মন্টু সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোয় আমরা খুশি। পোশাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার সিদ্ধান্তকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। মজুরির নতুন এই প্রস্তাব অমানবিক, অন্যায্য এবং প্রতারণামূলক। বর্তমান বাজার বিবেচনায় এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে সরকার মালিকদের পক্ষ নিয়েছে। আমরা ১৬ হাজার টাকা দাবি করেছি।

একই মন্তব্য করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু। তিনি বলেন, আমরা সরকারের বেঁধে দেয়া ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা মানি না। এ মজুরি নির্ধারণে আমরা ক্ষুব্ধ। কারণ সরকার শ্রমিকবান্ধব দাবি করলেও মালিকপক্ষের কাছে তারা অসহায়। মালিকদের স্বার্থই সরকার বেশি দেখেছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম যে হারে বেড়েছে তাতে একজন শ্রমিকের এ মজুরিতে টিকে থাকা অসম্ভব। তিনি বলেন, আমরা ১৬ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে অটল। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা সরকারকে সময় সীমা বেঁধে দেবো। সরকার দাবি না মানলে অক্টোবরে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন এই শ্রমিক নেত্রী।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছর ধরে পোশাকের মূল্য দিন দিন কমছে। বেতন বাড়ছে। প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে আমরা বেতন বাড়িয়ে যাচ্ছি। মূল্য না বাড়লে এই টাকা কোথায় থেকে আসবে। এখন তো আমি ভয় পাচ্ছি এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বায়ার, শ্রমিক, সরকার এবং সবাই মিলে যদি এগিয়ে না আসে তাহলে আমাদের এই শিল্প ধরে রাখা কষ্টকর হবে। তিনি বলেন, নতুন কাঠামোতে বেতন বেড়েছে ২,৭০০ টাকা।

গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি প্রত্যাখ্যান করে পোশাক শ্রমিকরা তা ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ব্যানারে কয়েকশ’ শ্রমিক রাস্তা বন্ধ করে সরকারেরর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এর ফলে সেই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে একইস্থানে আয়োজিত অপর এক প্রতিবাদ সমাবেশে গার্মেস্ট শ্রমিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৮,০০০ টাকা প্রত্যাখ্যান করে তা ১৮ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়।
সিপিবি’র মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ সময় তাদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ভিক্ষা চাইতে আসিনি, মেহনতি মানুষের শ্রমের মজুরি চাইতে রাস্তায় এসেছি। শ্রমিকের দাবি ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মেনে নিতে হবে। নইলে আগামী নির্বাচনে শ্রমিকরা আপনাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেবে। তিনি বলেন, সুইপারের বেতন ১৭ হাজার টাকা অথচ পোশাক শ্রমিকদের বেতন ৮ হাজার টাকা এটা মানা যায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বিবেচনা করলে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২১ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ১৮ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকার মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে প্রহসনমূলক মজুরি ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, মজুরি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিম্নতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। সরকার তাদের দাবি না মানলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে।

তারা বলেন, সরকার ৮ হাজার টাকার যে মজুরি ঘোষণা করেছে তার মধ্যে মূল মজুরি ৪১০০ টাকা। ২০১৩ সালে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নিম্নতম মূল মজুরি ৩০০০ টাকা ৫ শতাংশ হারে বাৎসরিক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ বছর পরে বিদ্যমান মূল মজুরি ৩৮২৮ টাকা। অর্থাৎ মজুরি ঘোষণায় শ্রমিকদের মূল মজুরি মাত্র ২৭২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে মজুরি বোর্ড শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪১ নম্বর ধারায় উল্লেখিত মানদণ্ড কিংবা আইএলও কনভেনশন ১৩১ এর মজুরির মাপকাঠিকে কোনো মূল্য দেয়নি।

গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুলের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস।
এদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা, শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, অবিলম্বে ঘোষিত মজুরি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘোষিত ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি দেশের গার্মেন্টস শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনসমূহের মজুরি বোর্ডের নিকট যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ৪০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করে এবং অন্যান্য ভাতা বাড়িয়ে শ্রমিকদের মূল মজুরিকেও পূর্বের হারের থেকে আরো কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সবসময়ই ওভারটাইম ভাতা গুরুত্বপূর্ণ, শ্রমিকদের মূল মজুরি কমিয়ে দিয়ে ওভারটাইম ভাতা ও চাকরি অবসানের ক্ষেত্রে অন্য পাওনাদির হার কমিয়ে দেয়া কোনভাবেই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রত্যাশা ছিল ইতিপূর্বে ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানার শ্রমিকদের জন্য যে মজুরি ঘোষণা হয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরিও তার চাইতে কম হবে না। কিন্তু বর্তমান ঘোষিত মজুরি, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানার শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরির অর্ধেক, যা শ্রমিকদের জন্য খুবই হতাশাজনক। বিবৃতিতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকা পুনর্বিবচেনা করার দাবি জানায় আইবিসি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
হাসান
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৭:০৫

অনেকে হয়তো অনেক যুক্তি খাড়া করতে পারবেন যে এই বেতন টা সঠিক। কিন্তু এদেশে সরকারি চাকুরিজীবী রা ঘুষ বাণিজ্য করে যেটা পাই তার সাথে একটু মিলান।সবার তো সঙসার আছে। আমি আমার জীবনের একটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি বি আর টি কার্যালয় সম্পর্কে। এখানে একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও মাসে এক লাখ টাকা উপার্জন করে। পদস্থ কর্মকর্তারা একটা অটোগ্রাফের মূল্য ধরেছে 1000টাকা। আর আমরা তাদের বেতন বাড়ানোর জন্য উদগ্রীব। পোশাক শ্রমিকদের কাজ পোশাক তৈরি করা।আর তার পর তারা বেতন পান। তাহলে সরকারি কর্মকর্তা অটোগ্রাফ দেওয়ার কাজে যারা আছেন তারা কি কাজের জন্য টাকা টা নেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ এই শ্রমিকদের প্রতি সদয় হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিন। আর দূর্ণীতি বাজদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিন।

অন্যান্য খবর