× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার

পবিত্র করতে নারীর শরীর স্পর্শ, ‘গুরু’ জেলে

রকমারি

অনলাইন ডেস্ক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার, ১১:৪৪

স্বঘোষিত একজন ‘গুরু’ যিনি পা দিয়ে মহিলাদের স্তন স্পর্শ করতেন তাকে যৌন হয়রানির দায়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই নারীরা যখন আচার অনুষ্ঠানের জন্য তার কাছে আসতো তখন তারা সেই ‘গুরু’র শরীর ম্যাসাজ করে দিতেন।
আর তখনই মেয়েদের ওপর এভাবে চড়াও হতেন মোহানিয়াল রজনী যিনি নিজেকে ‘দেবতা’ বলেও দাবি করতেন। ৭৬ বছর বয়সী সেই ‘গুরু’কে আদালত সাড়ে তিনবছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মি. রজনী নিজেকে ‘দেবতা’ বলে দাবি করতেন এবং নারীদের নিজেদেরকে তার কাছে উৎসর্গ করার কথা বলতেন।
তবে শুধু পা দিয়েই নয়, তিনি হাত দিয়েও মেয়েদের শরীরের ব্যক্তিগত অংশ স্পর্শ করার মাধ্যমে  যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন। এমন কাণ্ডকে দাবি করেছেন মহিলাদের জন্য ‘আশীর্বাদ’ বা ‘পবিত্রতা অর্জন’ হিসেবে।
ব্রিটেনের লেস্টার ক্রাউন কোর্ট-এর বিচারক রবার্ট ব্রাউন এই ধরনের যৌন হয়রানিকে ‘বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি মনে করেন, ‘এইধরনের হামলার ফলে প্রত্যেকেই যে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপক ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন, সেটা আশ্চর্যজনক নয়’।
মি. রজনী চার ধরনের যৌন হামলার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এর আগে।
তার শরীর ম্যাসাজ করার সময় দুইজন নারীর স্তন তিনি অন্তত দশবার নিজের পা দিয়ে স্পর্শ করেন বলে স্বীকার করেছেন। সেইসাথে হাতও ব্যবহার করেছেন।
ওই মহিলাদের আত্মীয়দের তিনি বলেন, সে তাদের ‘গুরু’ এবং এর ফলে তারা ‘পবিত্রতা’ লাভ করেছে।
প্রসিকিউটর এস্থার হ্যারিসন বলেন, মি. রজনী জনসম্মুখে কখনো নিজেকে গুরু বলে দাবি করেননি কিংবা নিজের পরিবারের কাছেও না।
কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলে গেল এবং নিজেকে সে তাদের ‘গুরু’ শুধু নং, ‘দেবতা’ বলে ঘোষণা করে, বলেন মিজ হ্যারিসন।
ব্যক্তিগত সেবা:
মিজ হ্যারিসন বলেন, মহিলারা প্রতি সপ্তাহে ‘ছোটোখাটো, ঘনিষ্ঠ জমায়েত’এর উদ্দেশ্যে মোহালিয়ান রজনীর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন।
সেখানে তারা তাকে বিভিন্ন রকম সেবা দিতেন। তবে মিজ হ্যারিসন জানান, ‘প্রয়োজনের চেয়েও এটা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত’। তিনি বলেন, ‘যখন তারা সেবা করতো তখন সে (মি. রজনী) একটি বিছানার ওপর শুয়ে পড়তো’। সাধারণত চার কিংবা পাঁচজন তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ম্যাসাজ করতো।
সেখানে ওই যুবতীদের শাড়ি পরে আসার নির্দেশনা ছিল ।
পরে তার বিরুদ্ধে যৌন হামলার অভিযোগ আনা হলে তিনি নিজের সাফাই গেয়ে দাবি করেন যে, ওই নারীরা তাদের মনের সাথে সাথে সবকিছুই দেবতাকে সমর্পণ করেছিল কি-না সেটাই পরীক্ষা করে দেখা হতো স্পর্শ করার মাধ্যমে।
৭৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দাবি করেন তার অনুগতরা এতে পরিশুদ্ধতা পাবে এবং প্রথমবার তার যৌন হামলা পর সেই নারী তার আশীর্বাদ পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে যখন আরেকজন যুবতী নারী মি. রজনীর কাছে এসে স্বীকার করেন যে নিজের সমবয়সী এক পুরুষের সাথে তার যৌন সম্পর্ক ছিল। এরপর তাকে ‘পবিত্র’ করার জন্য তার শরীরের প্রাইভেট পার্ট এভাবে স্পর্শ করে সে, বলেন মিজ হ্যারিসন।
তবে আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী এলিনর লজ কিউসি বলেন, ‘সর্বদা একজন দয়ালু, স্নেহময়, যতœশীল পিতা, দাদা, চাচা এবং সবার পরম-আত্মীয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
খবরটি জানাজানি হওয়ার পর তিনি তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তার আইনজীবী বলেন, নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়ে এমন কোন খেলা খেলতে পারেন না কারণ তিনি তাদের প্রতি দশকের পর দশক ধরে অত্যন্ত যতœশীল ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Ruhul Islam
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার, ৭:২৩

কুসংস্কারের ও একটা সীমা থাকা জরুরী নয় কি ?

kazi
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার, ১:১৯

ভারতীয়রা ভন্ডদের শিকার হয় দেশে বিদেশে কারণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন বেশী। হয়ত ধর্মীয় দুর্বলতাই কুসংস্কার বৃদ্ধির কারণ। কিন্তু ভারতের বাইরে বৃটেনের মত দেশে বসবাসী নারীরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন অবাক লাগে। এই সুযোগে ভারতের ভিতর ভন্ড সৃষ্টি হলেও বৃটেনে তা হবে ? দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে বৃটেনে। ভারতেও বিচার হচ্ছে দেরিতে ।

অন্যান্য খবর