× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার

রাশিয়া-ইসরাইল সম্পর্কের হালচাল

বিশ্বজমিন

অনিম আরাফাত | ৬ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার, ৮:৪২

সামপ্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইসরাইলের সমপর্ক বর্তমানে সবথেকে কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সিরিয়ায় রাশিয়ার একটি বিমান ধ্বংস হয়ে ১৫ সেনা নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য দেশটি প্রথম থেকেই ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। যদিও ইসরাইল দাবি করছে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতেই রাশিয়ার বিমান ধ্বংস হয়েছে। এ দাবির পক্ষে প্রমাণও তারা মস্কোতে পাঠিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া বলছে, ইসরাইলি এফ-১৬ সিরিয়ায় হামলার সময় রাশিয়ান বিমানটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইসরাইল হামলার মাত্র এক মিনিট আগে আমাদেরকে সতর্কতা সংকেত পাঠিয়েছে।

একইসঙ্গে এখানে রাশিয়ার বিমান ঘাঁটি থাকার পরেও তারা আমাদেরকে জানায়নি যে লাটাকিয়া প্রদেশে হামলা করতে যাচ্ছে।
তাই ইসরাইল কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনা নিয়েই ইসরাইলের সঙ্গে রাশিয়ার সমপর্ক এখন তলানিতে অবস্থান করছে। এর মধ্যেই রাশিয়া সিরিয়ায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৩০০ স্থাপন করতে চলেছে।

ঘোষণা দেয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সিরিয়ায় এস-৩০০ সরবরাহ শেষ করেছে রাশিয়া। ইসরাইল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। এর ফলে এখন থেকে ইসরাইলের জন্য সিরিয়ায় বিমান হামলা চালানো কঠিন হয়ে পরবে। এতে দেশ দুটির মধ্যকার বৈরী সমপর্ক আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
২০১৫ সালে যখন রাশিয়া সিরিয়া আক্রমণ করে তখন ইসরাইল তা স্বাগত জানিয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এটা ছিল ইসরাইলের জন্য একটা সুযোগ। এ সময় ইসরাইল ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয় যাতে বলা ছিল তারা কেউ কারো রেড লাইন অতিক্রম করবে না। রাশিয়া তখন স্বীকার করে নেয় ইসরাইল সীমান্তে ইরানের অবস্থান সিরিয়ায় যুদ্ধকে আরো কঠিন করে তুলবে। কারণ এতে ইসরাইলের সিরিয়ায় ঢুকে পরার ও হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। তারপরেও রাশিয়ার সঙ্গে নানা অভিযানে ইসরাইল সীমান্তের দিকে আগাতে থাকে ইরান। চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল তখন এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিবেচনার ভিত্তিতে রাশিয়া ইসরাইলকে সিরিয়ার অভ্যন্তরে হামলা করতে দিতো। সিরিয়ায় অভিযান শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া ইসরাইলের সঙ্গে একটি হটলাইন প্রতিষ্ঠা করে। ইসরাইলি বিমানবাহিনীর হামলার পূর্বে এর মাধ্যমেই দেশটি রাশিয়াকে জানিয়ে দিত কোথায় কখন হামলা হচ্ছে।

এর মধ্যে ইরান ও শিয়াপন্থি যোদ্ধা সংগঠন হেজবুল্লাহ সিরিয়ার অভ্যন্তরে ব্যাপক সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করে। ২০১৮ সালের প্রথম থেকে ইসরাইল এসব ইরানি ও হেজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে। এ সময় কার্যত রাশিয়া নীরব ভূমিকা পালন করে। তবে গত তিন বছরে ইরানকে থামানোর জন্য সত্যিকার অর্থে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি রাশিয়া। উল্টো সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক সফলতা ইরানকে দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। এতে ইসরাইলের পূর্বেকার আশা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং রাশিয়ার সঙ্গে সমপর্ক নিচের দিকে নামতে থাকে। ইসরাইলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা না করেই রাশিয়ার কর্মকর্তারা ইরানকে এক ধরনের ছারপত্র দিয়ে দেয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বেশ কয়েকবার বলেছেন যে, সিরিয়ায় ইরানের অবস্থানকে তিনি ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে নারাজ।

গত এক বছরে সিরিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক কার্যকলাপ ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে ইরান। এ নিয়ে রাশিয়া ও ইসরাইলের সমপর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফেব্রুয়ারিতে, ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গোলান হাইটসে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করলে সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এতে দেশ দুটির মধ্যে থাকা চুক্তি অনর্থক হয়ে পড়ে এবং ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার রাজনৈতিক সফলতা মুছে দিতে আগ্রহী হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে তারা আর সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থন দেবে না। এতে সিরিয়া ইসরাইল থেকে নিকটবর্তী ডেরা ও কুনেইত্রা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সিরিয়ার বিমানকে টার্গেট করে ইসরাইল কোনো হামলা চালাবে না এরকম একটি চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। বিনিময়ে রাশিয়া ইসরাইলকে আশ্বস্ত করে যে সীমান্তের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইরানি স্থাপনা থাকলে তা রাশিয়া তুলে নেবে। এ চুক্তি সাময়িক সময়ের জন্য দেশ দুটির মধ্যে এক ধরনের আস্থা ফিরিয়ে এনেছিল।

কিন্তু গত ১৭ই সেপ্টেম্বরের ঘটনা আবার নতুন করে সংকট সৃষ্টি করে। রাশিয়া ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক সমপর্ক কত ভঙ্গুর তা সপষ্ট হয়ে যায়। ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তীক্ষ্ণ সুর বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ন্ত্রণ করতেন ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই। ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার বিবৃতিও পুতিনের অনুমোদনেই প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটি এখন কঠিন পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় পুতিন সিরিয়াতে এস-৩০০ স্থাপনের নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে সিরিয়ার কর্মকর্তারা তা বুঝেও পেয়েছেন। ইসরাইলের শত আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়ার এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে যে দেশটি আর কোনো আপসে যাবে না। যদিও ইসরাইলি কর্মকর্তারা এস-৩০০ স্থাপন মেনে নেবে না বলে বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


সিরিয়া যুদ্ধের প্রথম থেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পদক্ষেপ হুঁশিয়ারিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সিরিয়ায় এস-৩০০ স্থাপনের মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলো রাশিয়া। ইসরাইলের উদ্দেশ্যে এটিকে রাশিয়ার একটি কঠিন বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে সিরিয়ায় ইসরাইলের হামলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ক্রেমলিন দাবি করছে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে রাশিয়ার বিমান ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যাখ্যার পরেও তা মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। এ থেকে সপষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাশিয়া ইসরাইলের সঙ্গে আর আপস চায় না। দেশ দুটির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয়  সমপর্কে দীর্ঘকালীন সংকট যে নিশ্চিত তা নিয়ে কারো মধ্যেই সন্দেহ নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর