× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার

‘২১শে অগাস্টের মামলায় তারেক রহমানকে ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার, ২:১৪

২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামীদের না ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম জড়িয়ে তাদের ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শহীদ জিহাদের ২৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জিহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২১শে আগস্ট বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয়। সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করে, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের না করে সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে পুরো বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তারেক রহমান, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ অন্যান্য বিএনপি নেতাদের এর মধ্যে জড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই এদেশ থেকে বাংলাদেশী জাতীয়বাদকে ধ্বংস করা। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই বিএনপি সরকার মামলা করেছে। তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। এমনকি এফবিআইকে আনা হয়েছিল মামলার তদন্ত করার জন্য।
পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের সময় যে চার্জশিট দেয়া হয়েছিল, যে তদন্ত করা হয়েছিল সেখানে কোথাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপির কোন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ৬১জন সাক্ষি সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের কেউ তারেক রহমানের নাম বলেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেলো। আবার নতুন করে তদন্ত শুরু করে, কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হলো। বিএনপি সরকারের সময় যিনি চাকরি হারিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিল। তাকে দেয়া হলো তদন্ত কর্মকর্তা। মুফতি হান্নানকে ৪১০দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। আদালতে সে নিজেই বলেছে আমার নকগুলো তুলে ফেলা হয়েছে। অত্যাচার করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের নাম জড়িয়ে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। ফখরুল বলেন, এই মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাদের জড়িত করা হয়েছে। এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত ছিল, প্রকৃত আসামীদের বের করে এনে বিচার করা উচিত ছিল। তা না করে সরকার রাজনৈতিকভাবে পুরো বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তারেক রহমান, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ অন্যান্য বিএনপি নেতাদের এর মধ্যে জড়িত করলো। কারণ যে কোন ঘটনার একটা মোটিভ থাকে। এই ঘটনায় লাভবান কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটিকে ইস্যু করে বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। সঠিক তদন্ত করা হলে, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসতো। তিনি বলেন, বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়া পঙ্গু হতে চলেছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, কারাগারে অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। আমরা বারবার তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি, ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেছি। কিন্তু কোনটাই সরকার শোনেননি। দেশনেত্রীর কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। এরফলে কি হয়েছে? আজকে বিনা চিকিৎসায় পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে আজকেও সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ভয়েস অব আমেরিকায় এক সাক্ষাতকারে বলেছেন। তিনি বলেছেনÑ বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নাই। সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হয়েছে নি¤œ আদালত। এটি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণ কে পদোন্নতি পাবে, কে হাইকোর্টে যাবে, কাকে বেনিফিট দেয়া হবে সেটা সরকার করছে। এভাবে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আমরা বহুবার বলেছি বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হবে। শেখ হাসিনার এখন আর জনগণের দরকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে গেছে। এরা জনগণকে বিশ্বাস করে না। তাদের আর কোন রাজনীতি নাই, জনগণ তাদের কাছে কোন ব্যাপার না। তাদের কাছে বিষয় হলো পুলিশ ঠিক থাকলো কিনা? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঠিক কিনা? বিচার বিভাগ সব নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলো কিনা? হুকুম দিয়ে বিচার করতে পারলো কিনা? এই বিষয়গুলো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এর আগে নির্বাচনে স্কুলের শিক্ষক, অধ্যাপক, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বানানো হতো। এবার নাকি তাও হবে না। শুধু যারা সরকারি চাকরি করেন তাদেরকে করা হবে। কারণ তারা সরকারি নির্দেশের বাইরে যেতে পারবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, ডিএলের সভাপতি সাইফ উদ্দীন মনি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Eshan
৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার, ৩:১৩

২১ আগস্ট ঘটনা কি এমনি এমনি হয়েছে? এ ঘটনা কেউ তো ঘটিয়েছে। কোন কিছুর দরকার নেই শুধু জজ মিয়া নাটক এর জন্য আপনাদের বিচারতো হচ্ছে আপনার ও বিচার হওয়া উচিত।

অন্যান্য খবর