× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

যে কারণে ইসরাইলে অবরুদ্ধ মার্কিন শিক্ষার্থী লারা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার, ৩:১৭

ইসরাইলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি পড়ার সুযোগ দিয়েছে লারা আল কাশেমকে। এমন সুযোগ পেয়ে তিনি ফ্লোরিডা থেকে উড়ে এসেছেন ইসরাইলে। কিন্তু ইসরাইল কর্তৃপক্ষ তাকে দেশের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। কমপক্ষে ৭ দিন তিনি আটকা পড়ে আছেন ইসরাইলের বেন গুরিয়ন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এতে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে সেখানে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ডাক ওঠে। তাতে যুক্ত হয়েছিলেন লারা। এ কারণে, তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে বা ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে কোন অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতা বা ইসরাইলকে বর্জনের কোনো আন্দোলনে কোনো বিদেশী নাগরিক যুক্ত থাকলে তাকে ইসরাইলে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। সেই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে লারার ক্ষেত্রে।
এই আইনটি পাস হয় ২০১৭ সালে। এর লক্ষ্য হলো, ‘বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশন’ (বিডিএস)-এর বিরুদ্ধে ইসরাইলকে লড়াই করে টিকে থাকা। ওই সময়ে এ আন্দোলন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সমর্থন পেতে শুরু করে। বিডিএস আন্দোলনকারীরা ইসরাইলের পণ্য কেনাকে অনুৎসাহিত করতে থাকে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে যাতে তারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য না করে। এমন কি সেলিব্রেটি তারকাদের প্রতিও তারা আহ্বান জানায়। তাদেরকে বলা হয়, ইসরাইল সফরে না যেতে এবং সেখানে কোনো পারফরমেন্সে অংশ না নিতে। কিন্তু এ বিষয়গুলোকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে থাকে ইসরাইল।
ইসরাইলের স্ট্রাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনটির সমর্থন করে। এ মন্ত্রণালয় ক্যানারি মিশনের মতো ওয়েবসাইট সহ অনলাইনে প্রাপ্ত সাধারণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিডিএস কর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে তা একত্রিত করে। ক্যানারি মিশন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও উত্তর আমেরিকায় ইহুদিদের কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে প্রামাণ্য হিসেবে প্রকাশ করে।
স্ট্রাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের মন্ত্রী গিলাদ এরদান জানিয়েছেন, কোন দেশের নাগরিক ইসরাইলে প্রবেশ করবে তা নির্ধারণ করার অধিকার আমাদের আছে। আইনীভাবে এর বৈধতা আমরা অর্জন করেছি। বিডিএস আন্দোলনের মাধ্যমে যারা দেশের ক্ষতিসাধন করতে চায় তাদের এ দেশে প্রবেশ রোধে আমরা এই আইনী বৈধতা দিয়েছি। আর লারা যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল বিরোধী এই বিডিএস আন্দোলনের একাংশের প্রেসিডেন্ট ছিল।  
তিনি আরো বলেন, লারা আলকাশেম ইসরাইলে অবরুদ্ধ আছেন এটা স¤পূর্ণ মিথ্যা। তিনি যখন খুশি তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যেতে পারেন।
এরদান আরো জানান, যেকোন রাজনৈতিক মতাদর্শের যেকোন শিক্ষার্থীদেরই ইসরাইল দেশে পড়াশুনার জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
ক্যানারি মিশনে লারার প্রোফাইলে দেখা যায়, ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় লারা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচারের আন্দোলনের সভাপতি ছিলেন।  
ইসরাইল কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা ছিল, লারা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আবার দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্ত ভবিষ্যৎ এই আইনের শিক্ষার্থী তাকে বিতাড়নের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেন এবং অবস্থান করার অনুরোধ জানান।
আপিলে লারা জানান, তিনি কখনই জাস্টিস ফর প্যালেস্টাইন আন্দোলনের সিনিয়র সদস্য ছিলেন না। এছাড়াও তিনি আর বিডিএস আন্দোলনও সমর্থন করেন না বলে জানান।
হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর বারাক মেদিনা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পক্ষে তদবির করবে। যদিও কর্তৃপক্ষ রোববার তার সাথে দেখা করতে বাধা দিয়েছে। একজন মানুষ তার চিন্তাধারার কারণে ইসরাইলে প্রবেশ করতে পারবেন না, এই বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিরোধীদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির আইনটি চালু হবার পর থেকে লারা ১৫তম ব্যক্তি যাকে ইসরাইলে প্রবেশ করায় বাধা দেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্থানীয় একটি আদালত লারার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর