× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

কসবা সীমান্তহাটে ক্রেতা সংকট

বাংলারজমিন

মো. সজল আহাম্মদ খান, কসবা থেকে | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৮:৩৪

পসরা সাজিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোস্তফা হারুন। ক্রেতা নেই। তাই তার মন খারাপ। দুপুর গড়িয়ে গেলেও তার তেমন বেচা হয়নি। ক্রেতা সংকটের বর্ডার হাটে আগের মতো জৌলুস আর নেই এখন। বর্তমানে লাভ তো দূরের কথা পুজি মিলানোই দায়। বেচাকিনি হোক না হোক খরচ মাফ নেই তার। এ কথাগুলো বললেন কসবা বর্ডার হাটের নিয়মিত ব্যবসায়ী কসবার বাসিন্দার মোস্তফা হারুন।
তিনি আরও বলেন, আগেই ভালোই বেচা বিহি হয়েছে। তিন মাস ধরে ক্রেতার অভাবে ব্যবসা নেই বলেই চলে।
প্রতি সপ্তাহের রোববার কসবা বর্ডার হাট বসে। গত রোববার দুপুরে সরজমিন বর্ডার হাটে গেটে গিয়ে দেখা যায়, বর্ডার হাটে দেখে বুঝার উপায় নেই, এটা একটা এখানে হাট বসেছে। সাধারণত হাটের যে কোলাহল তা ওইখানে নেই। হাটের নিয়ম অনুযায়ী ২৫ জন ত্রিপুরার ও ২৫ জন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারবেন বর্ডার হাটে। উভয় দেশের সব ব্যবসায়ীরা আজ আসেনি। যারা এসেছেন তাও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের চেয়ে বেশি ত্রিপুরার ব্যবসায়ী। হাটে ত্রিপুরা ক্রেতার সংখ্যা একেবারে কম হলেও বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা বেশ ভাল। বাংলাদেশি দোকানদাররা অলস বসে থাকলেও বসে নেই ত্রিপুরার ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশিরা ক্রেতারা ভারতের বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনছেন। এ নিয়ে কথা হয় আগরতলার একটি হাসপাতালে সেবিকা জয়িতা দেবের সঙ্গে তিনি বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি। ভালো লাগছে। তবে মানুষ বেশি থাকলে আরও ভালো লাগত। আখাউড়ার হীরাপুরের সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে এসেছি। আজও আসলাম। আগে লোকজন অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে ফাঁকা লাগছে। হাটে লোক না থাকলে ভালো লাগে না।
ব্যবসার বর্তমান হালচাল নিয়ে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয়। ত্রিপুরার কোরাবনের বাসিন্দা রতন দেবনাথ হাটে এসেছে কিশমিশ, আচার ও কলা নিয়ে। তিনি বলেন, ক্রেতার অভাবে বেচাকিনি একেবারে মন্দা। তিন মাস আগেও প্রতিবারে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মাল বেচতাম। এখন ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মাল বিক্রি করছি। তা দিয়ে পোষাচ্ছে না। বাংলাদেশের কসবার মালু মিয়া ও শুঁটকি ব্যবসায়ী বিশ্বজিত দাস বলেন, আমাদের দোকানগুলোতে ক্রেতা সংকট থাকলেও ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের দোকানগুলো ভিড় রয়েছে। তাদের ব্যবসা মোটামুটি ভালে াহলেও আমাদের ব্যবসা নেই। মন্দা বাজার হওয়ায় আমাদের অনেক দোকানদার আসেই না।
জানাগেছে, বর্ডার হাটের প্রথা অনুযায়ী দুই দেশের বর্ডার হাটের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে লোকজন নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বার্ষিক কার্ড করে ওই বাজারের প্রবেশের করতে পারেন। ৫ কিলোমিটারের বাইরের লোকজনদের জন্য অতিথি কার্ড রাখা হয়েছে। ত্রিপুরা সরকার চলতি বছরের ২৯শে জুলাই থেকে অতিথি কার্ড দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে ওইপারের ক্রেতার সমাগম কমে যায়। এ নিয়ে এপারের ব্যবসায়ীরাও এর প্রতিবাদ করেন। পরে ১২ই আগস্ট কসবা উপজেলা প্রশাসন অতিথি কার্ড দেয়া বন্ধ করেন। এ কারণেই সীমান্ত হাট এখন ক্রেতার সংকটে ভূগছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হাসিনা ইসলাম বলেন, আগে ত্রিপুরা অতিথি কার্ড বন্ধ করে পরে আমরাও অতিথি কার্ড দেয়া বন্ধ করে দিই। এ বিষয়ে বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বর্ডার হাটে যারা আসেন তাদের কার্ড ঠিক আছে কি-না তা দেখা আর আগতদের নিরাপত্তা দেয় হলো আমাদের কাজ। উল্লেখ্য, সপ্তাহের একদিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কসবার তারাপুর ও ত্রিপুরার কমলাসাগর মধ্যে ২০১৫ সালের জুন মাসে বর্ডার হাটটি চালু হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর