× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার

আতঙ্কে হবিগঞ্জের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

বাংলারজমিন

রাশেদ আহমদ খান, হবিগঞ্জ থেকে | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৮:৩৫

অজানা আতঙ্কে ভুগছেন হবিগঞ্জের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন দলের একজন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির এক মনোনয়ন প্রত্যাশীকে প্রাণনাশের  চেষ্টার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলায় চলছে আলোচনার ঝড়। গণ-মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। চলছে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সমাবেশ। তবে দুটি ঘটনার কোনোটিরই আসল কারণ এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে হামলার শিকার প্রার্থীদের সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে করছে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। বিষয়টি সরকারের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন মহলকেও অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ২রা অক্টোবর ফজরের নামাজের পর প্রাতঃ ভ্রমণে বের হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। তারা রাস্তার বাম পাশে সারিবদ্ধভাবে হাঁটছিলেন।
বাসা থেকে কয়েক শ’ গজ দূর যাওয়ার পর শহরের রওশন রেজা এম্পেয়ারের সামনে পেছন দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া পিক-আপ ভ্যান রাস্তার উল্টো দিকে গিয়ে তাদেরকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এমপি মজিদ খান ছিটকে রাস্তার এক পাশে পড়ে গেলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে সঙ্গে থাকা শহরের ঠিকাদার মাসুদ আহমেদকে চাপা দিয়ে ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় বিমুর্ষ হয়ে পড়েন অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া এমপি মজিদ খান। খবর পেয়ে দলের নেতাকর্মী ও তার নির্বাচনী এলাকার শতশত লোক হাজির হন এমপির বাসভবনে। এমপি মজিদ খানকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে অভিযোগ করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগসহ স্থানীয়রা। সংসদ সদস্য নিজেও এ ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করে ঘাতক ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করে রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এক সপ্তাহেও ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এমপি মজিদ খান। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থানে সিসি ক্যামেরা থাকার পরও এতদিনে ট্রাকটিকে আটক করতে না পারায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপি মজিদ খানের সমর্থক ও সংসদীয় এলাকার জনগণ তারা বিভিন্ন গ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ করে এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের বক্তব্য এমপি সাহেব ও তার সঙ্গীরা রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় রাস্তায় কোনো যানবাহনও ছিল না। ট্রাকটি রং সাইডে গিয়ে তাদেরকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এতে প্রমাণিত হয় এমপি মহোদয়কে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ট্রাক হামলা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান মানবজমিনকে জানান, ঘটনাটিকে কোনোভাইে আমি স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা বলে মানতে পারছি না। আমরা রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। রাস্তার অপর পাশ থেকে এসে পিছন দিক থেকে আমাদেরকে চাপা দেয় পিকআপটি। মাসুদ আমাকে সরাতে গিয়ে নিজে ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। মাসুদের মৃত্যুর বিভীষিকাময় মুহূর্তটি আমার চোখের সামনে এখনও ভেসে ওঠে। আতঙ্কে আর রাস্তায় হাঁটতে বের হই না। আমি পুলিশকে বলেছি দ্রুত ট্রাক ও ঘাতক ড্রাইভারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূল রহস্য উদঘাটন করতে। তবে পুলিশের ভূমিকায় আমি হতাশ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার করা উচিত। নইলে এলাকার জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে উঠতে পারে।   
এদিকে এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ সদর আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল। তার অভিযোগ, প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় এক দুর্বৃত্তকে হাতেনাতে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ডা. আবদাল। মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২রা অক্টোবর ডা. আবদাল পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শহরের রাজনগর এলাকায় যাচ্ছিলেন। রাজনগর জামে মসজিদ মার্কেট এলাকায় পৌঁছামাত্র হেলমেট পরিহিত মোটর সাইকেলআরোহী একদল দুর্বৃত্ত তাকে অনুসরণ করে। তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলে তিনি শোর-চিৎকার শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ৩ দিন পর গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় হবিগঞ্জ শহরের নিউ মুসলিম কোয়ার্টার এলাকাস্থ ডা. আবদালের বাসভবনে একই দুর্বৃত্তরা আবারও হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডা. আবদালের ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে। এ সময় ডা. আবদাল শোর-চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শাওন নামে এক দুর্বৃত্তকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ধারালো অস্ত্রধারী অন্য দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল মানবজমিনকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে-ময়দানে ব্যাপক গণ-সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার ধারণা, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কোনো কু-চক্রি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে প্রাণনাশের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ মানবজমিনকে জানান, বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্যের প্রাতঃভ্রমণের সময় যে ঘটনাটি ঘটেছিল এটা এখন পর্যন্ত একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু এখানে একজন ভিআইপি জড়িত তাই এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা ডা. আহমুদুল রহমানের ওপর হামলার বিষয়টির সর্বশেষ অবস্থা আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব যদি কেউ হামলা করে থাকে তবে দোষী ব্যক্তিরা অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর