× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

প্রতিটি মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে: প্রেসিডেন্ট

দেশ বিদেশ

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৯:৪২

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমি শুনেছি, কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে যদি কেউ মামলা করে, তাহলে আমাদের কোনো আইনজীবী তার বিপক্ষে দাঁড়াবে না। সবাই আইনজীবীর পক্ষে যাবে। বাদীর কোনো আইনজীবী পাওয়া যাবে না। এটি ঠিক নয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে মামলায় আইনজীবী পরিবারের যে সদস্য আইনজীবী না তার পক্ষেও আইনজীবী পাওয়া যায় না। উকিলের পক্ষে সব উকিলরা থাকবে আবার সে কোনো উকিল পাবে না। আপনাদের ইউনিটি দিয়ে যদি কারো উপর সেটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অত্যাচার হয়ে যায়, এটি ঠিক না। কারণ প্রতিটি মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, আইনজীবীরা ডেফিনিটলি একটি শক্তি।
কিন্তু এই শক্তির অপপ্রয়োগ করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাহলে জনগণের কাছে আইনজীবীদের যে আস্থা রয়েছে, তা হারাতে হবে। যেভাবে জনগণের আস্থা থাকে, সেভাবে আইনজীবীদের কাজ করতে হবে। এই দেশের সাধারণ মানুষ যাতে বিচার কাজে সাহায্য পায়, এজন্যে আমরা আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। আইনজীবীরা অন্যায় করলে তারও বিচার হতে হবে। আমি আইন মানবো না, অন্যরা সবাই মানবে। এটা তো আইনের শাসন হতে পারে না।
মঙ্গলবার দুপরে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রেসিডেন্টকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পাঁচবারের সভাপতি ছিলেন।
সিনিয়র আইনজীবীরা তৎপর হলে বারের পরিবেশ সুন্দর হবে মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমরা রাজনীতি করেছি রাজনীতির মাঠে। বারে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। বারের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আইনজীবীরা জনগণের জন্য মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট বলেন, এখানে ওকালতনামার জন্য অনেক বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। এটি ভাবার কোন কারণ নেই যে, যারা মামলা-মোকদ্দমা করতে আসে তারা খুব বড়লোক। সাধারণ মানুষগুলোই মামলা-মোকদ্দমা করতে আসে। অনেক সময় ওকালতনামার পেছনেই তাদের ৫শ’ টাকা খরচ হয়ে যায়। এমনটি হলে গরিব মানুষদের আইনের সহায়তা পেতে সমস্যা হবে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ রশিদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
অন্যদের মধ্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল আলম শহীদ এবং আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল হাসান রাকিব মানপত্র পাঠ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে আমি এক বিরল সুযোগ পেয়েছি। শ্রদ্ধাভাজন প্রেসিডেন্টের পাশে বসতে পেরেছি, উনার নিজ জেলায়, যেখানে তিনি আইনপেশা শুরু করেছিলেন, যেখানে আমার মামার বাড়ি। দ্বিতীয় বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসিডেন্টের অর্জন এ এলাকার প্রত্যেকটি মানুষকে অলঙ্কৃত ও গর্বিত করেছে, আমাকেও গর্বিত করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ আইনমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের তৃতীয় তলার সম্প্রসারিত ভবন এবং জজ কোর্ট প্রধান ফটকের শুভ উদ্বোধন করেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিন দিনের সফরে সোমবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে আসেন। ওইদিন বিকালে শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে প্রেসিডেন্টকে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়া সন্ধ্যার পর সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিশোরগঞ্জের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বুধবার বিকালে প্রেসিডেন্ট ঢাকার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর