× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৯:৪৯

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি’র কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিএনপি’র আমলে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ তদন্তে সহযোগিতা করেনি। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসতো। রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের যুক্ত করে এটাই প্রমাণিত হয়েছে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের জড়িয়েছে। নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলে দেয়া অভিযোগপত্রেও তারেক রহমানের নাম ছিল না।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমানের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; সুষ্ঠু তদন্ত না করেই এ মামলার বিচারকাজ চলছে।
তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনার পর বিএনপি’র চেয়ারপারসন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেখানে যেতে চেয়েছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে সেদিন যেতে দেয়া হয়নি। এ ঘটনার পরপরই আমাদের তৎকালীন সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করেছিল। বিএনপি সরকারই মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছিল। মির্জা আলমগীর বলেন, এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্ত করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনবার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল। আজকের প্রধানমন্ত্রী তখন কিন্তু বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও আবদুস সালাম পিন্টুকে জড়িয়ে কথা বলেননি। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি (শেখ হাসিনা) যখন সাবজেলে ছিলেন, তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে যখন জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছিলেন তিনি তখনও বিএনপি বা তারেক রহমানকে দোষারোপ করেননি।

তিনি সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেছিলেন। বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত ভিন্নদিকে প্রবাহিত হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল। সেখানে তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেল। ৬১ জন সাক্ষী হওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন করে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়। যিনি চাকরি হারিয়েছিলেন, পরে আওয়ামী লীগের নমিনেশনও চেয়েছিলেন। তিনি এত বছর পরে মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে তার কাছ থেকে জবানবন্দি নিয়েছেন। প্রকৃত আসামিকে না ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র ওপর দোষ চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা আলমগীর। তিনি বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। তা না করে তারা রাজনৈতিকভাবে পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের জড়ালো।

এখন তারই সূত্র ধরে একই রেকর্ড বাজাচ্ছে যে, এর সঙ্গে বিএনপি নেতারা জড়িত। প্রতিটি ঘটনায় তারা একই কাজ করেছে। প্রকৃত আসামি না ধরে, সুষ্ঠু তদন্ত না করে বিএনপি’র ওপর দোষ চাপাচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, হলফ করে বলতে পারি- তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টুসহ বিএনপি’র কোনো নেতাই এর সঙ্গে জড়িত ছিল না। কারণ যেকোনো হত্যাকাণ্ডের একটি মোটিভ থাকে। সেই ঘটনায় বেনিফিশিয়ারি কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটিকে ইস্যু করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে কথা বলছে, বিএনপিকে ধ্বংস করছে। মির্জা আলমগীর বলেন, এই চক্রান্ত শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরে ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে আবার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে নির্মূল করে দিয়ে এবং তার ধারক-বাহক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে  হেয় করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই এর উদ্দেশ্য। এখন শুরু হয়েছে শারীরিকভাবে তাদের সরিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বলেছি- দেশনেত্রী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা শোনেনি। এখন কী হয়েছে? আজকে তিনি এত অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে, পঙ্গু হয়ে পড়তে পারেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আইন দিয়ে, শক্তি দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। ফ্যাসিবাদ খুব খারাপ জিনিস। এটি মগজের মধ্যে ঢুকে যায়। তখন দেখা যায় সরকার যা চায়, জনগণ একটা সময় তাই করছে। পৃথিবীতে এমন দেশ আছে, যাদের নেতা হাসলে তারা হাসে, নেতা কাঁদলে তারা কাঁদে। আমাদের দেশেও প্রায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নেতা হাসলে আমাদের লোকজন হাসতে থাকে, ওনার চোখে পানি এলে সবাই কাঁদতে থাকে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রিজাইডিং অফিসার করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতেই এটি করা হচ্ছে।

কারণ এরা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় কেউ-ই সরকারের কথার বাইরে যেতে পারবে না। বর্তমান সময়কে গভীর সংকটকাল অভিহিত করে বিএনপি’র মহাসচিব সবাইকে সরকারের আচরণের প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাইকে বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করা দরকার। রাজপথে আসতে হবে, এর বিকল্প নেই। কেউ আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না, এই সরকারকে সরিয়ে দেবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত জনগণ সরিয়ে দিচ্ছে। আমাদের কাজ জনগণকে সংগঠিত করে উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নামা। কোনো শর্টকার্ট পদ্ধতি নেই।

জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ জনগণের শক্তি ছাড়া শক্তিশালী কিছু নেই। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বক্তব্য দেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর