× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার

সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস নির্মানে দৃষ্টান্ত

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৪:৩৪

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে সেখানে সাব রেজিষ্ট্রার অফিস নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামদিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের দখলে ছিল। কিন্তু সাব রেজিষ্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় ওই সম্পত্তি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে সাব রেজিষ্ট্রার অফিস গড়ে তোলা হয়েছে। এতে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার সেবা প্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। বেথুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষীরোদ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন মহাপরিদর্শক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান এই সম্পত্তিতে সাব-রেজিষ্ট্ররের অফিস করার জন্য ঘোষনা করেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় সাব য়রেজিষ্ট্রার অফিস নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। অবশেষে ২০১৩ সালে অক্টোবরে কাশিয়ানী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে যোগদান করে প্রদীপ কুমার বিশ্বাস।
তিনি কিছুদিন পর জানতে পারেন উপজেলার রামদিয়ায় সাব রেজিষ্ট্রার অফিস নির্মাণের জন্য ৪৭ শতাংশ সরকারি জায়গা রয়েছে। তিনি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ওই সরকারি সম্পত্তিকে আগে অবৈধ দখলমুক্ত করেন। পরে সেখানে বালু-মাটি ভরাট করে স্থানীয় প্রবাসী ও সরকারি বরাদ্দে এক হাজার ৫০ বর্গফুটের একটি টিন নশেড ঘর নির্মাণ করেন। সেখানেই শুরু করেন সাব -রেজিষ্ট্রার অফিসের কার্যক্রম। নবনির্মিত সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ-ফলজ গাছের চারা রোপণ করেছেন সাব রেজিষ্ট্রার প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। সাব-রেজিষ্টার প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী জনগণের দেয়া ট্যাক্স থেকে আমার বেতন হয়। জনগণের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে অফিস নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক ঝুঁকিঝামেলা পোহাতে হয়েছে এবং হুমকি-ধামকি শুনতে হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু লোকের সহযোগিতায় এই কাজ করতে পেরেছি। তিনি বলেন , আমি একজন মাধ্যমিক স্কুলের বিএসসি শিক্ষকের সন্তান। আমার বাবা প্রফুল্ল­ কুমার বিশ্বাস যে মানের ছাত্র ছিলেন ইচ্ছে করলে তখন বড় আমলা হতে পারতেন। ১৯৬১ সালে তিনি মেট্রিকুলেশনে ১ম বিভাগে পাশ করেন যা শুধু আমার নিজ উপজেলা টুংগিপাড়াই নয় আশেপাশের জেলাগুলোতেও বিরল। শুনেছি বাবাকে ওই সময়ে আশেপাশের অনেক এলাকা থেকে দেখতে এসেছিলো। আমি জিটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়( টুংগিপাড়া) এর ফার্সট বয় ছিলাম। ৮০% নম্বর পেয়ে এসএসসি পাশ করেছি। আমার একমাত্র ছোটভাই স্বপন কুমার বিশ্বাস সে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সহকারী পরিচালক । সেও মানবিক বিভাগ হতে ৭৮৬ নম্বর পেয়ে গোপালগঞ্জের মধ্যে প্রথম হয়েছিলো। আমাদের দু’ভাইকে তো কেউ দেখতে আসেনি। আমার বাবা বিএসসিতেও প্রথম শ্রেণিতে পাশ করেন। কিন্তু সম্পদের প্রতি তার কোনও মোহ ছিলনা। আমাদের গ্রামের ছাত্রদের তিনি বিনা পয়সায় পড়াতেন। এমন কি তার অবসরে যাবার পরও আমাদের বাড়ির পাশে নব নির্মিত শেখ আবু নাসের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনা পয়সায় গণিত, পদার্থ ও রসায়ন পড়াতেন। তিনি সে স্কুলের বিদ্যুৎসাহী ও ছিলেন।সংসদে চাকরি হওয়ার আগে আমার ছোটভাই গোপালগঞ্জে এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলো। পরে ৩০ তম বিসিএস দিয়ে সংসদ সচিবালয়ে আছে। শিক্ষক থাকাকালীন সেও এই স্কুলে অনেক শ্রম দিছে।মানুষের ভালো করার ইচ্ছা থাকলেই করা সম্ভব। জনগন ভোগান্তি কমানোর জন্য কি পরিকল্পনা রয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে মুল দলিল ফেরত পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো , এখন মাত্র ৩-৫মাসের মধ্যে তাদের মুল দলিল পাচ্ছেন । তাছাড়া ৫২ ধারার রশিদে জেলা রেজিষ্টারের অনুমতি নিয়ে এক সিল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেখানে অফিসের একটা মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে জনগন তাদের প্রয়োজনে কথা বলতে পারে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর