× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

বিতর্কিত শিফট পদ্ধতিতে আটকে যাচ্ছে মেধা জাবিতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে বৈষম্য

দেশ বিদেশ

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন, জাবি থেকে | ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৪১

বিগত বছরের ন্যায় এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা ‘বিতর্কিত’ শিফট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন অনুষদের শিফটভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এর প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে জালিয়াতি রোধ এবং অধিক শিক্ষার্থীর জায়গা সঙ্কুলান করতে শিফটের বিকল্প দেখছে না প্রশাসন। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, বিকল্প থাকলেও সেদিকে চিন্তা করছে না প্রশাসন।
অনুসন্ধানে ‘এ ইউনিট’ গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই দিনে আট শিফটে এই ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ছেলেদের ২৩৫ এবং মেয়েদের ১৭৫ টি আসনের বিপরীতে ১০ গুণ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের শীর্ষ ১০০ জনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছাত্রদের ৪৭ জনই এসেছে প্রথম দিনের ২য় শিফট থেকে। আর দ্বিতীয় দিনের ৩য় শিফট থেকে মাত্র একজন।
বাকি ছয় শিফট মিলিয়ে এসেছে ৫১ জন। একই ভাবে ছাত্রীদের ৪৭ জন এসেছে প্রথম দিনের ২য় শিফট থেকে। আর প্রথম দিনের ৩য় শিফট থেকে মাত্র দুইজন এবং দ্বিতীয় দিনের ৩য় শিফট (ইংরেজি  মাধ্যম) থেকে কেউ আসেনি।
‘ডি ইউনিট’ জীববিজ্ঞান অনুষদেও দুইদিন মিলিয়ে নয় শিফটে পরীক্ষা হয়। এই ইউনিটের ছাত্র ও ছাত্রীদের শীর্ষ ১০০ জনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথম দিনের ৫ম শিফট থেকে এসেছে  ৩৮ জন। অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনের ১ম ও ২য় শিফট থেকে যথাক্রমে চার ও দুইজন স্থান পেয়েছে। ছাত্রীদের প্রথম দিনের পাঁচ শিফট থেকে ৭৯ জন স্থান পেলেও দ্বিতীয় দিনের চার শিফট মিলিয়ে মাত্র সাত জন স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৪র্থ শিফট (ইংরেজি মাধ্যম) থেকে কেউ আসেনি।
‘বি’ ইউনিটের  ছাত্র ও ছাত্রীদের শীর্ষ ৫০ জনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছাত্রদের সর্বোচ্চ ২৬ জন এসেছেন ৪র্থ শিফট থেকে। আর ২য় শিফট থেকে স্থান পেয়েছে মাত্র দুই জন। বাকি চারটি শিফট থেকে ২৪ জন স্থান পেয়েছে। একইভাবে ছাত্রীদেরও সর্বোচ্চ ২২ জন চতুর্থ শিফট থেকে এসেছে। আর ২য় শিফট থেকে স্থান পেয়েছে মাত্র তিনজন। বাকি ২৮ জন স্থান পেয়েছে অন্য চারটি শিফট থেকে।
‘সি ইউনিট’ কলা মানবিকী অনুষদে ছয় শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ভাবে ফলাফল প্রকাশ করা সহ বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, মাদরাসা-কারিগরি এই চার শ্রেণিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে, বিজ্ঞান শাখা (ছাত্র ও ছাত্রী) ৭৯ করে আসন রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের সর্বোচ্চ ৩২ জন এসেছে ১ম শিফট থেকে। ৪র্থ এবং ৫ম শিফট থেকে এসেছে যথাক্রমে এক এবং ছয়জন। বাকি তিন শিফট থেকে স্থান পেয়েছে ৫০ জন। ছাত্রীদেরও সর্বোচ্চ ৩৪ জন এসেছে ১ম শিফট থেকে। ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম শিফট থেকে এসেছে যথাক্রমে চার, শূন্য এবং তিনজন।
মানবিক শাখা (ছাত্র ও ছাত্রী) ৮০টি করে আসন রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের সর্বোচ্চ ২৪ জন স্থান পেয়েছে ১ম শিফট এবং ৬ষ্ঠ শিফট থেকে ২১ জন স্থান পেয়েছে। ৪র্থ এবং ৫ম শিফট থেকে স্থান পেয়েছে যথাক্রমে এক এবং চারজন। বাকি দুই শিফট মিলিয়ে স্থান পেয়েছে ৩০ জন। ছাত্রীদেরও সর্বোচ্চ ৩৪ জন স্থান পেয়েছে ১ম শিফট থেকে। ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম শিফট থেকে স্থান পেয়েছে যথাক্রমে ছয়, তিন এবং দুইজন। বাকি দুই শিফট থেকে স্থান পেয়েছে ৩৫ জন।
এক শিফটে কঠিন ও এক শিফটে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রশ্ন হওয়ায় এমন বৈষম্য হয়েছে দাবি করছেন ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকরা। ‘বিতর্কিত’ শিফট পদ্ধতি ও ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে মেধার অবমূল্যায়নের আশংকা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়।  এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এম এ মতিন বলেন, ‘চলমান শিফট পদ্ধতিতে একজন শিক্ষককে কয়েকটি শিফটের কয়েকগুণ প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয়। যা একজন মানুষের পক্ষে একই মানসম্পন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।’ এই সমস্যা থেকে উত্তরণে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আশেপাশের স্কুল-কলেজে পরীক্ষা নিলে একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া যাবে।’ তবে প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নূরুল আলম বলেন, বাইরের কেন্দ্রে পরীক্ষা নিলে জালিয়াতির অধিক্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ভর্তি পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মোঃ হাসিবুর রহমান
১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৭:৫৬

এটি একটি উদ্ভট পরীক্ষা পদ্ধতি। নয়টি আলাদা প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরিক্ষার মত প্রতিযোগিতামুলক একটি পরীক্ষার আয়োজনের মত কান্ডজ্ঞানহীন, ও হাস্যকর পদ্ধতি সিন্দাবাদের ভুতের মত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাধে চেপে বসেছে। ভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রতিযোগিতামুলক পরিক্ষার আয়োজনের জন্য কোন অজুহাতই গ্রহনযোগ্য নয়। আগামী বছরের ভর্তি পরিক্ষাকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিকল্প চিন্তা শুরু করতে হবে। নতুবা একদিন না একদিন এই উদ্ভট পদ্ধতির পতন ঘঠবেই । কিন্তু তা হবে বিশ্ববিদ্দালয়ের জন্য অনেক অসম্মানজনক ঘটনার অবতারনাত মধ্য দিয়ে।

অন্যান্য খবর