× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
টেলিভিশন মালিকদের প্রধানমন্ত্রী

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব পালন করুন

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৮

মুনাফার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষামূলক সমপ্রচারে মনোনিবেশ করতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এসেসিয়েশন অব প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটিসিও)-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি আমরা দেশকে যে কোনো অপশক্তির কবল থেকে দূরে রাখতে চাই। গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়ার বিকাশে ভূমিকা রেখে এক্ষেত্রে কার্যকরী অবদান রাখতে পারে।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রভৃতি ক্ষেত্রে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ভূমিকা রাখেতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব চ্যানেলে এই সব অনুষ্ঠান বেশি বেশি সমপ্রচার করা হলে মানুষের নানা বদ অভ্যাসেরও পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, যত বেশি এগুলোর সমপ্রচার হচ্ছে মানুষের মধ্যেও পরিবর্তন আসছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি। এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম উপস্থিত ছিলেন।
এটিসিও’র চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, পরিচালক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল বাবু এবং ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নাজমুল হাসান পাপন এমপি এ সময় এটিসিও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, তথ্য সচিব আবদুুল মালেক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে যেন কোনো অশুভ কাজ না হয়, সমাজটা যেন সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে, সমাজকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং মানুষের শিক্ষা-দীক্ষা সেটা যেন আরো বিকশিত হতে পারে। আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাটা যেন আরো বিকশিত হয়, সাহিত্য চর্চাটা বিকশিত হয়, সেইসঙ্গে আমাদের খেলাধুলা বিকশিত হতে পারে যেটা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র গঠনসহ সবদিক থেকে সহযোগিতা করবে। এসব বিষয় আপনারা আপনাদের টেলিভিশনে সমপ্রচার করবেন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস বিশ্বব্যাপীই একটা সমস্যা। যদিও এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে এই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এর উপর সারাক্ষণ আমাদের নজরদারি রাখতে হচ্ছে কোথাও যেন কোনোরকম এটা মানুষের ক্ষতি করতে না পারে। দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নয়ন করতে হলে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা অপরিহার্য। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগে উন্নীত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটা এত সহজ কাজ নয়, এজন্য কিন্তু আমাদের শ্রম দিতে হয়েছে, খাটতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দেখানো পথেই সরকার ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়নেই দেশের উন্নতি সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রবৃদ্ধি যেমন বাড়িয়েছি তেমনি মূল্যস্ফীতি দু’অংকের ঘর থেকে ৫ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি। যখন মূল্যস্ফীতি কম থাকে এবং উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় তখন এর সুফলটা গ্রামের সাধারণ মানুষ পায়, যেটি এখন পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দারিদ্র্য প্রায় ৪০ ভাগের ওপর থেকে ২১ ভাগে নামিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের লক্ষ্য আরো বেশি, এটিকে ১৪, ১৫ বা ১৬ ভাগে নামিয়ে আনা। এ সময় তার সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে হত দরিদ্রের হারও ২২ ভাগ থেকে ১১ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নটা যদি না হতো তাহলে আপনাদের এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল কিন্তু মানুষ দেখতো না। এখন গ্রামের ঘরে ঘরে টেলিভিশন রয়েছে। হাটে-বাজারে জনগণ টেলিভিশন দেখছে। কারণ, পেটে ভাত আছে, তারা কাজের সুযোগ পাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে তারা স্বাবলম্বী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে একে ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা এই অর্জনগুলো ধরে রাখতে পারলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতিটা স্থায়িত্ব লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারপরেও আমরা যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে করে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারবো বলেই মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করে বলেন, জনসংখ্যা আমাদের বোঝা নয়, সম্পদ এবং তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা এই ডেল্টা পরিকল্পনাটা হাতে নিয়েছি। বিনামূল্যে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বই বিতরণ, বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান, স্কুল-কলেজ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণসহ শিক্ষা সমপ্রসারণে তার সরকারের উদ্যোগও এ সময় প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তার সরকার গবেষণার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে বলেই বর্তমানের বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ’৯৬ পরবর্তী তাঁর সরকারের বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সে কারণেই তার সরকার এখন ৪১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে অনুমতি প্রদান করেছে এবং ৩০টি চ্যানেল এখন সমপ্রচারে রয়েছে।

টিভি চ্যানেলগুলোর মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার এই কথাটা সবার কাছে পৌঁছে দেবেন যে, মানুষকে একটা কথা চিন্তা করতে হবে- সবকিছুতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা কতটুকু কী করতে পারলাম, নিজেরা কী করলাম, দেশের জন্য এবং নিজের জন্য কী করতে পারি বা যে এলাকায় বসবাস করি সে এলাকার জন্য কী করতে পারি, এলাকার মানুষের জন্য কী করতে পারি সে চিন্তাটাও মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের ভেতর একটা আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে, আমাদের নিজেদের কাজ নিজেরা করবো এবং নিজেদের করার মতো সেই দক্ষতাও আমরা অর্জন করবো। শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশের উন্নয়ন করবো। আমি মনে করি এই চিন্তাটা দেশের মানুষের মধ্যে থাকতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে- প্রধানমন্ত্রী এটিসিও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচিত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট -২০১৮’ নিয়ে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি কোনো বাধার সৃষ্টি করবে না। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। প্রেস সচিব বলেন, এটিসিও নেতৃবৃন্দ এ সময় অনলাইন মিডিয়াগুলোকে একটি জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাগিদ দেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর