× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

কালীগঞ্জ আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব

বাংলারজমিন

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ৮:৪৩

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নকে ঘিরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শহীদ ময়েজ উদ্দিন আহমেদের স্মরণসভায় এই বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ওই ঘটনার পর মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামানের পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা বেড়েছে। গত ১০ বছর ধরে নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তেমন একটা সম্পৃক্ত না থাকলেও আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে আখতারুজ্জামানের এলাকায় নির্বাচনী সংযোগ বা শো-ডাউনকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীরা। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে ও দলে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নসহ নানা ক্ষেত্রেই দেখা গেছে তাদের এই দ্বন্দ্ব । জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী গণসংযোগে রয়েছেন। সাবেক এই এমপি এবার আবারো  মনোনয়ন পেয়ে এলাকাবাসীর সেবা করতে চান এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে, উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে তার অনুসারীদের নিয়ে গণসংযোগ ও  সভা করছেন সিডিউল করে। কিন্তু গত দশ বছর ধরে এই এলাকার দলীয় তেমন কোনো কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিল না।
প্রতি বছর শহীদ ময়েজ উদ্দীনের স্মরণসভা ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর কোনো সভাসমাবেশেও উপস্থিত ছিলেন না তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় তার গণসংযোগ ও শো-ডাউন এসবকে ভালোভাবে নিতে পারেননি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকির সমর্থকরা। এছাড়াও গত ইউপি নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হওয়া আবার জোর খাটিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে পরাজিত করা, দলের কমিটিতে স্থান পাওয়া-না পাওয়া, এসব বিষয় নিয়েই ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব ছিল ওই দুজন নেতা কেন্দ্রিক এক শ্রেণির অনুসারীদের মধ্যে। সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পক্ষের বাইরের লোকজন এতদিন শোডাউনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি। সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই জানান দেয়া শুরু করে এমপি’র বিরোধী পক্ষ। তাদের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত ৮ই সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের চুপাইর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, শহীদ ময়েজ উদ্দিন আহমেদের ৩৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায়। কেন্দ্রীয় নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের উপস্থিতিতে সভা শুরু হওয়ার আগে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন রক্তাক্ত হয়। তাদের হাসপাতালেও নেয়া হয়। আবারো রক্তাক্ত ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা মাথায় রেখেই আখতারুজ্জামানের পক্ষের লোকজন কিছুটা থেমে আছেন তাদের নির্বাচন কেন্দ্রিক পরবর্তী নানা কর্মকাণ্ড থেকে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের সমর্থনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা দু’টি গ্রুপে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে গত ইউপি নির্বাচনে এর প্রকাশ ঘটে মেহের আফরোজ চুমকির অনুসারীদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হন। যারা এলাকায় আখতারুজ্জামানের অনুসারী বলে প্রকাশ পায়। উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্র নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ বলেন, ওই দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য চুমকি আপা কিংবা আখতার ভাই, কারো কোনো ধরনের উসকানি বা আগ্রহ ছিল না। অতি উৎসাহী কিছু লোকজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান তুলে বা সভাস্থলে অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে ঘটনাটিতে জড়িয়ে যায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর