× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

ফকিন্নি বাজার

ষোলো আনা

সাদ ইসলাম সামস | ১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ৮:৫২

অনেক বাজারের নামই তো শুনেছেন! কিন্তু ফকিন্নি বাজারের নাম শুনেছেন কখনো? স্বল্পমূল্যে তরিতরকারি ও নিম্নবিত্ত মানুষরা এখানে বাজার করে বলে এই বাজারের নাম ফকিন্নি বাজার। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তেজকুনীপাড়া সংলগ্ন ফ্লাইওভার ব্রিজের নিচেই এই বাজার। আকারে ছোটো হলেও বিক্রেতার অভাব নেই এই বাজারে। তরিতরকারিসহ মাছ বিক্রি হয় এ বাজারে। বাজারে আলুর কেজি ৩০ টাকা হলেও এই বাজারে মেলে ১৮-২০ টাকায়। সিম বাজারে ৮০ টাকা এখানে ৪০ টাকা। ঢেড়স ৪০ টাকা এখানে ২০ টাকা। এরকমই প্রায় অর্ধেক দামে মেলে তরকারি।

কাওরান বাজারের পাইকাররা সারারাত মাল বিক্রি করে যে মাল অবশিষ্ট রাখে সে মালগুলোই পাল্লা দরে কিনে আনে এ বাজারের বিক্রেতারা।
এসব তরিতরকারি প্রায় ৩০ শতাংশই থাকে থেতলানো অথবা নষ্ট। তবুও হরদম এরকম তরিতরকারি কিনছে মানুষ, শুধু স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় বলে। আর এ বাজারের ক্রেতা নিম্নবিত্তরাই বেশি। তবে বিক্রেতাদের দাবি নিম্নবিত্তর পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখানে বাজার করে। ৩০ বছরের পুরোনো এই বাজারটি বসে সকাল ৮টার দিকে। বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রায় ৫০টির মতো ছোটো ছোটো দোকান। তারা সবাই মাটিতেই দোকান সাজিয়েছে।

শাহনাজ বেগম (৫৫) এই বাজারের বিক্রেতা। তিনি বলেন, ভোর ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই কাওরান বাজার যাই। তারপর পাইকারগো কাছ থেকে অবশিষ্ট মালগুলা পাল্লা হিসাবে কিনি। আগে এসব থেঁতলানো ও নষ্ট মালগুলো পাইকাররা এমনিতেই দিয়া দিলেও এখন তা পাল্লা হিসাবে কিনতে হয়। তবুও মাল কম দামেই পাওয়া যায়। এ বাজারের ক্রেতা কারা? তা জানতে চাইলে শাহনাজ বেগম বলেন, যারা দিন আনে দিন খায় তারাই এ বাজারের ক্রেতা। তবে মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাট বাড়ির মানুষও আসে।

ফকিন্নি বাজারের পাশের বাজারটিও ফকিন্নি বাজার নামে পরিচিত। তবে এই বাজারের শাকসবজি তরকারিগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। শারমিন বেগম (৩০) স্থানীয় বাসিন্দা। বাড়ি ফকিন্নি বাজারের পাশেই। নিয়মিত আসেন এ বাজারে। তিনি বলেন, কমদামে তরকারি পাওয়া যায় আর বাইছা নিলে একটু ভালো তরকারিও পাওয়া যায়।

তরিতরকারির দাম যখন নিম্নবিত্ত মানুষদের নাগালের বাইরে তখন এই ফকিন্নি বাজারই এসব নিম্নবিত্ত মানুষদের শেষ ভরসা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর