× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

‘স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট’

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ৯:১০

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ‘স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বুধবার যে সাজা দেয়া হয়েছে তা স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট। বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্যই সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা পূরণে এই রায়। এই রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এজন্য যে, একতরফা নির্বাচন করার জন্য এই রায় একটি কারসাজি। গতকাল দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে কি নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনাদের আগেই জানিয়েছি। হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূরক জবানবন্দি নেয়া হয়েছিল। মুফতি হান্নান এমন দাবি করে বলেছিলেন, ‘ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডি’র লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে।’ ২০১১ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিনের কাছে এই আবেদন করেছিলেন হরকাতুল জেহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান।
এ বিষয়ে ২০১১ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায়- ‘সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের’- শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে- ‘২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি হান্নান।’ রিজভী বলেন, মুফতি হান্নান স্বেচ্ছায় আদালতে এ ধরনের কোনো জবানবন্দি দেননি বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন। সুতরাং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই কারো ইচ্ছা পূরণে বুধবার এই রায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিভাবে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ। রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বন্দুকের জোরে তাড়িয়ে দেয়া এবং সঠিক বিচার করতে গিয়ে জেলা জজ মোতাহার হোসেনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। সুতরাং বুধবার নিম্ন আদালত যদি সঠিক রায় দিতো তাহলে তাকেও দুর্ভাগ্য বরণ করতে হতো। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, লক্ষ্মীপুরে এডভোকেট নুরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে খুন করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তথ্য মতে, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশেষ ক্ষমতায় প্রায় ৬ হাজারের মতো ভয়ঙ্কর আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সরকার এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বিচার প্রক্রিয়া দুষ্টকে পালন করারই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই যতদিন এই ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ ন্যায়বিচার পাবে না বলেই জনগণ মনে করে। এ সময় সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, ৯ই অক্টোবর রাতে কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, আবদুল্লাহপুর, শুভাড্যাতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকানপাট, বাড়ি-ঘরে ব্যাপক হামলা চালায়। পরে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণে) এখন ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, মতিঝিল থানা বিএনপি নেতা হাসিবুর রহমান মান্নু, পল্টন বিএনপি নেতা মাখি আলম ও মো. মনা, সরকারি কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল নেতা খন্দকার ইরফান আহমেদ ফাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নেত্রকোনা জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়ারেশ উদ্দিন কারাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ মুন্নাসহ ১০ জন, মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, সৈয়দপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু সরকারসহ ৪ জন, বরিশাল মহানগর যুবদল সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ যুবদল সহ-সভাপতি সিরাজ ও মহিউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা যুবদলের সভাপতি আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগরে গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানীর মতিঝিল, বংশাল, মুগদা, গেণ্ডারিয়া, খিলগাঁও, ডেমরা, শ্যামপুরসহ অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পল্টন মোড় থেকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা ওমর ফারুক সেলিম গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ যুবদল নেতা মশিউর রহমান, ভোলার দক্ষিণ আইশা থানার ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম, দুলারহাট থানা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ভোলায় ৪টি মিথ্যা মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রিজভী জানান, সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক আকম রফিকুল ইসলামকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নওগাঁ জেলাধীন ধামইরহাট উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সালেহ আহমেদ কাঞ্চন, লালমনিরহাটের সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নুরুল ইসলাম প্রধান, হাতীবান্ধা উপজেলা নেতা খন্দকার মো. নূর নবী কাজল ও সাতক্ষীরার সদর উপজেলা নেতা ইসমাইল হোসেন নীরবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি আবু ইয়াহিয়া ইউনুস আহমেদ, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানের চট্টগ্রামের বাসায় তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকান-পাট, বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে উল্টো তাদের (বিএনপি নেতাকর্মী) নামেই যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে তার প্রতিবাদ ও অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান রিজভী। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, সাংগঠনিক সহ-সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও দপ্তর সহ-সম্পাদক মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর