× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা রম্য অদম্য
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দল ঘোষণা

৩০-এ স্বপ্নপূরণ রাব্বির

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ১০:০৩

২০০৪ থেকে জাতীয় ক্রিকেট লীগে বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলছেন ফজলে রাব্বি মাহমুদ। এতদিন জাতীয় দলে ডাক না পেলেও হাল ছাড়েননি। এরই মধ্যে ৬৮ প্রথম শ্রেণি ও ৮০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন। বয়সটা পা রেখেছে ৩০ এ। বলতে গেলে ১২ বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই ব্যাটসম্যান। অবশেষে স্বপ্ন পূরণের ডাক এসেছে। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলের একমাত্র নতুন মুখ তিনি। এমন সংবাদে ভীষণ খুশি ফজলে রাব্বি।
দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে, এতদিনের কষ্টের ফল পেতে যাচ্ছি বলেই মনে হয়। যদি সুযোগ পাই একাদশে খেলার অবশ্য চেষ্টা থাকবে ভালো কিছু উপহার  দেয়ার। আর বয়সের কথা বললে বলবো এখনই সময় নিজের সেরাটা দেয়ার। দলের জন্য যে কোনো পজিশনে খেলার জন্য প্রস্তুত আছি।’ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দলে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল থাকবেন না তা সবারই জানা ছিল। এশিয়া কাপে দলে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অফ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন। আসরের মাঝামাঝি দলের সঙ্গে যোগ দেয়া সৌম্য সরকারের ওপরও আস্থা রাখতে পারেনি দল। কিন্তু তিন ম্যাচে সুযোগ পেয়ে চরম ব্যর্থ তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তর উপর রাখা হয়েছে আস্থা। সেই সঙ্গে দলে ফেরানো হয়েছে তরুণ পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে। বলতে গেলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তারুণ্যের শক্তির ওপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা।
সাকিব ও তামিম গুরুতর ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। সেই সঙ্গে দলের তিন সিনিয়র খেলোয়াড় মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীমও ছিলেন ইনজুরিতে। তাই ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলে পরিবর্তন আসবে তা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বলেছিলেন পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে দলে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে হারলে র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় প্রভাব পড়বে। সে কারণেই বেশি ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রধান নির্বাচক। দলে সেই প্রতিফলনই ঘটেছে। ইনজুরি থাকলেও আছেন মাশরাফি, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। এছাড়া দলে রাখা হয়েছে পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকেও। আছেন এশিয়া কাপে নিজেকে ফিরে পাওয়া লিটন কুমার দাস। ইমরুল কায়েসের ওপরও রাখা হয়েছে আস্থা। দারুণ খেলা মোহাম্মদ মিঠুনতো আছেনই। এশিয়া কাপে দলে থাকা আরিফুল হক একটি ম্যাচ না খেললেও তাকে ফের সুযোগ দেয়া হয়েছে এই সিরিজে। দলে আছেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু, পেসার আবু হায়দার রনি ও অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন।
অন্যদিকে আবারো সুযোগ দেয়া হয়েছে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে। ২০১৭ তে শ্রীলঙ্কার মাটিতে তার অভিষেক হয়। এরপর দলের হয়ে খেলেন মাত্র ৩ ম্যাচ। যার শেষটি এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে। তিন ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলেন এ পেসার। যতটা আশা ছিল তাকে নিয়ে সেটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে নির্বাচকরা তাকে আরো একবার পরীক্ষা নিয়ে দেখতে চায়। এছাড়াও নতুন মুখ রাব্বি চলতি জাতীয় ক্রিকেট লীগে ব্যাট হাতে দারুণ খেলছিলেন। রংপুরের বিপক্ষে খেলেন ১৯৫ রানের দারুণ ইনিংস। মাত্র ৫ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও তার বিশ্বাস এমন ব্যাটিংয়েই বেড়েছে মনের জোর। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মাত্র ৫ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারিনি। কিন্তু রানতো রানই সেটি যেখানেই হোক এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আশা করি একাদশে সুযোগ পেলে সেটি কাজে লাগাতে পারবো।’ তবে জাতীয় দলে পরিবর্তন হতে পারে ব্যাটিং পজিশনেও। এতে তার খেলায় কোনো সমস্যা হবে না বলেই বিশ্বাস ফজলে মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমি এনসিএল বলেন আর লিস্ট ‘এ’ পজিশনের কথা ভাবিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমার যে কোনো পজিশনে খেলার অভ্যাস আছে। তাই চিন্তা করছি না পজিশন নিয়ে। সুযোগ পেলে রান করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।
জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই ব্যর্থতায় নুইয়ে পড়েছিলেন লিটন কুমার দাস। ১৭ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসেনি একটি ফিফটিও। কিন্তু এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে শুধু সেঞ্চুরিই করেননি, খেলেছেন ১২০ রানের দারুণ এক ইনিংস। চলতি এনসিএলেও রেকর্ড ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন রেকর্ড গড়ে। কিন্তু তামিম না থাকায় লিটনের ওপেনিং পার্টনার কে হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। এশিয়া কাপে শান্ত তিন ম্যাচ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। তাই ফাইনাল ম্যাচে মিরাজকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে জুয়া খেলা হয়। সেই বাজিতে সফলও হয় দল। কিন্তু প্রতিদিন জুয়াতে যে জেতা যায় না! তাই হয়তো ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে ইমরুলকে। আর শান্ত সুযোগ পেলে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে লিটনের মতই নিজেকে প্রমাণ করার। আগামী ১৬ই অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা জিম্বাবুয়ে দলের। ২১শে অক্টোবর মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে খেলবে সিরিজে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর ২৪ ও ২৬শে অক্টোবর শেষ দুটি ম্যাচ খেলবে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশ দল
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ,  মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ফজলে রাব্বি মাহমুদ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর