× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অ্যাকশন শুরু

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ১০:১১

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটনের পল্টন থানায়। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আটক পাঁচ জনকে আসামি করে এই মামলা করে সিআইডি। সিআইডি জানিয়েছে, নতুন এই আইনে এটি প্রথম মামলা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই আইনে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সদস্য। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তারা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করতো।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে না পারলেও  প্রশ্ন দেয়ার নামে চক্রটি প্রতারণা করতো বলে দাবি করেছে সিআইডি। বাজারে বিক্রির বিভিন্ন সাজেশন বই থেকে নিজে প্রশ্ন বাছাই করে অনলাইনে গ্রুপে প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ  থেকে অর্থ আদায় করতো। এভাবে তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রতারণামূলক কাজ করছিল।

সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, এই প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারণা চক্রের মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কাউসার জানিয়েছে, নিজেদের মতো করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে সেগুলো  ফেসবুকে বিভিন্ন ফেইক আইডির মাধ্যমে শতভাগ কমনের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করতো। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করতো তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সোহেল মিয়া অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো।

তারা ১০টি ফেইক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে এমন প্রচারণা চালাতো। প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতো। জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির কাছে কাউসার গাজী জানিয়েছে,  প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহীদের নিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, হোয়াটস্‌অ্যাপে গ্রুপ তৈরি করতো। এসব গ্রুপে প্রশ্ন বিক্রির প্রচারণা চালাতো। আগ্রহীদের কাছ থেকে টাকা পেলে প্রশ্ন দেয়া হতো অনলাইনের মাধ্যমেই।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দনিয়া এলাকার কাজলার পাড়ের মৃধা টেলিকম থেকে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইলফোন এবং বিকাশ সিম রেজিস্ট্রেশন করার খাতা জব্দ করা হয়। একই দিন রাত ৯টার দিকে বাড্ডার আলিফনগর এলাকা থেকে আরো  তিনজনকে তিনটি মোবাইল ও দুটি ল্যাপটপসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ যুবক হচ্ছে, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার কাউসার গাজী, চাঁদপুর মতলবের সোহেল মিয়া, মাদারীপুরের কালকিনির তারিকুল ইসলাম শোভন, নওগাঁ পত্নীতলার রুবাইয়াত তানভির আদিত্য, টাঙ্গাইল কালিহাতীর মাসুদুর রহমান ইমন।

এ ঘটনায় সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে  বুধবার মামলা  করেন। গতকাল গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে সিআইডি। আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি এই চক্রের অন্য সদস্যকেও  গ্রেপ্তার করতে পারবো। সিআইডি এই বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর