× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

নায়লা নাঈমের অন্যরকম শখ

ষোলো আনা

প্রীতম সাহা ও ফাহিম দেওয়ান | ২ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৯:৩৩

ভার্চুয়াল মিডিয়ায় মডেল হিসেবে খ্যাতি। তারপর শোবিজ অঙ্গনে ধীরে ধীরে প্রবেশ। আলোচনা-সমালোচনা মিলে তার পরিচিতি সর্বত্র। মডেল, অভিনেত্রীর তকমার বাইরে একজন দন্ত চিকিৎসকও তিনি। বলা হচ্ছে নায়লা নাঈমের কথা। তবে আজকের গল্পটা কিছুটা অন্যরকম।

গল্পটা শুরু হয় তার শৈশবেই। ৭ম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক গ্রীষ্মে নানা বাড়িতে যান।  সেখানে একদিন দেখতে পান একটি চিল হাঁসের বাচ্চাকে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো ধরতে না পারায় বাচ্চা হাঁসটি নিচে পড়ে যায় ও ভাঙে পা।
চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে নিজের মনুষ্যত্বের কপাটে কড়া নাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে চিলের হাত থেকে বাচ্চা হাঁসকে বাঁচিয়ে তার সেবা করতে থাকেন। আর সেখান  থেকেই শুরু হয় তার জীবনের নতুন লক্ষ্য। এরপর থেকে রাস্তায় অবহেলিত কোনো পশু বা পাখি দেখলেই নায়লার মনে হাহাকার শুরু হয়। প্রাণীটিকে একটু ভালোবাসার আশ্রয় দিতে অন্তর্দহন শুরু হয় নিজের  ভেতর। তাই গত ১২ বছর ধরে অবহেলিত অথবা পঙ্গু কোনো পশু-পাখি দেখলেই তিনি তাদেরকে নিজের করে নেন। তাদের সেবা করে সুস্থ করে  তোলেন।

এ প্রসঙ্গে নায়লা বলেন, আমি গত ১০-১২ বছর ধরেই এমনটা করছি। রাস্তায় কোনো কুকুর বা বিড়ালকে অসহায় অবস্থায়  দেখলে নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। এমন অনেক সময় হয়েছে, একটা বিড়ালের পা ভাঙা, ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না, তাকে আমি বাসায় নিয়ে আসতাম। সুস্থ করার জন্য জীবনপণ চেষ্টা করতাম। এখনো আমার বাসায় প্রচুর বিড়াল আছে অসুস্থ। কিন্তু তাই বলে তো তাকে আমরা এভাবে বাসার বাইরে রাখতে পারি না, তাই না? মানুষ তো তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে পারে। কিন্তু এসব প্রাণী তো সেটাও পারে না। আমরা যদি না এগিয়ে আসি তবে কারা আসবে?

তবে নিজস্ব কোনো সংগঠন না থাকায় কুকুরদের বাসায় আনতে পারেন না। তবে তাদেরও একটা ব্যবস্থা ঠিকই করে দেন। কোনো এলাকায় বা গলিতে কোনো কুকুরকে দেখাশোনার জন্য সেই এলাকার চায়ের দোকানদার অথবা মুদি দোকানদারকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। প্রায় সময়েই নিজে গিয়ে অসুস্থ কুকুরদের খাবার খাওয়ান। কখনো ব্যস্ত থাকলে তার সহকারীকেও পাঠিয়ে খোঁজ  নেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রায় সময়েই হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কুকুর এবং বিড়ালের চেক আপ করান। আর এসব করেন শুধুমাত্র একক প্রচেষ্টায়। নিজের উপার্জনের সিংহভাগ অর্থই খরচ করেন এসব কুকুর-বিড়ালদের পিছনে।

নায়লা বলেন, আমি নিজ উদ্যোগেই এসব করি। মজা করে বলেন, যত টাকা এই ১২ বছরে কুকুর-বিড়ালদের সেবা করার পিছে খরচ করেছি, সেই টাকা জমালে এতদিনে দু’একটা বিএমডব্লিউ থাকতো আমার। তবে সুবিধা হয়েছে এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টারের হৃদির কারণে। আমি তো আর বাসায় কুকুর রাখতে পারি না। তাই কুকুরগুলোকে হৃদির শেল্টার হাউজেই রাখি। আর দিন যত যাচ্ছে আমার বাসায় বিড়ালের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। প্রতিবেশীদের কটু কথার জের আর সহ্য হয় না। তাই এখন অনেক বিড়ালকে ওই শেল্টারে রেখে আসি। যদি কেউ দত্তক নিতে চায় এই জন্য। আমার কাছ থেকে অনেকেই দত্তক নিয়েছে। আবার তার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ফেরত দিয়ে  গেছে। কারণ শুনতে হয়েছে অভিভাবকের বকা। আবার দত্তক নেয়া বিড়ালকে দেখতে গিয়ে দেখেছি কি নির্যাতন করেছে ওই অবলা প্রাণীকে। দুইদিন ধরে না খাইয়ে রেখেছে। তাই এখন আর কাউকে দত্তক দিতে ভরসা পাই না। আমার সৌভাগ্য যে, আমার মা এক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা এবং উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা দ্বিপান্নিতা হৃদি জানান, নায়লার সঙ্গে আমি ৩ বছর ধরে কাজ করছি। ও কুকুর উদ্ধার করে আমাদের এখানে দিয়ে যায়। এখন ওর বাসায় বিড়ালের সংখ্যা অত্যধিক হয়ে যাওয়ায় মাঝে মধ্যে আমাদের শেল্টারে দিয়ে যায়।

বাংলাদেশে প্রথম রেজিস্ট্রেশনকৃত এই অ্যানিম্যাল শেল্টারের যাত্রা শুরু হয় বছর পাঁচেক আগে। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত এই শেল্টারে প্রতিমাসে গড়ে ৬০-৭০টি বিড়াল এবং ১৫-২০টি কুকুর অবস্থান করে। এদের দেখভালের যাবতীয় খরচ নিজ উদ্যোগেই বহন করতে হয়।

হৃদি জানান, কোনো সহযোগিতা পাই না। নিজের পকেট থেকেই সব করতে হয়। মাঝে মধ্যে কিছু ব্যক্তি এসব প্রাণীকে খাবারের জন্য কিছু টাকা দেয়। আবার কুকুর-বিড়ালের চেকআপ বা ভ্যাকসিনের জন্য কেয়ার ফর পস এবং পাওয়ার হেলথ থেকে কিছুটা ডিসকাউন্ট পাই। তবে বাকি ৭০-৮০ শতাংশ খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়। তারপরেও একটাই চাওয়া, মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ুক। মানুষ কুকুর-বিড়ালকেও একটা প্রাণী হিসেবে গণ্য করুক।

হৃদির মতো নায়লাও বলেন, মানুষের মাঝে যদি সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, তবে অনেক অবলা প্রাণ বেঁচে যাবে। আর আমাকে এ ধরনের কাজে সবসময়ই পাশে পাবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর