× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার

চার মাসে রপ্তানি আয় ১৩৬৫ কোটি ডলার

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৫০

কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। এদিকে গত অক্টোবর মাসে ৩৭১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩২ শতাংশ ও গত অর্থবছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ১১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ৯৪৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।
ইপিবির প্রতিবেদন মতে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ১৮ লাখ (১৩.৬৫ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। এই চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের এই চার মাসে আয় হয়েছিল ১  হাজার ১৫০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। অক্টোবরে ৩৭১ কোটি ১২ লাখ ডলার রপ্তানি আয় বাংলাদেশে এসেছে। এই মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের অক্টোবরে আয় হয়েছিল ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ হিসাবে অক্টোবর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৩২.৬৮ শতাংশ। আর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (মাসভিত্তিক) আয় বেড়েছে ৩০.৫৩ শতাংশ। খাতওয়ারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এ খাত থেকে। নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে ৫৮৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে ১৬.৯৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের তুলনায় এই চার মাসে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিতে ৫৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ।
ইপিবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের চার মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (৮০ দশমিক ৩৭ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি এসেছে কৃষিপণ্যে। এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে গত চার মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের চার মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এখান থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যদিও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। এই খাত থেকে এসেছে ২৮ কোটি ডলার। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কম আয় হয়েছে। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে কমেছে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এখান থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। আরো যেসব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে সেগুলো হলো- মাছ, গ্লাস ও জাহাজ। সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১ হাজার ২১২ কোটি ডলার।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমাদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। আমরা এখন বেশি দামের পোশাকও রপ্তানি করছি। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছি। সার্বিকভাবে সব কিছুই আমাদের অনুকূলে। সে কারণেই বাড়ছে রপ্তানি আয়। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর