× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
নি র্বা চ নী হা ল চা ল, পাবনা ১

বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট

শেষের পাতা

আলীউল ইসলাম অলি, সাঁথিয়া (পাবনা) থেকে | ৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:০০

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম সাঁথিয়া-বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন। গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ সমাজসেবামূলক  কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এ আসনের প্রতি দৃষ্টি গোটা দেশবাসীর। তাই এ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রার্থী বাছাই করে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-১ আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের গুজব।  কোনো কোনো নেতা বলছেন, তার মনোনয়ন নিশ্চিত। আবার কেউ কেউ এটাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের মনোনয়নের বিষয়ে কর্মীদের আশ্বস্ত করছেন। মনোনয়ন নিজেদের ঘরে আনতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক সংবাদ ভাইরাল করছেন তারা।
অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।
বলাবলি হচ্ছে জামায়েতের কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বার্তা পাওয়া মাত্রই মাঠে নামতে হবে মর্মে অবগত করা হয় নেতাকর্মীদের।

৩ লাখ ৭৪ হাজার ভোটারের এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতারা। স্বাধীনতার পর এ আসন থেকে যিনি বিজয়ী হয়েছেন তার দলই সরকার গঠন করেছে এবং নির্বাচিত প্রার্থী সরকারের মন্ত্রিত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ নৌকা প্রতীক  নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং পাবনার গভর্নর নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে মির্জা আবদুল হালিম নির্বাচিত হয়ে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব.) মনজুর কাদের নির্বাচিত হন।

১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব.) মনজুর কাদের নির্বাচিত হয়ে পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা মেজর (অব.) মনজুর কাদের নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ বিজয়ী হয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বিজয়ী হয়ে জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।  ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  অ্যাড. শামসুল হক টুকু নির্বাচিত হয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. শামসুল হক টুকু বিজয়ী হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা করছেন পথসভা, উঠোন  বৈঠক, মোটরসাইকেল শোডাউন, র‌্যালি এবং জনসভা। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ। সংস্কারপন্থি হওয়ায় গত দু’টি সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসনে মনোনয়ন পাননি। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুও মনোনয়ন পেতে আশাবাদী। এ আসনে আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন সাঁথিয়ার যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন। নিজাম উদ্দীন বলেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি আশাবাদী। এ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি শিল্পোদ্যোক্তা ওবায়দুল হক।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন সাঁথিয়া পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান  মরহুম মোজাম্মেল হক মাস্টারের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা মোশারফ হোসেন স্কাই। তিনি এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।  
এদিকে এ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী  মেজর (অব.) মনজুর কাদের। ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটগত কারণে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থেকে নির্বাচন করায় এবং গত তিনটি  নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় এখানে বিএনপির শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। বলা যায়, বিএনপি অনেকটা নেতৃত্ব সংকটেই রয়েছে। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশা করছেন তাঁতীদলের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ ইউনুস আলী। যিনি এলাকাতে হাজী ইউনুছ বলে পরিচিত। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সাঁথিয়া বিএনপির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী খায়রুন নাহার খানম মিরু ধানের শীষের মনোনয়নের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ  সম্পাদক বর্তমানে কারাবন্দি শামসুর রহমানও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। মহাজোটে থাকার কারণে গত দুই নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে কেউ প্রার্থী হননি। তবে এবার জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সরদার শাজাহানের নামও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে জামায়াতের আমীর ও সাবেক মন্ত্রী যুদ্ধাপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মমিনের নামও মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, যদি জোটগতভাবে নির্বাচন হয়, তাহলে পাবনা-১ আসন ছেড়ে দেবে ২০দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর জন্য। সে হিসেবে  নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মমিন প্রার্থী হবেন বলে তাদের  ধারণা। তবে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হওয়ার পর অনেকটাই বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Fuad
৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১২:২০

নাজিব মোমেনের জয় হোক।

অন্যান্য খবর