× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার
তিন ঘণ্টার সংলাপে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি

চার প্রস্তাবই নাকচ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:১১

দ্বিতীয় দফা সংলাপে টানা তিন ঘণ্টা আলোচনা করেছেন দু’পক্ষের নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে চার দফা প্রস্তাবসহ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয় সংলাপে। চার প্রস্তাবের মধ্যে ছিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন। তিন নম্বর প্রস্তাবের কয়েকটি উপ-ধারার প্রথমটি ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি।

এসব প্রস্তাব নিয়ে সংলাপে উভয় পক্ষের নেতারা যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি দেখান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবগুলো নাকচ করে দেয়া হয়। ১লা নভেম্বর প্রথম দফার সংলাপের সূত্র ধরে গতকাল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আলোচনা শেষে কোনো পক্ষই সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধানের তথ্য বা আলোচনার অগ্রগতির বিষয় জানাতে পারেননি।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে আরও আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাত দফা দাবি আদায়ে আলোচনা এবং আন্দোলন একই সঙ্গে চলবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া এ সংলাপ শেষ হয় দুপুর ২টার কিছু পরে। বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হয়। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে দাবি করেছে, তা মূলত নির্বাচন পেছানোর বাহানা। সংলাপে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা মানবজমিনেক জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপে গণভবনে এসে লিখিতভাবে ৪টি প্রস্তাব দেয়। তবে আওয়ামী লীগ তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

তিনি জানান, ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, এটা সংবিধানসম্মত নয়। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংসদ ভেঙে দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, তারা আরও দাবি উপস্থাপন করেছেন।

আমরা বলেছি, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। তারা আরও সংলাপের দাবি জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংবিধান পরিপন্থি ও সাংঘর্ষিক কিছু বক্তব্য তারা নিয়ে এসেছেন, যেটা গ্রহণযোগ্য নয়। সংলাপ এখানে শেষ। শিডিউল ঘোষণার পর তারা যদি কোনো ব্যাপারে আবার বসতে চান, আপত্তি নেই। এদিকে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের করা সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন এবং ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তাদের সাত দফা দাবির বেশ কিছু দাবি মানা হয়েছে। সংলাপের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংলাপ ব্যর্থ বলে আমি মনে করি না। আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্র্ণ পরিবেশে, আলোচনায় কোনো ধরনের আনপ্লেজেনড কিছু ঘটেনি। নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে, এর মধ্যে আলোচনাও চলবে। তবে ডায়ালগ শেষ।

সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা গণমাধ্যমের সামনে সংলাপের বিষয়ে কথা বলেন। নেতারা বলেন, সাত দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন এবং আলোচনা দুটিই চলবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে কর্মসূচিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট। তবে পূর্বঘোষিত রাজশাহী অভিমুখী রোডমার্চ স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল সেখানে জনসভা করবে ঐক্যফ্রন্ট। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপের পর তারা এখন জনগণের কাছে যাচ্ছেন। দাবি আদায়ে জনগণই এখন করণীয় ঠিক করবে।

সমাবেশ করায় ঐক্যফ্রন্টকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
এদিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংলাপে বসে শুরুতেই তিনি ঐক্যফ্রন্টকে এই অভিনন্দন জানান। দ্বিতীয় দফা সংলাপ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই গণভবনে প্রবেশ করতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ১১টার দিকে সংলাপের জন্য নির্ধারিত স্থান গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে প্রবেশ করেন শেখ হাসিনা।

হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি শুরুতেই ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তো গতকাল (৬ই নভেম্বর, মঙ্গলবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছেন। আপনাদের অভিনন্দন। টানা তিন ঘণ্টার এই সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা এবং ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হো?সেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধু?রী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এসএম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, শ ম রেজাউল করিম, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু।

১লা নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের ২০ নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের ২৩ নেতার সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে ওই দিনের আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে ছিলেন নেতারা। ওই দিনই পরবর্তীকালে সীমিত পরিসরে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রূপরেখায় যা বলা হয়েছে
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে এ রূপরেখা দেয়া হয়। চারটি পয়েন্টে তৈরি করা হয়েছে এ রূপরেখা। পয়েন্টগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের সমতল ভূমি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে রূপরেখায় ১০ উপ-দফাবিশিষ্ট ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ পয়েন্টে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলেছে,
ক. প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য এবং কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্য কিংবা দল অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না এমন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন।

খ. প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য এবং কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্য কিংবা দল অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না- এমন ব্যক্তিকে উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন।

গ. প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এবং অপর ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে।

ঘ. এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। উপদেষ্টারা মন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং সংবিধান প্রদত্ত মন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

ঙ. প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে নিজ হাতে লিখিত ও নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বা যেকোনো উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে পারবেন।

চ. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার সংবিধানের ১২৩ (৩) (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভাঙিয়া দেয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবে।

ছ. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নির্বাচনকালে কেবলমাত্র রাষ্ট্রের দৈনন্দিন রুটিন কার্যাবলী সম্পাদন করবে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করবে।

জ. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার কোনোরূপ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না।

ঝ. সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদের ৪ দফার (খ) উপ-দফায় ‘প্রধান উপদেষ্টা’ এবং (ঘ) উপ-দফায় ‘উপদেষ্টা’ যুক্ত হবে। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের ১ দফায়- ‘উপদেষ্টা’ অর্থ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি এবং ‘প্রজাতন্ত্রের কর্ম’ এই অভিব্যক্তির সংজ্ঞার পর প্রধান উপদেষ্টা অর্থ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যুক্ত হবে।

ঞ. নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যে তারিখে তার পদের কার্যভার গ্রহণ করেন সে তারিখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার বিলুপ্ত হবে।  নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার পয়েন্টে সংবিধানের ব্যাখ্যা তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, সংসদ ভেঙে দেয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও বিধানগুলো সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিবৃত আছে। এ ছাড়া আমাদের এবং বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথায়ও সংসদের মেয়াদপূর্তির আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রচুর নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়াদপূর্তির আগেই সংসদে ভেঙে দেয়া হয়েছিল। বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান ও প্রথার আলোকে এবং বিশেষত ১২৩ (৩) (খ)-এর আলোকে প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্টকে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ দিতে পারেন এবং সে অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেয়া সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত হবে। অনুচ্ছেদ ১২৩ (৩) (খ) অনুযায়ী উপরে উল্লিখিত পন্থায় সংসদ ভেঙে দেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১১তম সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেয়ার তারিখ অনুযায়ী ১১তম সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে বা মার্চে অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক রীতি অনুসারে সংসদ ভেঙে দেয়া ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৪৫ দিন ব্যবধান থাকা বাঞ্ছনীয়। উল্লিখিত মতে, সংসদ ভেঙে দিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের একটি বড় শর্ত পূরণ হবে।

‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন’ শীর্ষক পয়েন্টে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত প্রায় ২০ মাসে অনেক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলেও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, সামর্থ্য ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সমাজে তাই বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। প্রাতিষ্ঠাতিক প্রধান হিসেবে এর দায়-দায়িত্ব মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের। তিনি নিজেই আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে তার সংশয় ব্যক্ত করেছেন। এমন অবস্থায় সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্তত আংশিক পুনর্গঠন অত্যাবশ্যক।

এজন্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ (৬) অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের কাছে তাদের পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন থেকে সরে যেতে পারেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে রাজনৈতিক দলগুলোর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন। সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে নতুন সচিবও নিয়োগ করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সচিব পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য কোনো কর্মকর্তাকে বা প্রয়োজনবোধে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিতে ওই পদে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ৫টি দাবির কথা উল্লেখ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দাবিগুলো হচ্ছে- ক. খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে অন্তত জামিনে মুক্তি দিতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল, পিপি এবং অন্যান্য সরকারি আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করবে না। খ. সংসদ ভেঙে দেয়ার পর কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ও হ্যাকিংজনিত তথ্যপ্রযুক্তিগত অপরাধ ব্যতীত বাক ও মতপ্রকাশের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সংক্রান্ত অপরাধগুলোর ব্যাপারে নির্বাচনকালীন সময়ে (তফসিল ঘোষণা থেকে ফলাফল প্রকাশ) মামলা দায়ের করা যাবে না।

গ. বিগত তিন মাসে খুন বা ধর্ষণ ব্যতীত যেসব মামলায় ১০ বা ততোধিক ব্যক্তি বা অজ্ঞাতনামা বহুসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে সেসব মামলায় এবং বিএনপি ও অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর যেকোনো পর্যায়ে পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার সেসব মামলায় জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করবে না। সরকার অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কথাও বিবেচনা করবে। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৭ ধারায় বর্তমানে অভিযুক্ত কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের জামিনের ব্যাপারে সরকার বিরোধিতা করবে না।

ঘ. এখন থেকে নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের প্রার্থীদের সভা-সমিতি, আলোচনা ও সংগঠনের স্বাধীনতা প্রয়োগের অবাধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বাকস্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ (খ) এর প্রদত্ত গোপনীয়তার নিশ্চয়তা অনুযায়ী চিঠিপত্র, টেলিফোন ও মোবাইলের কথাবার্তা ফাঁস করার মতো অসাংবিধানিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঙ. আগামী নির্বাচনে কোনো স্তরেই ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাসহ নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ এবং এতে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Mohammed Islam
৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ২:৩১

যে গণতন্ত্রের জন্য 1971 সালে বাঙালি জাতি এই আওয়ামী লীগের অধীনে যুদ্ধ করেছিল এবং আমাদের মা বোনদের ইজ্জত হনন হয়েছিল, আজ সেই আওয়ামি লীগে বিরুদ্ধে আমাদেরকেই আবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে | অত্যান্ত দুঃখজনক |

অন্যান্য খবর