× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার

ভিডিও প্রাধান্য পাওয়ায় গান হারাচ্ছে প্রাণ

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ৯ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৮:২৮

গানের প্রচারণায় ভিডিও প্রকাশের চল অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওর প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে গানের প্রাণ আর থাকছে না। সঙ্গে সঙ্গে মানও হারাচ্ছে গান। গানের প্রচারণায় ভিডিওর ব্যবহার হতেই পারে। কিন্তু অডিওর চাইতে ভিডিও বর্তমানে বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় মানহীন গানের সংখ্যা দেদারছে বাড়ছে। গত কয়েক বছর ধরে সিডি মাধ্যম বিলুপ্তির পথে। এর পরিবর্তে ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। মানুষ এখন ইউটিউবেই গান বেশি শুনছে।
আর সেই সুযোগে ভিডিওর প্রতিযোগিতা চলছে। অডিও যেমনই হোক, ভিডিওটা হতে হবে একেবারে দর্শকদের ধরে গেলাবার মতো। অনেক প্রকাশক কিংবা সংগীতসংশ্লিষ্ট বলে থাকেন যে, ভিডিও না হলে এখন আর গান বের হয়ে আসে না। কথাটা ফেলে দেয়ার মতোও নয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ের বেশকিছু শিল্পীর অডিও গানও ভিউয়ের দিক দিয়ে কোটির ঘর ছুঁয়েছে। আবার অনেক মানসম্পন্ন গান সাদামাটা ভিডিওর মধ্যে দিয়েও উঠে এসেছে জনপ্রিয়তার তালিকায়। ইউটিউব থেকে এসব গান থেকে আয়ও ভালো। অথচ অনেক মানহীন কথা-সুরের গান লাখ লাখ টাকা খরচ করে ভিডিও করেও সেটি ফ্লপের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছ, এমন গানের সংখ্যাও নিতান্তই কম নয়। একটি মানসম্পন্ন গান হলে লিরিক ভিডিও কিংবা অল্প বাজটের ভিডিওর মাধ্যমেও সেটি শ্রোতাদের হৃদয় জয় করতে পারে বলেও মত দিয়েছেন সংগীতবোদ্ধারা। বিষয়টি নিয়ে গুণী সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, গানতো শোনার বিষয়। তার মানে এই নয় যে, আমি ভিডিওর বিরুদ্ধে। কিন্তু একটি ভালো কথা-সুরের প্রতি আগে মনোযোগী হতে হবে। এখন গানের অডিওর চাইতে ভিডিওতে কয়েকগুণ পয়সা খরচ করা হয়। যার ফলে অডিওটা হয়ে পড়ে দুর্বল। সেই গান সাময়িকভাবে ভিডিওর মাধ্যমে মানুুষের কাছে পৌঁছলেও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাছাড়া এ ধরনের কাজ আমাদের পুরো সংগীতের ক্ষতির কারণও বটে। তাই আমার অনুরোধ থাকবে প্লিজ! আগে ভালো মানের কথা-সুরের দিকে মনোযোগী হতে হবে। তারপর ভিডিও নিয়ে ভাবা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী বলেন, সত্যি বলতে গান ভালো না হলে শত ব্যয়বহুল ভিডিও করেও লাভ হবে না। কারণ গান কানে না লাগলে সেটা করে লাভ নেই। এখন অনেক সস্তা কথা-সুরের গান দেখা যায়, কিন্তু ভিডিও করা হয় অনেক টাকা খরচ করে। এর ফলাফল খুব ভয়ানক। এর ফলে ভালো মানের গান কিন্তু চাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রচারণায়ও পিছিয়ে পড়ছে। ভালো গান যারা গায় তারাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। আমি মনে করি আগে ভালো কথা-সুরের একটি সুন্দর গান হতে হবে। সেটা ভিডিও করা যেতেও পারে আবার নাও যেতে পারে। ভালো গান মানুষ এমনিতেই শুনবে। এ বিষয়টির সঙ্গে একই সুরে সুর মিলিয়ে এমআইবি’র চেয়ারম্যান ও লেজারভিশনের কর্ণধার একেএম আরিফুর রহমান বলেন, আমি মনে করি ভালো মানের গান হলে সেটার লিরিক ভিডিও করে ইউটিউবে ছাড়লেই হলো। আমাদের এ রকম অনেক গান রয়েছে যার শুধু লিরিক ভিডিও করা হয়েছে, কিন্তু সাড়া পেয়েছি অনেক ভালো। কারণ সেগুলো ভালো মানের গান। এ গানগুলো টিকেও থাকবে অনেক দিন। অযথা ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও করতে গিয়ে আমরা বরং গানের অডিওর মান ঠিক রাখতে পারছি না অনেকক্ষেত্রে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিটি কোম্পানি, শিল্পী ও সংগীতসংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়া উচিত। কারণ ভালো গান না হলে সেটি যত টাকা খরচ করেই ভিডিও করা হোক না কেন শ্রোতা-দর্শক গ্রহণ করবে না। কারণ সেই গানে প্রাণইতো নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর