× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার
নি র্বা চ নী হা ল চা ল, চাঁদপুর ৫

আওয়ামী লীগে ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিএনপিতে বিভক্তি

এক্সক্লুসিভ

মো. মাসুদ রানা, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে | ৯ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৮:৫৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে নির্বাচনী ডামাডোল বেজে উঠেছে। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসন। এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে  বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রধান দুই  রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরসহ বিভিন্ন দলের ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমুলের সঙ্গে কেন্দ্রেও তৎপরতা বাড়িয়েছেন। অনেকে গত কয়েক বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়, পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন সাটিয়ে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশার কথা জানান দিয়ে যাচ্ছেন আমজনতাকে। এবার টিকিট পেতে প্রবীণ প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ। এদের মধ্যে শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাবেক অনেক ছাত্রনেতাকে দেখা যাচ্ছে। তবে মনোনয়ন যুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের কর্মতৎপরতা দৃশ্যমান হলেও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থীর মাঠে তৎপরতা অপ্রতুল।
এদিকে নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসায় আওয়ামী লীগে হেভিওয়েটের প্রার্থীর বহর দিন দিন বড় হচ্ছে।
এ আসনে গত ১০টি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ চারবার করে ও জাতীয় পার্টি এরশাদ জমানায় দুবার জয় পেয়েছে।
এ আসনে বর্তমান এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। তিনি আসনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক উন্নয়ন করেছেন। ওই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জানান দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোতে যুক্ত সব নেতাকর্মী রয়েছেন এমপির সঙ্গে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রথমসারির বেশ কয়েকজন নেতা একাট্টা হয়েছেন এমপির বিরুদ্ধে। এ আসনে প্রথম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। ওই সময় বেশ কিছুদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপির এম এ মতিনের কাছে হেরে যান তিনি। পরে রফিকুল ইসলাম ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সংসদ সদস্য হন তিনি।
একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবার মনোনয়ন যুদ্ধে সে নেতারা জড়িয়ে পড়েছেন। এসব বিক্ষুব্ধ নেতাকে গত কয়েকটি জাতীয় দিবস ও দলীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘এ আসনে বর্তমান এমপি একজন সৎ লোক, তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া নতুন প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বড় দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে সবাই নৌকা ও মূল রাজনীতিতে ফিরে আসবেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনউদ্দিন বলেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে মত দেন তিনি।
আওয়ামী লীগে দ্বিধা বিভক্তির সুযোগে এমপি ছাড়াও আরো ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে মরিয়া। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. সফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে গত ২০ বছর ধরে দলটির সুখে-দুঃখে সম্পৃক্ত থেকে এলাকায় দলকে সংগঠিত করেছি। পরে এলাকায় শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে অবদান রাখছি। এবার দল থেকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিশ্চিত  হলে আসটি নেত্রীকে উপহার দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক      পৃষ্ঠা ১৬ কলাম ১
 ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তিন দশক ধরে নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিবারে সম্পৃক্ত রেখেছি। এলাকায় সামাজিক কাজের বাইরেও জাতীয় পর্যায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নয়নে অবদান রেখে আসছি। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি সবাইকে নিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক ও এনএসআই-এর সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এইচ সালাহ্‌উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণসংযোগ করে চলেছেন। তিনি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি বিশ্বাস করেন। দল তাকে চূড়ান্ত টিকিট দিলে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে এলাকার উন্নয়ন করার আশা ব্যক্ত করেন।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ঢাকা কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ শফিকুল আলম ফিরোজ নৌকা প্রতীকের পক্ষে দীর্ঘদিন গণসংযোগে মাঠে রয়েছেন। তার প্রত্যাশা দল তাকে এবার মূল্যায়ন করলে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হবেন।
এ আসনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরজাহান বেগম মুক্তাও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার অভিমত, নেতাকর্মীদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়ে নিয়মিত সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবারও সে প্রত্যাশা নিয়ে আমি এ আসন থেকে এবার মনোনয়ন চাইব।
এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী একেএম ফজলুল হকও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি ও সভা-সমাবেশ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মহাজোটভুক্ত ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা বাহাদুর শাহ। তিনি ২০০৬ সালের না হওয়া নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মজুমদার, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এসএম মোস্তফা কামাল ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আলী আহমদ মাহমুদ মাঠে সরব রয়েছেন।
চাঁদপুর-৫ আসনটিতে বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত ছিল। দলটিতে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমএ মতিন। পরে আবারও ’৯১ ও ’৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। অবশ্য ’৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের কাছে হেরে যান। সর্বশেষ ২০০১ সালে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে চারবার সংসদ সদস্য হন একসময়ের স্কুলশিক্ষক এমএ মতিন। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ ব্যক্তি পরবর্তীকালে বিচক্ষণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
অবশ্য এক সময়ের শক্তিশালী বিএনপিতে চলছে বিভাজনের রাজনীতি। প্রভাবশালী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য  এমএ মতিনকে সামনে এনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। অপর দিকে ২০০৮ সালে এমএ মতিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তখন দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। নির্বাচনের পর তিনি জেলা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১০ সালে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বেশ দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আজ অবধি সরব উপস্থিতি রয়েছে মাঠে। কিন্তু নানা ইস্যুুতে বর্তমান জেলা বিএনপি সভাপতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় সেখান থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। পরে অবশ্য দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলার বেশির ভাগ নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর নাম। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে জেল খেটেছেন। আবার এলাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।
বিএনপির সভাপতি হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়ালি ড. মো. আলমগীর কবির পাটোয়ারীর নাম শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।  আধুনিক হাজীগঞ্জের উন্নয়নে ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির পাটোয়ারীর নাম জড়িত থাকায় সবার কাছে ভালো ইমেজ রয়েছে তার। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক সহসভাপতি বিল্লাল হোসেন তারেকের নামও শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি থেকে নাম শোনা যাচ্ছে হারুন অর রশিদ মুন্সি ও দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম খুশুর। এছাড়া সৌদি আরব রিয়াদ শাখার সভাপতি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. কামরুজ্জামান কাজলও নির্বাচন করতে চান। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও কেন্দ্র্রীয় জাতীয় পার্টি নেতা মো. জিয়াউর রহমান বিপুলও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছে।
জামায়াত ইসলামী: সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটির রাজনৈতিক কৌশল জানা যায়নি। তবে দলটি বিগত দিনে চার দলীয় এবং বর্তমানে ২০ দলীয় জোটে রয়েছে বলে শোনা গেলেও এখান থেকে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাও. মো. আবুল হোসাইন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে চাউর রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন মো. আবদুর রহিম।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর-৫ আসনের দুই উপজেলার মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউপির ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৫৩ জন। অপরদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউপির  ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৮ জন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর