× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার

সিলেটে ঘরছাড়া বিএনপি নেতারা

দেশ বিদেশ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ৯ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৯:১০

বৃহস্পতিবার ভোররাতে পুলিশ শহরতলীর জাঙ্গাইল গ্রামে থানা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আব্দুল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় আব্দুল্লাহকে বাড়িতে না পেয়ে ধরে নিয়ে আসে তার ভাতিজা দেলোয়ার হোসেনকে। পরে দুপুরে পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে। আটক দেলোয়ার হোসেন কখনোই রাজনীতি করেনি- স্থানীয় এলাকাবাসীর তরফ থেকে পুলিশকে এ কথা জানালেও পুলিশ দেলোয়ারকে ছাড়েনি। এ তথ্য জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট পুলিশের হাতে এখন প্রধান অস্ত্র গায়েবি ঘটনায় দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলা। তারা যাকে পাচ্ছে ওই সব মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাচ্ছে। এতে করে সিলেট বিএনপিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে।
পুলিশের অভিযানে বিপর্যস্ত এখন সিলেট বিএনপি।
গত ১৫ দিনে অন্তত ৫০ জন নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আর জামিন না মঞ্জুর হয়ে কারান্তরীণ হয়েছেন শতাধিক কর্মী। এর মধ্যে সম্প্রতি ১২ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কিন্তু এখনো কারাগারে আছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন বাচ্চু, বিএনপি নেতা আফম কামাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুমন সহ-সিনিয়র অনেক নেতা। কারাগারে থাকা অবস্থায় তারা একের পর এক মামলায় শ্যোন এরেস্টও হচ্ছেন। এতে করে কারা অভ্যন্তরে থাকা নেতারা জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলার জালে আটকা পড়ছেন। সিলেট বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন- নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সিলেটে পুলিশের নির্যাতনের মাত্রা ততই বাড়ছে। নতুন নতুন মামলায় আসামি করা হচ্ছে আটকদের। এ কারণে বর্তমানে সিলেট বিএনপির ৮০ ভাগ নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া অবস্থায় ফেরারী জীবনযাপন করছেন। সিলেট পুলিশ গত এক মাসের ব্যবধানে সিলেট মহানগর ও জেলায় ১৪টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই জানিয়ে সম্প্রতি এসব মামলাকে গায়েবি মামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় বিএনপি। ওই ১৪টি মামলার সব ক’টিতেই বাদী হচ্ছে পুলিশ। পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে থেকেও অনেকেই মামলার আসামি হয়েছেন। ফলে হজ শেষে বাড়িতে এসেও তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে হচ্ছে। জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন- নগর ছেড়ে এখন গ্রামে-গ্রামে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাদের হাতে আটক হয়েছেন- গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জল, পৌর বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি ও পৌর কাউন্সিলর জামিল আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার ছাত্রদলের জয়েন্ট কনভেনার নুরুল আমীন, বুধবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন জৈন্তাপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাফিজ, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গয়াস মিয়া, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল হকসহ অন্তত ৫০ জন শীর্ষ নেতা। তাদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করার পর একাধিক মামলায় আসামি করা হচ্ছে বলে বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম জানিয়েছেন- ‘সিলেটে সাম্প্রতিককালে পুলিশ যেসব গায়েবি মামলা দায়ের করেছে সেগুলোর তালিকা আমরা ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছি। এগুলো গায়েবি মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে বিএনপির তরফ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এরপরও পুলিশ ওই গায়েবি মামলাগুলোকে পুঁজি করে ব্যাপকহারে গ্রেপ্তার চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন- ‘গত দেড় মাসের ব্যবধানে পুলিশ তার বাসায় কয়েক দফা অভিযান চালায়। সে সময় তারা নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।’
জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল বলেন- এখন বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আর বাড়িতে ঘুমান না। অনেক নেতাই একাই পরিবারের উপার্জনকারী। পুলিশের ভয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর তার পরিবার বাড়িতে অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছে। তিনি বলেন- সংলাপ ও গণগ্রেপ্তার একসঙ্গে চলতে পারে না। ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে যোগ দিতে সিলেট থেকে গিয়েছিলেন অনেক নেতাকর্মী। এর মধ্যে প্রায় ১২ জনকে ঢাকা মহানগর পুলিশ সমাবেশ থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। ঢাকায় দায়ের করা গায়েবি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক বলেন- সিলেট মহানগরীর ভেতরে নেতাকর্মীরা এখন বাড়িঘরে থাকে না। তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে একেক নেতার বিরুদ্ধে ৪-৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর যারা আসামি হয়নি তারাও গায়েবি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হচ্ছে। পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে সিলেটে অস্বস্তি বিরাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে- কাউকে অযথা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আবদুল ওয়াহাব। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছে তারা বিভিন্ন মামলার আসামি। অথবা তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর