× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

আলোচনায় আজমত উল্লা খান

ইলেকশন কর্নার

এম.এ হায়দার সরকার, টঙ্গী থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার, ৮:১০

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কার্যকরী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান। তিনি ১৯৫৫ সালের ১লা জানুয়ারি গাজীপুর জেলা সদরের টঙ্গী ভরানে একটি সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত ইউসুফ খান ও মাতা ফাতেমা খানম। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের প্রজ্ঞা, মেধা-মনন ও যোগ্যতা দিয়ে শিক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আসীন হয়েছেন। আইন পেশায় নিয়োজিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান সমাজের গরিব-দুঃখী ও তার দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। ১৯৬৯ সালে টঙ্গী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে তার রাজনীতির হাতেখড়ি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর এর বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে  স্থানীয় সরকারে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়াও দেশ মাতৃকার সংকটময় কালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিশেষ অবদান রাখেন।
রাজনৈতিক জীবন: রাজনীতিতে আসার পর বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে তাকে। রাজনীতিতে তার দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অনেক শক্ত। অন্য দলের প্রতিপক্ষ তো আছেই। আজমত উল্লা খান ১৯৬৯ সালে তৎকালিন টঙ্গী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন থেকে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ’৭২ সালে ভাওয়াল গড় জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। ’৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ’৭৮ সালে শ্রমিকলীগ টঙ্গী আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক ভাওয়াল গড় ছাত্রলীগ। ’৭৯ সাল থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত এক টানা টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ’৯১ সালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ’৯৬ ও ২০০৩ সালে পর পর দুইবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ’১৫ সালে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ’১৮ সালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদ লাভ করেন। বর্তমানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আইন ও বিধি উপ-কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান। তার রাজনৈতিক উত্থান শুরু ১৯৯৫ সালে টঙ্গী পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর। তিন মেয়াদে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে টঙ্গী পৌর সভার চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে তিনি গুরুদায়িত্ব পালন করেন। যে কারণে তিনি বারবার বিভিন্ন মামলা-হামলাসহ অসংখ্যবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তৎকালীন সময়ে টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হলে তিনি মাত্র ২৩ বছর বয়সে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে দলকে সুসংগঠিত করেন। টঙ্গী আওয়ামী লীগের দুর্দিনে দলকে ভাঙনের চেষ্টা করে। এমনকি অনেকেই তখন আওয়ামী লীগ ছেড়ে অন্য দলে চলে যায়। আজমত উল্লা খান সে সময় শক্তভাবে হাল ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম চালাতে থাকেন। আজমত উল্লা খানের ৫১ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
উন্নয়ন কাজ: বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ পৌর চেয়ারম্যান ও সাবেক টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ১৯৮০ সালে আইন পেশা দিয়ে তিনি কর্মময় জীবন শুরু করেন। টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি টঙ্গী পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্‌রাসা, মন্দিরসহ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ ও উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। ১৯৯৫ সালে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বছর নগরের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার কর্মযজ্ঞে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল কিছুদিন পরই ব্যাপক ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে তার উন্নয়ন থেমে থাকেনি। এক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে ১৪টি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারপরও তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিপক্ষরা যতই ষড়যন্ত্র করছিল টঙ্গী পৌরসভার জনগণের আস্থা খানের প্রতি ততই বাড়ছিল। এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান বলেন, পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের সুবাধে শ্রমিক অধ্যুষিত টঙ্গীর আপামর জনসাধারণের মাঝে আমার বিরাট একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী গাজীপুর-২ আসনে এমপি পদে আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে এ আসনটি দলের প্রধানকে উপহার দিতে পারবো। ইন্‌শাআল্লাহ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর