× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
সরগরম গাঁও-গেরামের ভোটের মাঠ

‘যারে সিল দিমু হে পাইবো নি’

ইলেকশন কর্নার

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে | ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার, ৮:১০

আলোচনা সমালোচনায় সরগরম গাঁও-গেরাম। আলোচ্য বিষয় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। ক্ষেতের মাঠ আর চায়ের টঙ। স্থানীয় হাট বাজারের অলিগলি। সবখানেই এখন হট্টগোল আর হৈ চৈ ভোট নিয়ে। গাঁও থেকে ঢাকা। সব খবরই তাদের রাখা। তাই ভোটের আমেজের সঙ্গে উঁকি দেয় নানা অজানা শঙ্কা।
সরজমিনে ভোট নিয়ে কথা হলে এমনটিই জানালেন তারা। ‘ভোট অইবো ভোট দিবো। কিন্তু যারে সিল দিমু হে পাইবো নি। ভোটের দিন মারামারি অইবো নি না আর্মি থাকবো। নির্ভয় আর নিরাপদ ভোট অইবো তো।’ ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। কিন্তু অভয় বা নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। এখন পছন্দের প্রার্থী সিলেকশনের পাশাপাশি চলছে এমন আলোচনা। বিএনপি আর জাতীয় ঐক্যফন্ট নির্বাচনে যাওয়ায় ভোটের মাঠে বইছে অন্যরকম হাওয়া। ভোটে সবদল অংশগ্রহণের কারণে নতুন করে আমেজ ছড়ালেও কাটছে না উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সোমবার থেকে নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকা গাঁও-গেরামের মানুষের শঙ্কা কিছুটা কাটলেও আসন্ন নির্বাচনে ভোট কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এ নিয়ে এখন তাদের যত দুশ্চিন্তা। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ৪টি সংসদীয় আসন। এই ৪টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩,০৪০,৬৩ জন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানে চা শ্রমিকের পাশাপাশি নদী ও হাওর পাড়ের কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ভোটের সময় রয়েছে আলাদা কদর ও মর্যাদা। বরাবরই তাদের ভোটেই পাল্টে যায় জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ। তাই ভোটের মাঠে প্রার্থীদের কাছে যেমন রয়েছে তাদের গুরুত্ব। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে সব দলের সব খবরই তারা পান ঘরে বসে। কাজ-কর্ম শেষে বিকেল কিংবা রাতে গায়ের মোড়ের টঙ দোকান বা হাটবাজারগুলোতে বসে নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বয়ে চলে নানা আলোচনার ঝড়। তারা প্রার্থী ও প্রতীক নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ঠিক করেন। তবে তারা যে দল সমর্থন করেন না বা রাজনীতি বুঝেন না এমনটি নয়। শহরের রাজনীতির ধকল গাঁও-গেরামে ক্ষেতখামারেও তারা সামাল দেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দেন দরবার আর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশও হয় সহজেই। তবে শহরে নেতাদের মতো ঝগড়া ঝাটি, মারামারি আর খুনোখুনিতে নেই তারা। শুধু নির্বাচন এলেই জমে উঠে রাজনৈতিক আলাপচারিতা। আর প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান নিয়ে চলে খোশগল্প। তবে প্রতিটি নির্বাচনে নিজেদের কল্যাণে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীই বেঁচে নেন তারা। মৌলভীবাজার শহরতলির ভ্যান চালক মো. কামরুজ্জামান, শরীফ আহমদ ও শাহ বন্দর এলাকার শাহেদ আহমদ বলেন, সবকিছু আয়ত্তে রেখে ভোট হয় কীভাবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সদিচ্ছা থাকলে সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভোটের আহ্বান করতো। ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেও মাঠে এমন দৃশ্য নেই। তবে ভোট শান্তিপূর্ণ হোক এমনটি প্রত্যাশা তাদের। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধপুর ইউনিয়নের ভাসানিগাঁওর সোয়েব আহমদ ও বনগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কুলাউড়ার সাদিপুর গ্রামের মৎস্যজীবী কয়েছ আহমদ বটলাই, গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. অজিহ উদ্দিন, মোক্তাদির হোসেন মনা, রাজনগর উপজেলার মিটিপুর গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, গেল দু’দিন থেকে গ্রাম এলাকায়ও বেশ জোরেশোরে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। তবে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু গ্রামের মশুদ মিয়া, হালেমা বেগম, গুমরা গ্রামের মোক্তার মিয়া, মারকোনা গ্রামের শাহাজান মিয়া, জমির মিয়া, সোলেমান মিয়া, সিপা বেগম জানান আমরা কৃষক ও দিনমজুর মানুষ আমরা সব সময়ই শান্তির পক্ষে তাই সংসদ নির্বাচনেও শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। ভুজবল গ্রামের খলিল মিয়া, মিলন বেগম, অমূল্য চন্দ্র নাথ ও ঘয়ঘর গ্রামের মোস্তফা মিয়া জানান, সব দলের অংশগ্রহণে ভোটের আমেজটাই অন্যরকম। ভোটের দিন যাতে মারামারি না হয় ভোটার হিসেবে আমাদের এমনটিই দাবি। ভোটে কেমন প্রার্থী আপনাদের পছন্দ এমন প্রশ্নে তারা জানান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিশেষ করে চাল, ডাল, তৈল, নুনের দাম যে ক্রয়ক্ষমতার ভিতরে রাখবে, গরিবের উন্নতি ও উন্নয়নের কথা চিন্তা করবে, এলাকা শান্তিতে রাখবে, সৎ যোগ্য এবং ভোটের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি পরেও ঠিক রাখবে তাকেই ভোট দেবো। তাদের মতো একই কথা ও চাওয়া জেলার সব ক’টি গ্রামের কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের। কারণ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার কোনো কমতি নেই তাদের। তবে শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে তাদের যত ভয়। দীর্ঘদিন পর আসা জাতীয় নির্বাচনে যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এই নিশ্চয়তা চান তারা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর