× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
নি র্বা চ নী হা ল চা ল, নেত্রকোনা ৪

আওয়ামী লীগে বিভক্তি বিএনপি একাট্টা

ইলেকশন কর্নার

কবীর হোসেন চানমিয়া, নেত্রকোনা থেকে | ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৬

হাওরাঞ্চল অধ্যুষিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৪ আসন। তিন উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় মোট ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ২৩৬ জন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।
হাওরাঞ্চল অধ্যুষিত এ আসনটি বড় দুই রাজনৈতিক দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি দলীয় অধিকাংশ নেতাকর্মী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ব্যাপারে খুবই দুর্বল। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ আসনের মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সামছুজ্জামান তালুকদার সোয়েব সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং মদন ও মোহনগঞ্জে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবদুল খালেক।
তার মৃত্যুতে পুনঃনির্বাচনে আবদুল মোমেন এমপি নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের ত্রাণ পুনর্বাসন ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে দেওয়ান শাহজাহান ইয়ার চৌধুরী জয়ী হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন লুৎফুজ্জামান বাবর। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে এ আসনে ফের বিজয় লাভ করেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আবদুল মমিন। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে প্রয়াত আবদুল মমিনের সহধর্মিণী রেবেকা মমিন বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় রেবেকা মমিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন।
আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান এমপি রেবেকা মমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ, জেদ্দা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ হোসেন চৌধুরী, খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান তালুকদার সোয়েব সিদ্দিকী, ক্যাপ্টেন (অব.) এম. মনজুরুল হক। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ কৃষি-বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-ফারুক, জেলা বিএনপি নেতা, নাসিব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও নেত্রকোনা নাসিবের সভাপতি শিল্পপতি কে এম জহির ফারুক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা চৌধুরী। দণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবর নির্বাচন করতে পারবেন না বলেই মনে করছেন তার সমর্থকরা।
মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রয়েছে দ্বিধা বিভক্তি। রেবেকা মমিন সমর্থিত এক গ্রুপ ও অপর গ্রুপটি হচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ সমর্থিত। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মোহনগঞ্জে দুই গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী নেতারা এক হয়ে যান এবং তারা রেবেকা মমিনের সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন। এরই মধ্যে মোহনগঞ্জ ও মদনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। এমপি সমর্থিত মোহনগঞ্জে লতিফুর রহমান রতন সভাপতি ও শহীদ ইকবাল সাধারণ সম্পাদক এবং মদনে আবদুল কুদ্দুস সভাপতি ও আবুল বাশার খান এখলাছ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোহনগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছুটা দ্বন্দ্বের অবসান হলেও মদন ও খালিয়াজুরীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ ও এমপি রেবেকা মমিন সমর্থিত দুটি গ্রুপ রয়েছে। মদনে নির্বাচিত কমিটির সভাপতি সম্পাদক রেবেকা মমিনের সমর্থক। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মদন পৌর সভার মেয়র আবদুল হান্নান তালুকদার শামীম শফি আহমেদ গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন। খালিয়াজুরীতে শফি আহমদের সমর্থক হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মইনুল হক মোহন ও উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিন তালুকদার। অন্যদিকে রেবেকা মমিন সমর্থিত খালিয়াজুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। স্থানীয় রাজনীতিতে রেবেকা মমিনের সঙ্গে শফি আহমেদের রয়েছে চরম মতবিরোধ। রেবেকা মমিন এমপি বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলায় শিক্ষা স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গত সাড়ে ৯ বছরে নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। আমি সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, ৯০ দশকের ছাত্রনেতা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা শফি আহমেদ ২০০৬ সালে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়াও হয়েছিল। কিন্তু দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার কারণে ওই সময় নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। ওই সময় থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে আসছেন। এমনকি নির্বাচনী এলাকায় তার অনেক কর্মী-সমর্থকও রয়েছে। শফি আহমেদ বলেন, ২০০৬ সালে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে ২০০৮ সালেও দলীয় মনোনয়ন পাই। কিন্তু একান্ত পারিবারিক কারণে রেবেকা মমিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। মনোনয়ন না পেলেও দলের হয়ে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। আশা করি দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেবে। জেদ্দা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, মদন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মমতাজ হোসেন চৌধুরী গত ২০০৬ সাল থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি মাঠ ছাড়েন নি। প্রায়শই এলাকায় আসা যাওয়া করছেন এবং দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান তালুকদার সোয়েব সিদ্দিকীও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন।
আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ক্যাপ্টেন (অব.) আলহাজ এম মনজুরুল হক ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ মদন উপজেলা শাখার সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিন উপজেলায় ঘন ঘন জনসংযোগ করছেন। তিনি বলেন দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করবো। দলের হয়ে কাজ করছি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ওদিকে বিএনপি থেকে লুৎফুজ্জামান বাবর অংশ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাবরপত্নী তাহমিনাজ্জামান শ্রাবণী প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয়স্বজনরা বলছেন। নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলাতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বাবর মুক্তি পরিষদের ব্যানারে লুৎফুজ্জামান বাবরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।
নেত্রকোনা বিসিকের সভাপতি, কেন্দ্রীয় নাসিবের সহসভাপতি ও জেলা বিএনপি নেতা শিল্পপতি কে এম জহির ফারুক বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। কে এম জহির ফারুক বলেন, দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে নিজ নির্বাচনী এলাকার বেকার যুবকদের দেশ বিদেশে যোগ্যতা অনুসারে চাকরির ব্যবস্থা করেছি। আশা করি দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন না পেলেও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।
সুপ্রিম কোর্টের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা বলেন, নির্বাচনী এলাকাসহ জেলার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে অনেক সময় বিনা টাকায় আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি। অবহেলিত এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আবদুল্লাহ-আল ফারুক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার পক্ষে জেলা সদরসহ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন কর্মী সমর্থকরা। জেলা বিএনপি নেতা জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা চৌধুরীও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে কাজ করছেন। তিনি প্রায়শই নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গণসংযোগ করছেন। মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মামলা মোকদ্দমায় আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি যোগ্যতার ভিত্তিতে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর