× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
নারায়ণগঞ্জ-৩

দোটানায় আওয়ামী লীগ জাপার প্রার্থীরা

ইলেকশন কর্নার

আবু বকর সিদ্দিক, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে | ২৩ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৯:৫১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে সাধারণ জনগণের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে। কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন। এ নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৯ জন, বিএনপি থেকে ৬ জন ও জাতীয় পার্টি থেকে ২ জন এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সোনারগাঁ আসনের বাসিন্দা নন এমন লোকজনও  আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। তবে, নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় রয়েছে আওয়ামী লীগ থেকে ৬ জন, বিএনপি থেকে ৩ জন ও জাতীয় পার্টি থেকে ১ জনের নাম।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে ১৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, তার চাচা সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভুইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিনা আক্তার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম, পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল কবির ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভুইয়ার স্ত্রী শিরীন শারমিন ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নুর জাহান। অন্যদিকে, রোববার জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়নও কিনছেন বর্তমান মহাজোটের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা ও জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হোসাঈন মৌসুমী।


অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাবেক যুব উন্নয়নের মহাপরিচালক অলিউর রহমান আপেল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ওয়ালিউর রহমান ভুইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল প্রমুখ। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কটি এ আসনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় আসনটির গুরুত্ব অনেক। প্রায় তিন লাখ ৩ হাজার ৭৩৮ জন ভোটার রয়েছেন এ আসনে। ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিনবার, বিএনপি চারবার, জাতীয় পার্টি দুইবার, ১৯৭৯ সালে কৃষক শ্রমিক পার্টি থেকে এএসএম সোলায়মান একবার জয়ী হন।

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে গত কয়েকমাস নির্বাচনী এলাকায় ৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে কাজ করেছেন। তারা এলাকায় নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে নৌকার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এদিকে, গত কয়েকদিন যাবৎ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ছয়জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে বেশি তৎপর ছিলেন। এদের মধ্যে- সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী (বিরু), কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এএইচএম মাসুদ দুলাল, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সেলিনা আক্তার। অন্যদের নাম শোনা গেলেও তাদের মাঠে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। তারা হলেন- এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক বজলুর রহমান, অর্থনীতিবিদ আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও লন্ডন প্রবাসী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন কিনতে এ আসন থেকে এলাকার বাসিন্দা নন এমন লোকও মনোনয়ন ক্রয় করেছেন তারা হলেন- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। তবে, আলোচনায় না থেকেও দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভুইয়া ও তার স্ত্রী শিরীন শারমিন।

বিএনপি কোণঠাসা: নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হলেও বিএনপির  নেতাকর্মীরা রয়েছেন কোণঠাসা অবস্থায়। মামলা হামলা ও দলীয় কোন্দলে নেতাকর্মীরা নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। আসনটি এক সময় বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত থাকলেও বর্তমান দলীয় কোন্দলের কারণে অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এলাকায় বিএনপির কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। দলের থানা কমিটিসহ অঙ্গসংগঠনেরও সম্মেলন হচ্ছে না প্রায় একযুগ ধরে। দলের নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম একেবারেই নীরব। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন রেজাউল করিম ও মান্নানের মধ্যে মনমালিন্য চলছে। কারণ গত উপজেলা নির্বাচনে আজাহরুল ইসলাম মান্নানকে দলীয় প্রার্থী করা হলে দুইজনের মধ্যে এইমর্মে সমঝোতা হয়েছিল যে, রেজাউল করিম তার জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে। বিনিময়ে সংসদ নির্বাচনে রেজাউল করিমের পক্ষে কাজ করবেন মান্নান। মান্নান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তাদের দুইজনের মধ্য দূরত্ব বেড়ে যায়। আজাহারুল ইসলাম মান্নানও এখন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। আজাহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মনোনয়ন চাওয়া আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি আরো বলেন, এলাকায় আমার নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে। এ ছাড়াও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার সুসর্ম্পক বেশি। তাদের বিপদে আমিই বেশি সহযোগিতা করে থাকি। মামলা হামলায় বেশিরভাগ নেতাকর্মীর জামিনের ব্যাপারে আমি ভূমিকা রেখেছি। অপরদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীও ছিলাম। আমার এই দীর্ঘ সময়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দলকে আমি সুসংগঠিত করেছি। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে চায়। আমি এবারো মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হবো। দল আমাকে অবশ্যই মনোনয়ন দেবে। এদিকে, তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের দাবি, এ আসনটি পুনঃরুদ্ধার করতে হলে রেজাউল করিমের বিকল্প  নেই। তাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত।
জাতীয় পর্াটিতে রেষারেষি: সোনারগাঁ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিতেও রেষারেষি চলছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচবছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, আমি এবার শতভাগ আশাবাদী মহাজোটের মনোনয়ন পাব। আমার আমলে এলাকাবাসী শান্তিতে বসবাস করেছে। কোনো মামলা হামলার শিকার হয়নি কেউ। আবার নির্বাচিত হলে সোনারগাঁয়ের উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসেইন মৌসুমী। তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির তৃণমূলকে আমি সংগঠিত করে রেখেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর