× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
পটুয়াখালী-১

নৌকা না লাঙ্গল দ্বিধা-দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা

ইলেকশন কর্নার

জালাল উদ্দিন আহমেদ,পটুয়াখালী থেকে | ২৪ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার, ৯:১৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কমিটির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হলেও, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন নেতাকর্মীরা। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। গত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে নিশ্চিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে শরিক দলের প্রার্থী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে লাঙ্গল প্রতীককে জয়ী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় এই আসনে ১৪ দল ও মহাজোটের কে হবেন প্রার্থী? আওয়ামী লীগের নৌকা না জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী। এনিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। আর এই দুই দলের তৃণমূলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন এখনো ধোঁয়াশায়।
চলতি নির্বাচনে এই আসনের জন্য জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে দলীয় সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় তাকে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই আসনে নৌকা ফিরে পেতে সোচ্চার। তারা এবার নৌকা ছাড়তে নারাজ। অন্যদিকে এবারেও মহাজোটের প্রার্থী হতে জোর লবিং চালাচ্ছেন লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বর্তমান এমপি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এ অবস্থায় মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত উভয় দলের জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা কাটছে না। ১৯৭৩ সন থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০টি। এরমধ্যে ১৯৮৮ সনের ৩রা মার্চ ও ১৯৯৬ সনের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে ৮টি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ ৪ বার এবং বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ২ বার করে বিজয়ী হয়েছেন। পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম মামুন বলেন, এবারে মহাজোট নির্বাচনে যাচ্ছে। এ কারণে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি একমাত্র পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনয়ন চাইছেন। আমরা জোটের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে জোট যাকেই প্রার্থী দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর জানান, এই জেলার চারটি আসনেই আমরা নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন চাই, পেলে সবক’টি আসনই নৌকার জয় হবে। তবে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করবো। এ আসনে মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায় গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে আসছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পটুয়াখালীর কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। তার সমর্থকরা মনোনয়ন পেতে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার বলেন, আফজাল ভাই অনেক এগিয়েছে, তাকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে আমরা কাজ করবো।
অপর দিকে পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কমিটির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত বলে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার ও বিএনপি সমর্থিত পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোশতাক আহমেদ পিনু দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর