× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

মুন্সীগঞ্জে আলোচনায় ১৩ প্রার্থী

ইলেকশন কর্নার

মোজাম্মেল হোসেন সজল, মুন্সীগঞ্জ থেকে | ২৪ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার, ৯:২৩

মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ১৩ জন প্রার্থী ব্যাপকভাবে আলোচনায়। এইসব প্রার্থীকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন। রয়েছেন নতুনমুখও। তবে, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নৌকা থেকেই প্রার্থী চান তৃণমূল। এখানে বিকল্পধারার কোনো ভোট ব্যাংক নেই। জোটের স্বার্থে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বঞ্চিত হলে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও মনোনয়ন বঞ্চিতরা বেঁকে বসতে পারেন। এ অঞ্চলের নৌকার লোকজন চান, নিজেদের দল থেকেই প্রার্থী দেয়া হোক।
মুন্সীগঞ্জ-১
আওয়ামী লীগ: শ্রীনগর ও সিরাজদিখান নিয়ে গঠিত এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ দলীয় মনোনয়ন আর পাচ্ছেন না।
এখানে নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন প্রার্থী কাজ করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর। বেশির ভাগ নেতাকর্মীর দাবি, এদের তিনজন থেকেই নৌকার প্রার্থী মনোনীত করা হোক। এখানে বিকল্পধারা প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শোনা যাচ্ছে, জোটের স্বার্থে আওয়ামী লীগ থেকে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই আসনের টিকিট পেতে পারেন। এলাকার ভোটারদের অভিযোগ, এখানে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারার কোনো ভোট ব্যাংক নেই। তাছাড়া ব্যক্তিগত ইমেজ নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। বিএনপি: এই আসনে বিএনপি তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. মমিন আলী। তৃণমূলে মমিন আলী বেশ জনপ্রিয়। আবার দলীয় আরেকটি অংশও রয়েছে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে। বাঘা নেতা হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এলাকায় পরিচিত। আবার দলবদলের কারণে অনেকেই তাকে পল্টিবাজ নেতা হিসেবেও মন্তব্য করে থাকেন।
মুন্সীগঞ্জ-২
আওয়ামী লীগ: লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করা, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন এবং দলকে সুসংগঠিত করে রাখায় এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য তৃণমূলের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনেও তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন- এমনটা দাবি এলাকার তৃণমূলের। তবে, এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলমও বেশ কিছুদিন এলাকায় গণসংযোগ ও সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগে কিছুটা বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
বিএনপি: এই আসনে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা রয়েছেন মূল আলোচনায়। তবে, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার প্রভাবশালী মল্লিক পরিবারের আলী আজগর রিপন মল্লিক প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রিপন মল্লিক বর্তমানে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি।
মুন্সীগঞ্জ-৩
আওয়ামী লীগ: মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন। এখানে গত নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। আলোচনায় আছেন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. ইদ্রিস আলী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দলীয় বাধা উপেক্ষা করে তিনি তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছরেও দলীয় বড় পদ-পদবির নেতাকর্মীদের কাছে টানতে পারেননি। ক্লিন ইমেজ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইদ্রিস আলী রয়েছেন স্থানীয় দলীয় সাপোর্টে এগিয়ে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবির নেতাদের বড় অংশটিই রয়েছেন তার সঙ্গে। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের বছরের পর বছর লেগে থাকা দলীয় সংঘাত-সংঘর্ষ নির্মূল করে আলোচনায় আসেন এম ইদ্রিস আলী।
বিএনপি: এই আসনে এখনো তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে তাকে সরিয়ে ঢাকা-৪ আসনে পাঠানো হলে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে তিনি পরাজয়ের মুখ দেখেন। তিনি চমকের নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও গেল ইউপি এবং উপজেলা নির্বাচনগুলোতে চমক কাজে লাগাতে পারেননি। কোথাও কোথাও বিএনপি’র প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। গত উপজেলা নির্বাচন ঘিরে তার বক্তব্য নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়। এক সময় তিনি নেতাকর্মীদের আশালীন মন্তব্যও করতেন। আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনও। তিনি গত বছরের ২৭শে এপ্রিল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর জেলার রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর একটি কর্মসূচিতে তাকে অপমান করা নিয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতির সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতনও। এই আসনের বিএনপি দুইগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পাঁচবার সংসদ সদস্য এবং দীর্ঘবছর জেলা বিএনপির সভাপতি থাকার কারণে আবদুল হাই এখনো পরিচিতমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর