× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
ফেঞ্চুগঞ্জে সওজের মরণফাঁদে ঘটছে দুর্ঘটনা

এক বছরে ৫ জনের প্রাণহানি

বাংলারজমিন

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি | ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার, ৯:২৩

সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের ফেঞ্চুগঞ্জের ফরিদপুর এলাকার বেইলি ব্রিজটি মরণফাঁদে পরিণত হয়ে প্রতিনিয়ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও দেখার কেউ নেই। মেরামতের নামে সিলেটের সড়ক ও জনপথ বিভাগ সওজ মহাসড়কের মাঝখানে একটি রেলিং দেয়ায় তাতে ধাক্কা লেগেই ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। ব্রিজের দু’পাশে স্পিড ব্রেকার থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ সাংকেতিক চিহ্ন  নেই, ফলে রাতের আঁধারে কিংবা কোয়াশায় দ্রুতগামী গাড়িগুলো দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এমন খামখেয়ালিপনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। গত এক বছরে উল্লিখিত এলাকায় ৮টি দুর্ঘটনায় ৫ জনের মমান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত ২৮শে নভেম্বর রাত ৯টায় মৌলভীবাজার থেকে ছেড়ে আসা সিলেটমুখী একটি কার ওই ব্রিজের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। কারে থাকা চালক এবং অপর দুই যাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেঞ্চুগঞ্জ হাসপাতাল এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
তারা হলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তুরুকখলা গ্রামের মৃত নকুল মিয়ার পুত্র আমান মিয়া (২৬) এবং ইয়াকুব (১৮)। এ ঘটনায় চালক বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে জানা যায়। ফেঞ্চুগঞ্জ থানা এবং হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ওই ব্রিজে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘটনায় প্রাণ হারান ফেঞ্চুগঞ্জ নুরপুর গ্রামের তবারক আলীর পুত্র তারা মিয়া (৫০), সিলেটের শাহপরাণ থানার আটগাঁও পীরের চকের মুজিবুর রহমানের  পুত্র সাফায়াতুর রহমান (১৯), সুনামগঞ্জ জেলার সুরেশ রায়ের পুত্র সুযোগ রায় (৩৮) বানিয়াচংয়ের রফিকুল ইসলাম (৪৫), এবং সুহেল আহমদ নামের অপর এক লন্ডন প্রবাসি। গত এক বছরে ওই ব্রিজের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ১০/১২ জন। এদিকে বুধবার রাতে একই ব্রিজে ফের দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই  এ  ব্যাপারে সওজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু ঘটনার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও সওজ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। ফরিদপুর নয়াবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা জানান, মহাসড়কে এমন মরণফাঁদ তৈরি করে সিলেটের সড়ক ও জনপথ  বিভাগ যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না। ফরিদপুর নয়াবাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা অনেক তুচ্ছ কাজে ব্যয় হয় কিন্তু মহাসড়কের এমন জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের উদাসীনতা দেখে মনে হচ্ছে তাদের দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই। একই প্রসঙ্গে নয়াবাজার এবং কর্মধা এলাকার ব্যবসায়ী সুনিমল দাস শেখর এবং সায়্যিদুল ইসলাম জানান, এই ব্রিজটি যদি অচিরেই মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ  করার উদ্যোগ নেয়া না হয় তবে এলাকাবাসী ব্রিজটি ভেঙে ফেলতে বাধ্য হবে। এ ব্যাপারে জানতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের এডিশনাল চিফ খন্দকার গোলাম মোস্তফার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেঞ্চুগঞ্জ ইউএনও আয়েশা হক জানান, বুধবারের দুর্ঘটনার পর পরই তিনি বিষয়টি সওজের এডিশনাল চিফকে জানিয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ আশরাফ জানান, দুর্ঘটনায় একটি কারখানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ব্রিজটি এভাবে থাকলে আরো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর