× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

সৎ মায়ের ভূমিকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার, ১০:০৮

রিটার্নিং কর্মকর্তারা সৎমায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। বলেন , আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মূলত সৎ মায়ের ভূমিকা পালন করছে। সরকারের নির্দেশে তারা দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক দূরে অবস্থান করছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে বারবার নির্বাচন কমিশনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কমিশন থেকে বলা হয়েছে পুলিশ এখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছাড়া কারো কথা শোনেন না।

তাহলে বন্যার স্রোতের মতো বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে কেন? তাহলে কি এখন পুলিশ যা কিছু করছে তার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন? তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডেকে এনে বৈঠক করে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গণহারে বাতিল করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপত্রে অসংখ্য ত্রুটি থাকার পরেও সেগুলোকে বাতিল করা হয়নি।
দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ থাকার পরেও সরকারি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়নি।

রিজভী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিটার্নিং অফিসার হায়াত-উদ দৌলা খানের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কোনো প্রার্থীকে কথা বলার সুযোগ দেননি তিনি। বিএনপির মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বেশিরভাগ প্রার্থীদেরকেই কথা বলতে দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিটার্নিং অফিসার। রিজভী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির বিধান হচ্ছে- প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তাদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। কোনো ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে চাইলে তা করতে দিতে হবে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি শুরুতেই প্রার্থীকে থামিয়ে দেন, তাহলে বুঝতে হবে রিটার্নিং অফিসার দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন। এভাবে সারা দেশেই রিটার্নিং অফিসাররা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরে রিটার্নিং অফিসাররা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। সেক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া চলবে না। কিন্তু যদি রিটার্নিং অফিসার বা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থের পক্ষে কাজ করেন, তাহলে তা হবে গুরুতর অসদাচরণ।

এটি পুরো নির্বাচন কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ভোটে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয়, জনমনে শঙ্কা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। রিজভী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত রিটার্নিং কর্মকর্তারা যা করছেন, তা কেবলই প্রহসন। আয় কমে গেলেও ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-নেতাদের সম্পদ বাড়ে, অথচ এগুলোতে দুদক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারো দেশব্যাপী গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন রাজশাহীর রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এবং রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। সম্পূর্ণ বেআইনি ও রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের পর আপিলের জন্য বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিটার্নিং অফিসার ব্যারিস্টার আমিনুল হককে হস্তান্তর করছেন না।

তবে আগামীকালও কাগজপত্র দেয়া হবে কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। রিজভী বলেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের কাগজপত্র আটকে রাখা গভীর চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনোভাবেই ব্যারিস্টার আমিনুল হককে আটকাতে না পেরে বানোয়াট কাহিনী রচনা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে এখন বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও না দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো- তিনি যেন আপিল দায়েরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার আনীত কাল্পনিক অভিযোগ খণ্ডন করতে না পারেন। রাজশাহী বিএনপির জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের আসন্ন নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র। রিজভী আহমেদ আরো বলেন, হাইকোর্টে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন নাকচ হওয়ার দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন- কারও দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলেই চলবে না, এমনকি আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তি লাভের পর ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যোগ্য হবেন।

এখন আমাদের প্রশ্ন- অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ব্যাখ্যা যদি বিবেচনায় নেয়া হয় তাহলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কক্সবাজারের এমপি আবদুর রহমান বদির এমপি পদ কি অবৈধ নয়? তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল সরকার প্রধানকে খুশি করার জন্য নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা দেন। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের আমলে ২০০৭-০৮ সালে ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিএনপির যে নেতারা দণ্ডিত হয়েছিলেন তাদের আপিল বিচারাধীন থাকলেও তাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অথচ ওই ক্যাঙ্গারু কোর্টে দণ্ডিত ও সাজা স্থগিত না থাকা অবস্থায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মখা আলমগীর। ১৩ বছরের সাজা নিয়ে শুধুমাত্র আপিল করে এখনো এমপি হিসেবে বহাল আছেন হাজী সেলিম, তার মনোনয়নপত্রও বৈধ বিবেচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বার্থে আইন একধরনের ও বিএনপির ক্ষেত্রে আইন আরেক ধরনের। অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যাও একইরকম। আদালত প্রাঙ্গণে রাসপুটিনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে ভয় দেখিয়ে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। রিজভী আহমেদ বলেন, পুলিশের আগ্রাসী তৎপরতা ও নির্বিচারে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযানে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের ছবিই মানুষ দেখতে পাচ্ছে। যেন পাতানো কিছু একটা করতে যাচ্ছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। স্বৈরশাসিত এই দেশে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধঃপতনের লক্ষণগুলোই ফুটে উঠছে। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে জনবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে এই অবৈধ আধিপত্য অভিলাষী সরকার নিজেরাই নিজেদের পতন ডেকে আনবে। ভোটারদের বঞ্চিত করে ভাগ্নে শাহজাদাদের বিজয়ী করার নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পুলিশের ওপর নির্ভরশীল ও সামর্থ্যহীন। সুতরাং গণভিত্তি নেই বলেই এদের পতন অত্যাসন্ন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, ড. মামুন আহমেদ ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, পল্টন থানা বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন ফকিরকে গতরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোথাও তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটকের বিষয়টি অস্বীকার এখন সীমা অতিক্রম করেছে। আমি অবিলম্বে লোকমান হোসেন ফকিরের সুস্থাবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। মহানগর বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রাসেল, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আল আমিন, মো. রিপন ও কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর