× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

আপিলকারীরা বলছেন ঠুনকো কারণে বাতিল হয়েছে মনোনয়ন

শেষের পাতা

শাহনেওয়াজ বাবলু | ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার, ১০:১৪

বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই রেকর্ড পরিমাণ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বেশিরভাগ মনোনয়নই বাতিল হয়েছে সামান্য ভুলের কারণে। অনেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মনোনয়নপত্রে নির্ধারিত স্থানে কোনো স্বাক্ষর না থাকার কারণে। আর অনেকের বাতিল হয়েছে ১ ভাগ ভোটারদের মধ্যে স্বাক্ষরের গরমিল থাকায়। গতকাল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা ২৩৫ জনের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে শুধু স্বাক্ষর না থাকা অথবা স্বাক্ষর গরমিলের কারণে। গতকাল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন ঢাকা-২ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। তার পক্ষে কমিশনে আসেন ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। মামলা জটিলতার কারণে আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।


এদিন ইসিতে আপিল করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে গত নবম ও দশম এবং এই যে ১১তম সংসদ নির্বাচন হচ্ছে, এখানেও অনেক প্রার্থী আছেন, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত এবং যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তারা মন্ত্রিত্ব করে যাচ্ছেন। তাদের কারোই কিন্তু এবারো মনোনয়নপত্র বাতিলও হয় নাই এবং কারোটার ব্যাপারে আপত্তিও হয় নাই। শুধু আপত্তি হয়েছে আমাদের আটকানোর জন্য বা আমাকে আটকানোর জন্য। সেজন্যই আমরা আপিল করেছি। আপিলে যথাযথ ন্যায়বিচার পাবো বলে আশা করছি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ও গণফোরামের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। তার পক্ষে কমিশনে আপিল করেন রেজা কিবরিয়ার একান্ত সচিব সাহাব উদ্দিন শুভ।

তিনি বলেন, সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের নবায়ন ফি পাওনা থাকার কারণে স্যারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে আমার জানা মতে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ফি বকেয়া নেই। আর এখন পর্যন্ত ব্যাংক থেকে বিস্তারিত কোনো কিছু জানানো হয়নি। জাতীয় পার্টির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম। ঋণ খেলাপির কারণে হাওলাদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বরিশাল-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও অভিনেতা সোহেল রানাও আপিল করেছেন। চার বছর আগের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে সোহেল রানা বলেন, ৪২০০ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল বলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গ্রামে সব সময় আমার মা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। মিটারটা আমার নামে ছিল। তবে বকেয়া বিলের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। নীলফামারী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আখতার হোসেন বাদলের মনোনয়নপত্রে দলীয় সভানেত্রীর স্বাক্ষর না থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে বাদল বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে আর চিঠি দেয়নি।

দলের সিগন্যাল পেয়েই আমি মনোনয়ন দাখিল করেছি। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) আলীমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায়। এ প্রসঙ্গে আলিম বলেন, এটা অনেক আগের বিদ্যুৎ বিল। যদিও এটা আমি পরে পরিশোধ করেছি। তারপরও কেন আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলো সেটা আমার বোধগম্য নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এম খালেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে গায়েবি মামলার আসামি হওয়ার কারণে। তবে এই মামলা কবে বা কখন হয়েছে সেটা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান। চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেড খান রিয়াজ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ভুল হলফনামা দাখিল করায়। তিনি বলেন, প্রথমে আমি ভুল হলফনামার কপি দাখিল করেছি। কিন্তু পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক হলফনামা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করলেও সেটা তিনি গ্রহণ করেননি। যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ২০০৯ সালের এক মামলায় সাজা থাকার কারণে।

তিনি বলেন, গত ১২ই জুলাই আমাকে ২০০৯ সালের একটি মামলায় সাজা দেয়া হয়। পরে আমি এটার বিরুদ্ধে আপিল করলে চেম্বার জর্জ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। তারপরও কেন আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে সেটা আমি জানি না। এদিকে মনোনয়নপত্রে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষর না থাকায় ঢাকা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফাহিমা হোসাইন জুবিলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নুর মোহাম্মদ খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আয়কর রিটার্নের সঠিক তথ্য না থাকায়। কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভুইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ঋণ খেলাপির কারণে। যদিও তিনি দাবি করেছেন তার কোনো ঋণ খেলাপি নেই। মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আয়কর রিটার্নের কপি না দেয়ায়। এ নিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রথমে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় আয়কর রিটার্নের কপিটা সংযুক্ত করিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটা জমা দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। ভোলা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে টিন সার্টিফিকেট দাখিল না করায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে আসনের নাম ভুল থাকায়। মাদারীপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের হলফনামায় বাৎসরিক আয় ভুল থাকার কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-২ ও ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আখাউড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকায়। যদিও তিনি অনেক আগেই উপজেলা চেয়াম্যানের পদত্যাগের পত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান। আপিল করতে এসে তিনি বলেন, আমি আমার পদত্যাগপত্র সিনিয়র সচিব, স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং থানা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দিয়েছি। কিন্তু তারপরও কেন আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলো আমি জানি না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর