× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

গৃহবধূর গায়ে স্বামীর সিগারেটের ছ্যাকা

অনলাইন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার, ১:৪৫

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক নববধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে স্বামী সাব্বির হোসেন। টাকার জন্য স্ত্রী শারমিন আক্তার সাথীর গলায় ছুরি চালিয়ে জখম করেছে। দিনের পর দিন জলন্ত সিগারেট দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে পুড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু সাথীর বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শ্রীপুর। তিনি ওই গ্রামের আনসার ব্যাটলিয়ন সদস্য মেহেদী হাসান শওকতের মেয়ে। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এসে আজ দুপুরে সাথী তার শরীরের বিভিন্নস্থানের ক্ষত দেখান। এ সময় তিনি আদালতে দায়ের করা ৩টি মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেন।

সাথী জানান, একটি মামলায় সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন।
এছাড়া পারিবারিক ও নারী শিশু নির্যাতন আদালতের দু’টি মামলা তদন্তনাধীন রয়েছে। কিন্তু সাব্বির আর্মস এপিবিএনর এর কনস্টেবল হওয়ায় আদালতের আদেশ পুলিশ তামিল করছে না। সাব্বির এখন ঢাকার উত্তরার পুর্ব থানায় ১ আর্মস এপিবিএন (নং কনস্টেবল ১৪৫৪) হিসেবে বহাল তবিয়তে কর্মরত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৬ই মে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবরা গ্রামের সাব্বির হোসেনের সঙ্গে শারমিন আক্তার সাথীর ৫ লাখ টাকার দেন মোহরে বিয়ে হয়। সাব্বির ওই গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। বিয়ের পর সাব্বিরকে দুই লাখ টাকার যৌতুক প্রদান করেন সাথীর পিতা মেহেদী হাসান শওকত। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করতো। দিন যত যায়, ততই নির্যাতনে মাত্রা বাড়তে থাকে সাথীর ওপর। জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকায় ক্ষত বিক্ষত হয় সাথীর শরীর। এতকিছুর পরও সাথী সংসার করার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকার উত্তরার দক্ষিণখান আমতলা শাহী মসজিদের পাশে (বাসা নং ২৬০) ভাড়া বাসায় চলে যান। সেখানে নিয়ে বাসায় একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত ও গলায় ছুরি চালায় সাব্বির। রক্তাক্ত জখম হয় সাথী। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা দেয়া হয়। নিকটস্থ থানায় এ বিষয়ে গত ৭ই নভেম্বর একটি জিডি করেন সাথী। জিডি নং ৪০৪। জিডি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই আসমাউল হুসনাকে নির্দেশ দেন ওসি। কিন্তু সাব্বিরের প্রভাবে সব কিছুই থেকে গেছে। নির্যাতীত গৃহবধূ স্বামীর ক্ষত চিহ্ন নিয়ে শৈলকুপা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে পড়ে আছে। আদালতে মামলা করেও তিনি প্রতিকার পাচ্ছেন না। উল্টো স্বামী জীবন নাশের হুমকীতে সর্বক্ষন তটস্থ সাথীর পরিবার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর