× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

বিশ্ব ইজতেমায় হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে টঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলন

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী থেকে | ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৩

বিশ্ব ইজতেমায় হামলাকারী সা’দ পন্থিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন টঙ্গীর উলামা মাশায়েখ ও তাবলীগের সাথীরা। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় বর্বরোচিত হামলায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। হকপন্থি আলেমদের পরামর্শসভার সিদ্ধান্তে যেভাবে যুগ যুগ ধরে তাবলীগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে ঠিক সেইভাবে ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ চান তারা। তাদের দাবি, তাবলীগ জামাতের স্বঘোষিত আমীর মাওলানা সা’দের পদস্খলন ঘটেছে। তিনি কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত আকিদায় ফিরে না আসা পর্যন্ত তাবলীগ জামাতে তার কোনো কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ মেনে নেয়া হবে না। ‘আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি কাজে অংশগ্রহণকারী তাবলীগী সাথী ও নিরীহ মাদরাসা ছাত্রদের ওপর গত ১ লা ডিসেম্বর ওয়াসিফ-নাসিমপন্থি সন্ত্রাসীদের নগ্ন হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে’ বুধবার টঙ্গী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গীর উলামা মাশায়েখ ও তাবলীগের সাথীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ইজতেমা ময়দানে নিরীহ মাদরাসা ছাত্র ও তাবলীগের সাথীদের ওপর হামলার সময় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক। সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়; বরং গেট ভেঙ্গে হামলাকারীদের ভেতরে প্রবেশে সহায়তা করা হয়েছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আবু বকর বলেন, অথচ ইতিপূর্বে প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ ময়দানের দায়িত্বরত মুরব্বিদের কথা দিয়েছিলেন যে, ‘আপনারা আপনাদের মতো করে ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করুন, আমরা বাহিরে আছি। বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, আমরা দেখব। তাদের (সা’দ অনুসারীরা) জোড় স্থগিত করা হয়েছে, তাদের কেউ আসবে না।’ কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেলো ভিন্ন। তাহলে প্রশ্ন হলো- সারা দেশ থেকে এসব হাজার হাজার সা’দের অনুসারী ওয়াসিফ ও নাসিমের নির্দেশে উত্তরা ও টঙ্গীতে একত্রিত হলো এবং ফজরের সময়ই চতুর্দিক থেকে ময়দান ঘেরাও করল কীভাবে ? জাতি এর জবাব জানতে চায়। সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, (১) ইজতেমা ময়দানে হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। (২) হামলায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এতদিন যেভাবে শুরাভিত্তিক তাবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে হবে। (৪) অতিসত্বর কাকরাইলের সকল কার্যক্রম হতে ওয়াসিফ ও নাসিম গংদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। (৫) সারা দেশে উলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং (৬) টঙ্গীতে আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত ১ম ধাপ ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০১৯ইং এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭শে জানুয়ারি ২০১৯ইং তারিখে অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এসব দাবিতে আগামী ৭ই ডিসেম্বর বাদ জুমা টঙ্গীর সকল মসজিদ ও এলাকা হতে তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হলে পরবর্তীতে আরো কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী জামিয়া নূরীয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জাকির হোসাইন, টঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাসউদুল করীম, টঙ্গী বায়তুল আকরাম মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা ইউনুস শাহেদী, টঙ্গীর সাতাইশ জামিয়া উসমানিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী, মাওলানা ইসমাইল আলমগীর, মাওলানা আব্দুর রাকিব আকন্দ, মুফতি মুহাম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা কেরামত আলী, মাওলানা ইকবাল মাসুম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, আবু উবাইদা, তারেক মাহমুদ, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ। গত ১লা ডিসেম্বর ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষে আহতরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর