× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

স্বামীর সিগারেটের ছেঁকায় ক্ষতবিক্ষত গৃহবধূর শরীর

বাংলারজমিন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ৯:৪৮

যৌতুকের টাকা না পেয়ে নববধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে স্বামী সাব্বির হোসেন। টাকার জন্য স্ত্রী শারমিন আক্তার সাথীর গলায় ছুরি চালিয়ে জখম করেছে। দিনের পর দিন জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সাথীর বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শ্রীপুরে। তিনি ওই গ্রামের আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য মেহেদী হাসান শওকতের মেয়ে। ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে এসে বুধবার দুপুরে সাথী তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাষণ্ড স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের ক্ষতস্থানগুলো দেখান। এ সময় তিনি আদালতে দায়ের করা ৩টি মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেন। সাথী জানান, একটি মামলায় সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন।
এ ছাড়া পারিবারিক ও নারী এবং শিশু নির্যাতন আদালতের দুইটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। কিন্তু সাব্বির আর্মস এপিবিএনের কনস্টেবল হওয়ায় আদালতের আদেশ পুলিশ তামিল করছে না। সাব্বির এখন ঢাকার উত্তরার পূর্ব থানায় ১ আর্মস এপিবিএন (নং কনস্টেবল ১৪৫৪) হিসেবে বহাল তবিয়তে কর্মরত। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৬ই মে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোবরা গ্রামের সাব্বির হোসেনের সঙ্গে শারমিন আক্তার সাথীর ৫ লাখ টাকার দেনমোহরে বিয়ে হয়। সাব্বির ওই গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। বিয়ের পর সাব্বিরকে দুই লাখ টাকার যৌতুক প্রদান করেন সাথীর পিতা মেহেদী হাসান শওকত। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করতো। দিন যত যায় ততই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে সাথীর ওপর। জ্বলন্ত সিগারেটের ছেঁকায় ক্ষতবিক্ষত হয় সাথীর শরীর। এত কিছুর পরও সাথী সংসার করার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকার উত্তরার দক্ষিণখান আমতলা শাহী মসজিদের পাশে (বাসা নং ২৬০) ভাড়া বাসায় চলে যান। সেখানে নিয়ে বাসায় একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত ও গলায় ছুরি চালায় সাব্বির। এতে রক্তাক্ত জখম হয় সাথী। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা দেয়া হয়। নিকটস্থ থানায় এ বিষয়ে গত ৭ই নভেম্বর একটি জিডি করেন সাথী। জিডি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই আসমাউল হুসনাকে নির্দেশ দেন ওসি। কিন্তু সাব্বিরের প্রভাবে সব কিছুই থেমে গেছে। নির্যাতিত গৃহবধূ স্বামীর ক্ষতচিহ্ন নিয়ে শৈলকুপা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে পড়ে আছেন। আদালতে মামলা করেও তিনি প্রতিকার পাচ্ছেন না। উপরন্তু পাষণ্ড স্বামী সাব্বিরের জীবননাশের হুমকিতে সর্বক্ষণ তটস্থ থাকছে সাথীর পরিবার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর