× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার

যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পাশাপাশি এশিয়ার অন্য দেশও মহাকাশ প্রতিযোগিতায়

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ২:১১

মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পাশাপাশি এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যেও কৌশলগতভাবে সমানতালে চলছে এ প্রতিযোগিতা। এমনটা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রায় এক দশক আগে রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামে উঠে এসেছিল মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চীনের উত্থানের কথা। ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মহাকাশ প্রতিযোগিতা নিয়ে। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক শুনানিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টম ডিলে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই মূহুর্তে একটি মহাকাশ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ দেশের মানুষ এ স¤পর্কে একেবারেই অবগত নয়। প্রতিনিধি পরিষদের অপর এক সদস্য ফ্রাঙ্ক উলফ একই মত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চীন যদি মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যায়, তাহলে মহাকাশ প্রোগ্রাম আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে।
তারা মূলত মৌলিকভাবে আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। চীনের মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ডিন চ্যাং নিজেদের অবস্থানের বিষয়ে ২০০৭ সালে জানিয়েছিলেন, চীনারা যে সুশৃঙ্খল মহাকাশ প্রোগ্রাম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে,  ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সারা বিশ্বের মানুষ তেমনটি দেখেনি। এবারই প্রথমবারের মতো প্রকৃত মহাকাশ প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের শিরোনাম ছিল, ‘মহাকাশ নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা: চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র’। মহাকাশ নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, একই প্রতিযোগিতা চলছে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যেও।
১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১০৭টি দেশ ‘দ্য ১৯৬৭ আউটার স্পেস ট্রিটি’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। যেখানে বলা হয়, মহাকাশ বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত। সকল দেশ এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু সামরিক ও বেমাসরিক উভয় ক্ষেত্রে মহাকাশ সম্পর্কিত সম্পদের বিবেচ্য মূল্য রয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ সনাক্ত করা হয়। এমন কার্যক্রম থেকে শুরু করে শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্যে এর মূল্যায়ন অপরিসীম। বিশেষ করে স্যাটেলাইটগুলোর অবস্থান ও তা থেকে পাঠানো ডাটার মূল্য অসীম। যেমনটা পাঠিয়ে থাকে ইউএস গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস)। এর পাশাপাশি মহাকাশকে ক্রমবর্ধমানভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে এক যুদ্ধক্ষেত্রের ডোমেইন হিসেবে। বাড়ছে বেসরকারি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ বিষয়ক শিল্প কারখানা। সামরিক ও বেসামরিক কাজে এর ব্যবহারে বাড়ছে মহাকাশে বহুজাতিক প্রতিযোগিতা। ফলে এটা বলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে যে, সামরিক প্রযুক্তি আক্রমণের জন্য নাকি প্রতিরক্ষার উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেহেতু মহাকাশে প্রভাব থাকাকে সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ফলে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধির জন্য সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে। অরবিটাল ইনফরমেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলে যায় সম্ভাবনার দরজা। সামরিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি করে সুবিধা। এ সব সুবিধা ব্যবহার করে সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটা আশ্চর্যজনক  নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও মহাকাশ প্রতিযোগিতায় কোন না কোনভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।       
(দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর