× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

বাংলামোটরে শিশুর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

শেষের পাতা

শুভ্র দেব | ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ১০:২৫

রাজধানীর বাংলামোটরে শিশু সাফায়াতের মৃত্যুর রহস্য কাটছে না। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে নতুন করে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যু কী কারণে হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না পুলিশ ও ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না। আর ফরেনসিক বিভাগ বলছে, হত্যার আলামত এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরে বেশ কিছু স্থানে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে।

হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। অন্যদিকে সাফায়াতের চাচা নুরুল হুদা উজ্জ্বল ও তার ফুফু রোকেয়া বেগম বুধবার ঘটনাস্থলে দাবি করেন নুরুজ্জামান কাজলই সাফায়াতকে হত্যা করেছে।
যদিও কাজল তার ছেলের মৃত্যু বৈদ্যুতিক শকে হয়েছে বলে এলাকাবাসী ও পুলিশকে জানান। কিন্তু কাজলের ভাই উজ্জ্বল গতকাল ঢামেক মর্গে জানিয়েছেন, মাদকাসক্ত ভাইয়ের ওপর রাগ করে ও না বুঝে তিনি এমনটা বলেছিলেন। একই দাবি কাজলের বোন জাহানারা বেগমও করেছেন। আর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আগের দিনের কথা পাল্টে কাজল সাংবাদিকদের বলেছেন, বৈদ্যুতিক শকে নয় ছেলের মৃত্যু হয়েছে ঘুমের মধ্যে।

কারণ তার জ্বর হয়েছিল। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সাফায়াতের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, সাফায়াতের শরীরে কিছু কালো দাগ থাকলেও ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়নি। তার অভ্যন্তরীণ কোনো রক্তক্ষরণও নাই। তবে তার মস্তিষ্ক ফুলে গেছে। লিভারে সমস্যা পাওয়া গেছে। তার রক্ত, ভিসেরা, মস্তিষ্ক, যকৃত ও গলব্লাডার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হিস্টোপ্যাথলজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, শিশুটির যকৃত বড় হয়ে গেছে। সাধারণত ধারাবাহিকভাবে না খেয়ে থাকলে এমন পরিস্থিতি হয়। হত্যার কোনো আলামত আছে কিনা এমন প্রশ্নে সোহেল মাহমুদ বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে ইলেকট্রিক শক বা অন্য কোনো কারণে মাটিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি।

এদিকে ছেলে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালাত। গতকাল তাকে আদালতে তুলে ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক চম্পক চক্রবর্ত্তী। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে সাফায়াতের হত্যার অভিযোগে তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আসামি করে বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন শিশুটির মা মালিহা আক্তার প্রিয়া। ঘটনার দিন রাতেই মামলাটি হয়েছে বলে শাহবাগ থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, আট ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর আমরা ওই শিশুটির মরদেহ ও আরেকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। পরে রাতের বেলা তাদের মা মালিহা আক্তার প্রিয়া আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। আমরা তার অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা রুজু করেছি। তাকে আদালতে পাঠালে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাফায়াতের চাচা নুরুল হুদা উজ্জ্বল বলেন, আমার ভাই নেশা করে এটা ঠিক। কিন্তু তার মানসিক সমস্যা ছিল না। গত কয়েকমাস ধরে তার মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। আনুমানিক তিন মাস ধরে সে আমাদের পরিবারের কারো সঙ্গে ভালো আচরণ করছিল না। আমাদেরকে দেখলেই তার মাথা খারাপ হয়ে যেত। এর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। কাজলের বাড়িটি তার স্ত্রী লিখে নেয়ার জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করে। তিনি বলেন, বাচ্চা দুটিকে সারাদিন বাসায় রেখে দিত কাজল। অর্ধাহারে-অনাহারে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছোট ছেলের লিভারে সমস্যা ছিল। কাজলের বোন জাহানারা বলেন, মিডিয়ায় অনেক ভুলভাল কথা লেখা হচ্ছে। এটা আসলে ঠিক না। প্রকৃত ঘটনা এটা না। কিছুটা সময় অপেক্ষা করলে সব সত্য বের হয়ে আসবে।

এটা অনেক বড় কাহিনী। এদিকে গতকাল আদালতে কাজলের পক্ষে শুনানিতে তার আইনজীবী বলেন, কাজলের বাড়ি তার স্ত্রী মালিহা আক্তার প্রিয়া তার নামে নিতে চেয়েছিলেন। কাজল তার দুটি সন্তানের মধ্য থেকে একটি সন্তানকে নেয়ার জন্য তার স্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি বাধ্য হয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী এসব শুনেননি।

বুধবার বাংলামোটরের লিংক রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে নাটকীয় রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করেন আড়াই বছরের শিশু সাফায়াতের মরদেহ। একই সঙ্গে বাবার হাতে জিম্মি থাকা সুরায়াতকে অক্ষত উদ্ধার করে তাদের বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই দিন সকাল থেকেই লিংক রোডের ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও উৎসুক জনতা। বাড়িটির মালিক নুরুজ্জামান কাজল ভোরে তার স্বজন ও স্থানীয় একটি মাদরাসায় গিয়ে জানান তার ছোট ছেলে বৈদ্যুতিক শকে মারা গেছেন। এরপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়ায় কাজল তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি তার আরেক ছেলেকে হত্যার হুমকি দেন।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাসায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। পরে কৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর