× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকারের অঙ্গীকারের পরিপন্থি’

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ১০:৩১

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে, সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকারের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের পরিপন্থি। আইনটি সব নাগরিকের জন্য প্রতিবন্ধকতা ও সংকীর্ণতা তৈরি করেছে। আইনটি মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের ওপর নজরদারি, প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এবং সংবিধান অনুযায়ী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে এই আইনটি পরিবর্তন , পরিমার্জন, সংশোধন এমনকি প্রয়োজনে বাতিল করে আবার নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে। গতকাল ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপনে টিআইবির সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।
প্রবন্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারাসমূহ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা ডিজিটাল আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রধান বাধা এখন ডিজিটাল আইন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সরকারের স্ববিরোধিতার পরিচায়ক। কারণ জাতিসংঘের যে সনদের উপর ভিত্তি করে আমরা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করছি। তার ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জনগণ, সুশীলসমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রয়াসকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে, এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু এই আইন সে ধরনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে কোনোভাবেই সহায়ক নয়। তাই আইনটি পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এমনকি প্রয়োজনে বাতিল করে হলেও আবার নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।

ডিজিটাল আইনের তীব্র সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্ত্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডিজিটাল আইনে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগে ত্রুটি ধরা পড়ায় পার্বত্য ভূমি আইনে ৫বার সংশোধন আনা হয়েছে। নির্বাচনের পর গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আরো কথা বলে ডিজিটাল আইনেরও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হলো সভ্যতার ভিত্তি। মত প্রকাশ ছাড়া সভ্য সমাজ তৈরি হতে পারে না। মত প্রকাশকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে না। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি বাধা তৈরি হলে গোটা ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আসলে আইন দিয়ে ঠেকানো যায় না। কারো কাছে যদি প্রমাণ থাকে- এই আইন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, যেখানে দুর্নীতি থাকে, সেখানেই দারিদ্র্য থাকে। দুর্নীতিমুক্ত না করে কোনো দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা যায় না। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে গওহর রিজভী বলেন, সমপ্রতি এক ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলে ধর্ষণ করল। তাদের বাড়ির বিয়েতে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গেলেন। এটি সামাজিক দৈন্য।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিবেদন প্রকাশের চ্যালেঞ্জ কি হতে পারে, এসব বিষয় সামনে রেখে আইনটি নিয়ে গবেষণা করে টিআইবি। সেখানে আইনটির ৯টি ধারাই গণমাধ্যমের মত প্রকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সেখানে কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এমনকি সংবাদ প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ডিজিটাল আইন তৈরি করে একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এ আইনের কারণে। আইনটিতে শুধু গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতাই নয়, নাগরিকদের কণ্ঠরোধের প্রয়াস রয়েছে, তাই আইনটি সংশোধনের ওপরে জোর দিয়েছেন টিআইবি চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল।

আলোচনা শেষে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সেরা প্রতিবেদনের জন্য সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মোট চারজনকে পুরস্কৃত করা হয়। আর টেলিভিশনে প্রচারিত দুটি প্রোগ্রামকেও একই সম্মাননা দেয়া হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর